বাংলাদেশে সরীসৃপ (Reptilia) শ্রেণির কাছিম (Testudines) বর্গের মোট ২৯টি প্রজাতি রয়েছে। সাধারণত আমরা এদের কাছিম বা কচ্ছপ নামে ডেকে থাকি। দেশের জীববৈচিত্র্যে এই কাছিম বর্গটি মোট ৫টি পরিবারে বিভক্ত। পরিবারগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- কচ্ছপ (Family: Testudinidae)
- কাইট্টা (Family: Geoemydidae)
- তরুণাস্থি কাছিম (Family: Trionychidae)
- সামুদ্রিক কাছিম (Family: Cheloniidae)
- বড় সামুদ্রিক কাছিম (Family: Dermochelyidae)
সংরক্ষণ ও বর্তমান ঝুঁকি:
বর্তমানে এই ২৯ প্রজাতির প্রতিটি কাছিমই মারাত্মকভাবে বিপন্ন। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে এই কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিমগুলো। বন্যপ্রাণী রক্ষায় দেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এই প্রজাতিগুলো সম্পূর্ণ সংরক্ষিত। নিচে বাংলাদেশে প্রাপ্ত ২৯ প্রজাতির কাছিমের সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো:
বাংলাদেশে প্রাপ্ত ২৯ প্রজাতির কাছিম ও কচ্ছপের সম্পূর্ণ তালিকা
নিচে পরিবার অনুযায়ী বাংলাদেশের সব প্রজাতির কাছিমের বাংলা নাম, ইংরেজি নাম এবং বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হলো:
ক. কচ্ছপ পরিবার (Family: Testudinidae)
| ক্রমিক | বাংলা নাম | ইংরেজি নাম (English Name) | বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name) |
|---|---|---|---|
| 0১ | হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ | Elongated Tortoise | Indotestudo elongata |
| 0২ | এশীয় চিলা কচ্ছপ | Asian Giant Tortoise | Manouria emys |
খ. কাইট্টা পরিবার (Family: Geoemydidae)
| ক্রমিক | বাংলা নাম | ইংরেজি নাম (English Name) | বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name) |
|---|---|---|---|
| 0৩ | বোদো বা বাটাগুড় কাইট্টা | Northern River Terrapin | Batagur baska |
| 0৪ | রঙিলা ছাঁদ কাইট্টা | Painted Roofed Turtle | Batagur dhongoka |
| 0৫ | কড়ি কাইট্টা | Bengal Roofed Turtle | Batagur kachuga |
| 0৬ | মালয়ী ডিবা কাইট্টা | Malayan Box Turtle | Cuora amboinensis |
| 0৭ | এশীয় পাতা কাইট্টা | Asian Leaf Turtle | Cyclemys dentata |
| 0৮ | ওল্ডহ্যামের পাতা কাইট্টা | Oldham’s Leaf Turtle | Cyclemys oldhami |
| 0৯ | দাগি কালো দীঘি কাইট্টা | Spotted Pond Turtle | Geoclemys hamiltonii |
| ১০ | নদীর কালি কাইট্টা | Brahminy River Turtle | Hardella thurjii |
| ১১ | ত্রি-খিলা স্থল কাইট্টা | Tricarinate Hill Turtle | Melanochelys tricarinata |
| ১২ | শামুকভুক কালী কাইট্টা | Snail-eating Turtle | Melanochelys trijuga |
| ১৩ | বাংলা হলদে কাইট্টা | Bengal Yellow Turtle | Morenia petersi |
| ১৪ | বড় কড়ি কাইট্টা | Brown River Turtle | Pangshura smithii |
| ১৫ | সিলেটি কড়ি কাইট্টা | Sylhet Roofed Turtle | Pangshura sylhetensis |
| ১৬ | দেশি কড়ি কাইট্টা | Indian Roofed Turtle | Pangshura tecta |
| ১৭ | মাঝারি তাঁবু কাইট্টা | Tent Turtle | Pangshura tentoria |
গ. তরুণাস্থি কাছিম পরিবার (Family: Trionychidae)
| ক্রমিক | বাংলা নাম | ইংরেজি নাম (English Name) | বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name) |
|---|---|---|---|
| ১৮ | পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিম | Asiatic Softshell Turtle | Amyda cartilaginea |
| ১৯ | গঙ্গা তরুণাস্থি কাছিম | Ganges Softshell Turtle | Aspideretes gangeticus |
| ২০ | ধুম তরুণাস্থি কাছিম | Peacock Softshell Turtle | Aspideretes hurum |
| ২১ | বোস্তামি তরুণাস্থি কাছিম | Bostami Turtle | Aspideretes nigricans |
| ২২ | ছোটমাথা এশীয় চিত্রা তরুণাস্থি কাছিম | Narrow-headed Softshell Turtle | Chitra indica |
| ২৩ | সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম | Spotted Flapshell Turtle | Lissemys punctata |
| ২৪ | এশীয় জাতা তরুণাস্থি কাছিম | Asian Giant Softshell Turtle | Pelochelys cantorii |
ঘ. সামুদ্রিক কাছিম পরিবার (Family: Cheloniidae)
| ক্রমিক | বাংলা নাম | ইংরেজি নাম (English Name) | বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name) |
|---|---|---|---|
