ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম: উপমহাদেশের বৃহত্তম কাছিমের বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব

ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম বা এশীয় জাতা তরুণাস্থি কাছিম (বৈজ্ঞানিক নাম: Pelochelys cantorii) হলো বাংলাদেশের কচ্ছপ ও কাছিমের তালিকায় থাকা অন্যতম বৃহত্তম ও আকর্ষণীয় একটি প্রজাতি। এটি মূলত নরম খোলসযুক্ত তরুণাস্থি কাছিম (Trionychidae) পরিবারের ‘পেলোচেলিস’ (Pelochelys) গণের অন্তর্ভুক্ত। বিশালাকৃতির এই কাছিমটি তার অদ্ভুত জীবনযাত্রা এবং শিকার কৌশলের জন্য বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণী গবেষকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। তবে দুঃখজনকভাবে, আবাসস্থল ধ্বংস ও অতিরিক্ত শিকারের কারণে বর্তমানে এটি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে বিপন্ন ও সংরক্ষিত একটি বন্যপ্রাণী।

এশীয় জাতা তরুণাস্থি কাছিমের বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস ও পরিচিতি

এশীয় জাতা তরুণাস্থি কাছিম বা ক্যান্টরের জাতা কাছিম মূলত এশিয়ার নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বিখ্যাত প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক ট্যাক্সোনমি এবং পরিচিতির বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

সাধারণ পরিচিতি

  • বাংলা নাম: এশীয় জাতা তরুণাস্থি কাছিম বা জাতা কাছিম।
  • স্থানীয় নাম: ক্যান্টরের জাতা কাছিম।
  • ইংরেজি নাম: Asian Giant Softshell Turtle।
  • বৈজ্ঞানিক নাম: Pelochelys cantorii Gray, 1864।
  • প্রতিনাম বা সমনাম (Synonyms):
    • Pelochelys cumingii Gray, 1864
    • Pelochelys cantoris Boulenger, 1889
    • Pelochelys poljakowii Strauch, 1890
    • Pelochelys cummingii Smith, 1931 (ভুল বানান)
    • Pelochelys cantori Pritchard, 1967 (ভুল বানান)

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস (Scientific Classification)

ধাপ (Rank)নাম (Taxon)
জগৎ (Kingdom)Animalia (প্রাণী)
পর্ব (Phylum)Chordata (মেরুদণ্ডী)
শ্রেণি (Class)Reptilia (সরীসৃপ)
বর্গ (Order)Testudines (কাছিম/কচ্ছপ)
পরিবার (Family)Trionychidae (তরুণাস্থি কাছিম পরিবার)
গণ (Genus)Pelochelys Gray, 1864
প্রজাতি (Species)P. cantorii

🐢 ক্যান্টরের জাতা কাছিমের শারীরিক বর্ণনা ও বৈশিষ্ট্য

ক্যান্টরের জাতা কাছিম বা এশীয় জাতা তরুণাস্থি কাছিম তার বিশালাকৃতি এবং অনন্য কঙ্কালতান্ত্রিক গঠনের জন্য কচ্ছপ জগতের এক অন্যতম বিস্ময়। নিচে এদের শারীরিক কাঠামোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

১. আকৃতি ও ওজনের রেকর্ড

  • উপমহাদেশের বৃহত্তম কাছিম: এটি ভারতীয় উপমহাদেশের মিঠাপানির জলাশয়গুলোতে প্রাপ্ত সমস্ত কাছিমের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়।
  • দৈর্ঘ্য: একটি পূর্ণবয়স্ক জাতা কাছিমের পিঠের শক্ত খোলস বা কৃত্তিকাবর্মের (Carapace) দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার (দেড় মিটার) পর্যন্ত হতে পারে।

২. মাথা ও মুখের গঠন

  • চ্যাপ্টা মাথা: এদের মাথাটি শরীরের তুলনায় বেশ ছোট এবং ওপরের দিক থেকে চ্যাপ্টা আকৃতির হয়।
  • ছোট তুণ্ড: এদের মুখের সামনের অংশ বা তুণ্ড (Snout) এবং প্রবোসিস (Proboscis/নাকের নল) বেশ ছোট এবং গোলাকার প্রকৃতির হয়ে থাকে।

