ভূমিকা: চীনা বিষকচু (বৈজ্ঞানিক নাম: Alocasia cucullata) অরণ্যে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ। বাংলাদেশে এই কচু পাওয়া যায় এবং আদিবাসীরা ভেষজ ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করে।
| বৈশিষ্ট্য [1] | বিবরণ |
|---|---|
| স্থানীয় নাম | চীনা বিষকচু |
| ইংরেজি নাম | চাইনিজ টারো (Chinese Taro) |
| বৈজ্ঞানিক নাম | Alocasia cucullata (Lour.) G. Don |
| পরিবার (Family) | Araceae (কচু পরিবার) |
| জগৎ (Kingdom) | Plantae (উদ্ভিদ জগৎ) |
| বর্গ (Order) | Alismatales |
| ক্রোমোসোম সংখ্যা | 2n = 28 |
চীনা বিষকচু-এর বর্ণনা:
আমাদের চারপাশের সবুজ প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে রয়েছে নানা বিস্ময়কর উদ্ভিদ। তেমনই এক অনন্য ও আকর্ষণীয় সৃষ্টি হলো এই চিরহরিৎ বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদটি। চমৎকার গঠনশৈলী এবং নজরকাড়া রূপের কারণে উদ্ভিদজগতে এটি বেশ সুপরিচিত। যারা বাগান করতে ভালোবাসেন কিংবা প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেন, তাদের কাছে এই উদ্ভিদের গুরুত্ব অপরিসীম। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই উদ্ভিদের কিছু দারুণ বৈশিষ্ট্য।
কাঠামোগত গঠন ও কাণ্ডের বৈশিষ্ট্য
এই উদ্ভিদের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ঋজু বা সোজা এবং সুস্পষ্ট বায়বীয় কাণ্ড। দূর থেকে দেখলেই এর চমৎকার গঠন সহজেই যে কারও নজর কাড়ে।
- উচ্চতা: সাধারণত এই উদ্ভিদের কাণ্ড ৫০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।
- প্রস্থ: কাণ্ডটি প্রায় ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চড়াও হতে পারে।
- মাটির সাথে সংযোগ: উদ্ভিদের কাণ্ডটি একটি শক্তিশালী ভূমি বক্রধাবক (Stolon)-এর মাধ্যমে মাটির সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। ফলে এটি মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সহজেই শোষণ করতে পারে।
পাতার সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য
এই চিরহরিৎ উদ্ভিদের অন্যতম মূল সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে এর সতেজ সবুজ পাতার মাঝে। এর পাতার গঠন ও বিন্যাস সত্যিই দেখার মতো।
- লম্বা বৃন্ত: প্রতিটি পাতার বৃন্ত বা বোঁটা প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
- কাণ্ডের বেষ্টনী: পাতার এই বৃন্তের প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার অংশ উদ্ভিদের মূল কাণ্ডটিকে খুব চমৎকারভাবে জড়িয়ে বা বেষ্টন করে রাখে।
- পাতার আকৃতি ও রঙ: এর পত্রফলকগুলো দেখতে ডিম্ব-তাম্বুলকার (ডিম্বাকৃতি ও পানের পাতার মতো মিশ্রণ) হয়ে থাকে। পাতার উপরিভাগ গাঢ় ও সতেজ সবুজ হলেও, এর নিচের অংশটি কিছুটা ফ্যাকাশে সবুজ বর্ণের হয়। রঙের এই দ্বৈততা উদ্ভিদটিকে একটি ভিন্নধর্মী ও দৃষ্টিনন্দন রূপ দান করে।
পুষ্পবিন্যাস ও ফুটার রহস্য
শুধু পাতাই নয়, এই উদ্ভিদের ফুল ফোটার প্রক্রিয়া এবং এর পুষ্পবিন্যাসও বেশ বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়।
- মঞ্জরীদন্ড: উদ্ভিদের কাক্ষিক মঞ্জরীদন্ডটি বেশ দীর্ঘ, যা প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
- স্পেডিক্স ও পুষ্পফলক: এর রয়েছে একটি নৌকাকৃতির সুন্দর পুষ্পফলক (Spathe)। এই ফলকটি ১২ সেন্টিমিটার দীর্ঘ একটি ধবধবে সাদা রঙের স্পেডিক্সকে (Spadix) আগলে রাখে, যা উদ্ভিদের নান্দনিকতা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
ফল ও বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া
প্রকৃতির নিয়মে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই উদ্ভিদটি ফল উৎপাদন করে। বংশবৃদ্ধির এই ধাপে এতে ছোট ছোট গোলগাল ফল দেখা যায়।
- ফলের ধরণ: বিজ্ঞানীদের মতে, এটি এক ধরণের ‘বেরি’ (Berry) জাতীয় ফল।
- আকার: ফলগুলো অর্ধবর্তুলাকার এবং এর ব্যাস সাধারণত ৬ থেকে ৮ মিলিমিটার হয়ে থাকে।