| ২৫ | মুগুরমাথা সামুদ্রিক কাছিম | Loggerhead Turtle | Caretta caretta |
| ২৬ | সবুজ সামুদ্রিক কাছিম | Green Turtle | Chelonia mydas |
| ২৭ | বাজঠোঁটি সামুদ্রিক কাছিম | Hawksbill Sea Turtle | Eretmochelys imbricata |
| ২৮ | জলপাইরঙ সামুদ্রিক কাছিম | Olive Ridley Turtle | Lepidochelys olivacea |
ঙ. বড় সামুদ্রিক কাছিম পরিবার (Family: Dermochelyidae)
| ক্রমিক | বাংলা নাম | ইংরেজি নাম (English Name) | বৈজ্ঞানিক নাম (Scientific Name) |
|---|---|---|---|
| ২৯ | বড় সামুদ্রিক চামট কাছিম | Leatherback Sea Turtle | Dermochelys coriacea |
উপসংহার (Conclusion)
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই ২৯ প্রজাতির কাছিম ও কচ্ছপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আবাসন ধ্বংস, নদী দূষণ এবং অবৈধ শিকারের কারণে আজ এদের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর কঠোর প্রয়োগ এবং আমাদের সচেতনতাই পারে এই বিপন্ন প্রাণীদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে। আসুন, প্রকৃতির এই শান্ত ও উপকারী প্রাণীদের বাঁচাতে আমরা সবাই এগিয়ে আসি।
আরো পড়ুন
- বাংলাদেশে কচ্ছপ ও কাছিম সংরক্ষণ: বন বিভাগের উদ্ধার অভিযানের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস (২০১০-২০২৬)
- পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিম: বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এই প্রজাতির অজানা তথ্য
- গঙ্গা তরুণাস্থি কাছিম: খালুয়া কাছিমের বৈশিষ্ট্য, হিংস্র স্বভাব ও প্রজননচক্র
- ত্রি-খিলা স্থল কাইট্টা (Melanochelys tricarinata) পরিচিতি, প্রজনন ও বিস্তার
- হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ: মহাবিপন্ন লম্বা কচ্ছপের বৈশিষ্ট্য, স্বভাব ও বিস্তৃতি
- ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম: উপমহাদেশের বৃহত্তম কাছিমের বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব
- পেলোচেলিস (Pelochelys) কাছিম গণের বৈশিষ্ট্য ও প্রজাতি পরিচিতি
- সুন্দি তরুণাস্থি কাছিম (Lissemys punctata): পরিচিতি, বাসস্থান ও ডিম পাড়ার অদ্ভুত তথ্য
- মুকুটি নদ-কাইট্টা: নদীর কালী কাছিমের বৈশিষ্ট্য, স্বভাব ও বিস্তৃতি
- মেলানোক্লিস (Melanochelys) কচ্ছপ গণের বৈশিষ্ট্য ও প্রজাতি পরিচিতি
- বাণিজ্যিক কচ্ছপ চাষ পদ্ধতি: চীনা নরম খোলস কচ্ছপ চাষের আধুনিক গাইড
- পরিবেশ রক্ষায় কচ্ছপের ভূমিকা এবং বাংলাদেশে কচ্ছপ বিলুপ্তির কারণ
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিমের সম্পূর্ণ তালিকা
- বাটাগুড় বা বোদো কাইট্টা: মহাবিপন্ন কাছিমের বৈশিষ্ট্য ও প্রজননের সফল ইতিহাস
- বাংলাদেশের সরীসৃপ হচ্ছে কচ্ছপ ও সাপসহ অন্যান্য প্রজাতির বিস্তারিত আলোচনা
- বাংলাদেশের উভচর জলজ ও স্থলজ উভয় পরিবেশে বসবাসকারী ৪১ প্রজাতির প্রাণী
তথ্যসূত্র ও টিকা
সম্পাদকীয় বিজ্ঞপ্তি: এই তথ্যবহুল নিবন্ধটি সর্বপ্রথম ১৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে প্রাণকাকলি ব্লগে প্রকাশিত হয়। পরে জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ‘রোদ্দুরে.কম’-এ ২২ জুন ২০১৮ তারিখে পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়েছিল। কন্টেন্টের গুণগত মান, বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা এবং আধুনিক তথ্য বজায় রাখতে আজ ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি নতুন তথ্যসহ পরিমার্জন, আধুনিকীকরণ এবং আপডেট করা হয়েছে।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Frequently Asked Questions)
উত্তর: বাংলাদেশে সরীসৃপ শ্রেণির কাছিম (Testudines) বর্গের মোট ৫টি পরিবারের অধীনে ২৯টি প্রজাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে জলজ, স্থলজ এবং সামুদ্রিক—সব ধরনের কাছিমই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উত্তর: ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্ত সব প্রজাতির কাছিম সংরক্ষিত। এদের অবৈধভাবে শিকার, বিক্রি, পাচার বা ক্ষতি করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
উত্তর: প্রজাতিভেদে এদের খাদ্য তালিকায় ভিন্নতা দেখা যায়। তবে সাধারণত এরা জলজ উদ্ভিদ, শ্যাওলা, ছোট মাছ, কাঁকড়া, শামুক এবং বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ খেয়ে জীবনধারণ করে। এরা জলজ পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।