৩. খোলসের গঠন ও গায়ের রং

  • নিচু খোলস: এদের পিঠের নরম খোলস বা কৃত্তিকাবর্মটি বেশ নিচু ও চ্যাপ্টা ধরনের হয়।
  • রং: খোলসের গায়ের রং সাধারণত জলপাই বা বাদামি রঙের হয়ে থাকে এবং এর ওপর হালকা হলুদ রঙের সূক্ষ্ম দাগ বা স্পট দেখা যায়। এদের নিচের নরম অংশ বা বক্ষস্ত্রাণটি (Plastron) সাদাটে রঙের হয়।
  • অপ্রাপ্তবয়স্কদের ত্বক: বাচ্চার বা অপ্রাপ্তবয়স্ক কাছিমের খোলসের ওপর অসংখ্য ছোট ছোট ফুসকুঁড়ি থাকে এবং এদের শিরদাঁড়ার কাঁটাটি বেশ নিচু অবস্থায় থাকে।

৪. কঙ্কাল ও বক্ষস্ত্রাণের জটিল বিন্যাস (Plastron Anatomy)

  • নিউরাল শিল্ডের অবস্থান: এদের খোলসের ১ম জোড়া পাঁজর শিল্ডের (1st Pair of Costal Plates) ঠিক মাঝখান বরাবর নিউরাল শিল্ড অবস্থিত থাকে।
  • সুগঠিত বক্ষকড়া: পূর্ণাঙ্গ বা প্রাপ্তবয়স্ক জাতা কাছিমের নিচের অংশে এপিবক্ষস্ত্রাণ-এর (Epiplastron) সামনের দিকটা ছোট ও প্রশস্ত হয়। এছাড়া এদের বক্ষস্ত্রাণের ত্বকে ৪টি সুগঠিত ও শক্ত বক্ষকড়া (Callosities) স্পষ্ট দেখা যায়।
  • হাড়ের পরিপক্বতা: কচ্ছপটি যখন পূর্ণ বয়সে পৌঁছায়, তখন এর মধ্য-বক্ষস্ত্রাণ (Hyoplastron), অধঃপোবক্ষস্ত্রাণ (Hypoplastron) এবং জিপিপ্লাস্ট্রন (Xiphiplastron) নামক হাড়ের অংশগুলো সম্পূর্ণ সুগঠিত ও পরস্পরের সাথে শক্তভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

ক্যান্টরের জাতা কাছিমের স্বভাব, খাদ্য ও প্রজনন প্রক্রিয়া

ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম বা এশীয় জাতা কাছিমের স্বভাব এবং এদের শিকারের কৌশল কাছিম জগতের অন্যতম এক রহস্যময় বিষয়। নিচে এদের জীবনযাত্রার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

১. স্বভাব ও আবাসস্থল (Habitats)

  • লুকিয়ে থাকার অদ্ভুত কৌশল: এই কাছিমটি অত্যন্ত অলস এবং ধীরগতির প্রকৃতির। এরা নদী বা উপকূলের তলদেশের বালু বা কাদার নিচে নিজের পুরো শরীর ডুবিয়ে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। শুধু চোখ ও নাকের ডগাটি বালুর ওপরে উঁচিয়ে রাখে। যখনই কোনো শিকার এর মুখের সামনে দিয়ে যায়, এরা চোখের পলকে তা ধরে ফেলে।
  • বিচরণ ক্ষেত্র: এরা মূলত গভীর স্বাদুপানির (মিঠাপানি) বড় বড় নদী ও জলাশয়ে বাস করে। তবে এদের নোনা পানির সহ্যক্ষমতা থাকায় এরা স্বাধীনভাবে উপকূলীয় এলাকা, নদীর মোহনা এবং সমুদ্রের কাছাকাছি জোয়ার-ভাটার অঞ্চলেও বিচরণ করতে পারে।
  • শান্ত প্রকৃতি: বিশালাকৃতির এই কাছিমটি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং সহজেই মানুষের পোষ মানে। এরা সাধারণত কাউকেই কামড়ায় না বা কোনো ক্ষতি করে না।