- বীজের গঠন: প্রতিটি ফলের ভেতরে একটি করে ডিম্বক বা বীজ থাকে, যা থেকে পরবর্তীতে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়।
বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
সাধারণ মানুষের কাছে এটি কেবল একটি সুন্দর উদ্ভিদ হলেও, উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছে এর রয়েছে আলাদা বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব। বিভিন্ন আধুনিক গবেষণাগারে এই উদ্ভিদের কোষ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই উদ্ভিদের ক্রোমোসোম সংখ্যা হচ্ছে ২n=২৮। এর এই নির্দিষ্ট ক্রোমোসোম সংখ্যা উদ্ভিদবিদদের কাছে এর জিনগত গঠন ও শ্রেণীবিন্যাস বুঝতে অত্যন্ত সাহায্য করে।
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:
যেকোনো উদ্ভিদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য তার চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই চিরহরিৎ উদ্ভিদটির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট ধরণের জলবায়ু ও পরিবেশ পছন্দ করে।
- ছায়াপ্রিয় প্রকৃতি: এই উদ্ভিদটি সরাসরি কড়া রোদ বা তীব্র সূর্যালোক সহ্য করতে পারে না। তাই এটি প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা ছায়াযুক্ত স্থান পছন্দ করে।
- আর্দ্রতা ও মাটি: আর্দ্র এবং সেঁতসেঁতে পরিবেশ এই উদ্ভিদের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। মাটির ভেজা ভাব এবং বাতাসে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে এই উদ্ভিদ খুব সতেজ থাকে।
- যেখানে এদের বেশি দেখা যায়: সাধারণত গভীর অরণ্যের বড় বড় গাছের নিচের ছায়াঘেরা অঞ্চল, পাহাড়ি উপত্যকা কিংবা গ্রামীণ অঞ্চলের ঝোপঝাড় ও স্যাঁতসেঁতে ভিটেমাটিতে এদের সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে দেখা যায়।
ফুল ও ফল ধরার উপযুক্ত সময় (Seasonality)
বছরের সব ঋতুতে এই উদ্ভিদে ফুল বা ফল দেখা যায় না। এর জীবনচক্রে ফুল ফোটার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বা মৌসুম রয়েছে।
- উপযুক্ত মৌসুম: মে থেকে জুলাই মাস—এই ৩ মাস হলো এই উদ্ভিদের ফুল ও ফল ধরার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
- প্রকৃতির প্রভাব: গ্রীষ্মের শেষের দিক থেকে শুরু করে বর্ষাকালের এই সময়ে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বেশি থাকে। এই উপযুক্ত জলবায়ুর কারণেই উদ্ভিদটি এই সময়ে তার বৈচিত্র্যময় নৌকাকৃতির পুষ্পফলক ও সাদা স্পেডিক্স ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তা থেকে বেরি জাতীয় ফল উৎপাদন করে।
বংশবিস্তার ও প্রজনন প্রক্রিয়া
প্রকৃতির বুকে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং বংশবৃদ্ধি করতে এই উদ্ভিদটি মূলত দুটি ভিন্ন ও কার্যকর উপায় অবলম্বন করে থাকে। প্রজনন বিজ্ঞানের ভাষায় এর বংশবিস্তার পদ্ধতি বেশ সহজ এবং সফল।
১. বীজের মাধ্যমে প্রজনন (Sexual Reproduction): মে থেকে জুলাই মাসে গাছে যে অর্ধবর্তুলাকার বেরি জাতীয় ফল তৈরি হয়, তার ভেতরের ডিম্বক বা বীজটি পরিপক্ব হওয়ার পর তা মাটিতে পড়ে। অনুকূল পরিবেশ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও আর্দ্রতা পেলে সেই বীজ থেকে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন চারা গাছের জন্ম হয়।
২. কন্দের মাধ্যমে বংশবিস্তার (Vegetative Propagation): বীজ ছাড়াও এই উদ্ভিদটি তার মাটির নিচে থাকা রাইজোম বা কন্দের (Bulb/Corm) মাধ্যমে খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। উদ্ভিদের এই কন্দ বা ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড থেকে নতুন চোখ বা কুঁড়ি বের হয়, যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদে রূপ নেয়। মূলত এই কন্দ বা রাইজোম বিভাজনের মাধ্যমেই খুব সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এই উদ্ভিদের চাষ বা বিস্তার ঘটানো সম্ভব।
বিস্তৃতি:
ভৌগোলিক দিক থেকে বিচার করলে এই চিরহরিৎ উদ্ভিদটি একটি নির্দিষ্ট জলবায়ু অঞ্চলের নিজস্ব সম্পদ। এটি মূলত উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সবচেয়ে ভালো জন্মে।