২. খাদ্য তালিকা (Diet)

জাতা কাছিম মূলত সর্বভুক এবং মাংসাশী প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের প্রধান খাবারের মধ্যে রয়েছে:

  • ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের মাছ।
  • জলজ চিংড়ি এবং কাঁকড়া।
  • মোলাস্কা বা জলজ শামুক-ঝিনুক জাতীয় প্রাণী।
  • মাঝে মাঝে এরা পুষ্টির জন্য বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ বা শ্যাওলাও খেয়ে থাকে।

৩. ডিম পাড়া ও প্রজনন চক্র (Breeding)

  • একাধিক বাসা তৈরি: এদের প্রজনন মৌসুম শুরু হয় শীতকালে, বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে। স্ত্রী কাছিম ডিম পাড়ার জন্য নদীর বালুচরে গভীর গর্ত করে একটির বেশি বা একাধিক বাসা (Nest) তৈরি করে।
  • ডিমের সংখ্যা: এরা প্রতি প্রজনন ঋতুতে একেকটি গুচ্ছে বা বাসায় সাধারণত ২০ থেকে ২৮টি পর্যন্ত গোল গোল ডিম পেড়ে থাকে।

ক্যান্টরের জাতা কাছিমের ভৌগোলিক বিস্তার (Geographical Distribution)

ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম মূলত দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বিখ্যাত ও আদি জলজ প্রাণী। নিচে এদের মূল বিচরণক্ষেত্রগুলো আলোচনা করা হলো:

  • বাংলাদেশের বিস্তৃতি: বাংলাদেশে এই বিশালাকৃতির কাছিমটি মূলত দেশের বড় বড় গভীর নদী (যেমন: পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর অববাহিকা) এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন জোয়ার-ভাটার নদী ও উপকূলীয় মোহনায় প্রাকৃতিকভাবে বসবাস করে। তবে বর্তমানে বন্য পরিবেশে এদের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল।
  • আন্তর্জাতিক বিস্তার: বাংলাদেশের বাইরে এই প্রজাতিটি এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে বিস্তৃত। এটি প্রাকৃতিকভাবে ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, পেনিনসুলা মালয়েশিয়া, বোর্নিও দ্বীপ, ভিয়েতনাম এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন উপকূলীয় ও গভীর নদী অববাহিকায় পাওয়া যায়।

জাতা কাছিমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বিলুপ্তির হুমকি

ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম দেশের জলজ প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মানুষের অতি-আহরণের কারণে এই বিশালাকৃতির প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।

  • মাংস ও ডিমের জন্য অতিরিক্ত শিকার: এই জাতা কাছিমের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর হওয়ার কারণে অতীতে জেলে ও স্থানীয় শিকারিরা এদের প্রচুর পরিমাণে আহরণ (শিকার) করত। এছাড়া নদীর বালুচরে এদের পাড়া বড় বড় ডিমগুলোও মানুষ খাদ্য হিসেবে সংগ্রহ করে ফেলত। এই অতিরিক্ত শিকারের ফলেই বন্য পরিবেশে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
  • বাণিজ্যিক শিকারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা: কচ্ছপটির এই চরম বিপর্যয় রোধ করতে বাংলাদেশ সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুসারে বর্তমানে বন্য পরিবেশ থেকে এই জাতা কাছিম ধরা, মারা, শিকার করা বা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে জাতা কাছিমের বর্তমান অবস্থা

ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম বা এশীয় জাতা কাছিম বর্তমানে আমাদের দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিলুপ্তপ্রায় জলজ প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম [১, ২]।

  • বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতি: ‘বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ’-এর ২৫তম খণ্ডের বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ বা আইইউসিএন (IUCN, 2008)-এর লাল তালিকায় বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতির কাছিমকে ‘বিপন্ন’ (Endangered) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
  • বাংলাদেশে মহাবিপন্ন (Critically Endangered): বিশ্বজুড়ে এদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট আরও ভয়াবহ [২]। আইইউসিএন বাংলাদেশের (IUCN-Bangladesh, 2000) তথ্যমতে, আমাদের বাংলাদেশে জাতা কাছিম ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered) প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। বন্য পরিবেশ থেকে এদের ডিম চুরি, অতিরিক্ত শিকার এবং নদীর গভীরতা কমে যাওয়ার কারণে এ দেশ থেকে এই বিশালাকৃতির কচ্ছপটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।

📝 উপসংহার (Conclusion)

পরিশেষে বলা যায়, ক্যান্টরের জাতা তরুণাস্থি কাছিম বা এশীয় জাতা কাছিম আমাদের গভীর নদী ও সুন্দরবনের জলজ বাস্তুতন্ত্রের এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। দেড় মিটার দীর্ঘ এই বিশালাকৃতির শান্ত প্রাণীটি বালুর নিচে ওত পেতে শিকার করার এক অদ্ভুত কৌশল ধারণ করে। তবে মানুষের অতিরিক্ত লোভ, সুস্বাদু মাংস ও ডিমের জন্য নির্বিচারে শিকারের কারণে এটি আজ বিপন্ন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২-এর কঠোর প্রয়োগ এবং নদীগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমেই কেবল এই প্রাচীন ও বিশালাকৃতির কাছিমটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

আরো পড়ুন

📚 তথ্যসূত্র ও টীকা (References)

১. বইয়ের সূত্র: সুপ্রিয় চাকমা, মোনাওয়ার আহমাদ ও আবু তৈয়ব আবু আহমদ সম্পাদিত; উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ, বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ, খণ্ড ২৫, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, প্রথম প্রকাশ: জুন ২০১১, পৃষ্ঠা: ৭৫।

পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Frequently Asked Questions)

১. ক্যান্টরের জাতা কাছিম আকারে কত বড় হতে পারে?

উত্তর: ক্যান্টরের জাতা কাছিম ভারতীয় উপমহাদেশের মিঠাপানির কাছিমগুলোর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়। একটি পূর্ণবয়স্ক জাতা কাছিমের পিঠের নরম খোলস বা কৃত্তিকাবর্মের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার (দেড় মিটার) পর্যন্ত হতে পারে।

২. জাতা কাছিমের বালুর নিচে লুকিয়ে থাকার অদ্ভুত স্বভাবটি কী?

উত্তর: এই কাছিমটি অত্যন্ত অলস প্রকৃতির। এরা নদী বা উপকূলের তলদেশের বালু বা কাদার নিচে নিজের পুরো শরীর ডুবিয়ে লুকিয়ে থাকে; শুধু চোখ ও নাকের ডগাটি বালুর ওপরে উঁচিয়ে রাখে। যখনই কোনো মাছ বা কাঁকড়া এর মুখের সামনে দিয়ে যায়, এরা চোখের পলকে তা কামড়ে ধরে ফেলে।

৩. ক্যান্টরের জাতা কাছিম প্রধানত কী খাবার খায়?

উত্তর: এরা মূলত সর্বভুক এবং মাংসাশী প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের প্রধান খাবারের মধ্যে রয়েছে ছোট-বড় মাছ, জলজ চিংড়ি, কাঁকড়া, মোলাস্কা বা জলজ শামুক-ঝিনুক এবং বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ বা শ্যাওলা।

৪. বাংলাদেশে জাতা কাছিম প্রাকৃতিকভাবে কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর: বাংলাদেশে এই বিশালাকৃতির কাছিমটি মূলত দেশের বড় বড় গভীর নদী (যেমন: পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর অববাহিকা) এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন জোয়ার-ভাটার নদী ও উপকূলীয় মোহনায় প্রাকৃতিকভাবে বসবাস করে।

৫. বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশে জাতা কাছিমের বর্তমান সংরক্ষণ অবস্থা কী?

উত্তর: ‘বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ’-এর বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী আইইউসিএন (IUCN)-এর লাল তালিকায় এই জাতা কাছিমটি ‘বিপন্ন’ (Endangered) হিসেবে চিহ্নিত। তবে আমাদের বাংলাদেশে এটি অত্যন্ত বিরল হওয়ায় একে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered) বন্যপ্রাণী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!