- প্রধান অঞ্চল: বৈশ্বিক মানচিত্রে এই উদ্ভিদটির মূল আবাসস্থল হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (Southeast Asia)। এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভৌগোলিক পরিবেশ, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং ঘন অরণ্য এই উদ্ভিদের প্রাকৃতিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য একদম আদর্শ।
- পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার এবং এশিয়ার অন্যান্য উপ-ক্রান্তীয় (Subtropical) অঞ্চলেও এর চমৎকার বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যায়। এসব অঞ্চলের বনাঞ্চলে এই উদ্ভিদটি প্রাকৃতিকভাবেই বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে।
বাংলাদেশে এই উদ্ভিদের উপস্থিতি ও পরিচিতি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসেবে আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশে এই উদ্ভিদটির একটি দারুণ ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক মেলবন্ধন রয়েছে। বাংলাদেশ চিরসবুজের দেশ হওয়ায় এখানে এই উদ্ভিদের জন্য চমৎকার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান।
বনাঞ্চলে বিস্তৃতি: আমাদের দেশের চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বনাঞ্চল যেমন—সিলেটের রেইনফরেস্ট, চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চল এবং মধুপুরের শালবনে এই বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদটি প্রাকৃতিকভাবেই বনের নিচের স্তরে (Understory vegetation) এক সবুজ চাদর তৈরি করে রাখে।
সর্বত্র উপস্থিতি: বাংলাদেশে এই উদ্ভিদটি অত্যন্ত সুপরিচিত। দেশের জলবায়ু আর্দ্র হওয়ায় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—প্রায় সব জেলাতেই একে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতে দেখা যায়।
গ্রামীণ জনপদে বিস্তার: বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের ঝোপঝাড়, পুরনো পুকুর পাড়, ছায়াঘেরা বাগানের কোণ কিংবা পরিত্যক্ত স্যাঁতসেঁতে ভিটেমাটিতে কোনো রকম যত্ন ছাড়াই এটি আপন মহিমায় বেড়ে ওঠে।
জাতিতাত্বিক ব্যবহার:
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রসারের বহু আগে থেকেই মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ঐতিহ্যগত চিকিৎসা এবং জাতিতাত্ত্বিক (Ethnobotanical) ব্যবহারে এই চিরহরিৎ উদ্ভিদটির গুরুত্ব অপরিসীম। যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এই উদ্ভিদটিকে ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে আসছে, যা আজ লোকজ সংস্কৃতির একটি বড় অংশ।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত ভেষজ
বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন আদিবাসী বা নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কাছে এই গাছটি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও বিশ্বাসের ভেষজ হিসেবে পরিচিত।
- প্রথাগত জ্ঞান: আদিবাসীরা বনাঞ্চলে বাস করার কারণে প্রকৃতির ভেষজ গুণাগুণ সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রথাগত জ্ঞান ধারণ করেন।
- প্রস্তুত প্রণালী: তারা দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যার সমাধানে এই গাছটিকে প্রথাগত ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এর ব্যবহারের প্রধান পদ্ধতি হলো—উদ্ভিদটিকে জঙ্গল থেকে তাজা সংগ্রহ করে প্রথমে ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়। এরপর এটিকে শিল-পাটায় বা অন্য উপায়ে চূর্ণ করে একটি ঘন মিশ্রণ, পেস্ট বা লেই তৈরি করা হয়।
প্রধান প্রধান নিরাময় ক্ষেত্র ও বাহ্যিক ব্যবহার
আদিবাসী ও গ্রামবাংলার লোকজ চিকিৎসায় এই তৈরিকৃত ভেষজ লেইটি মূলত বাহ্যিক চিকিৎসার (External Application) জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি খাওয়ার চেয়ে শরীরের ত্বকের ওপর প্রলেপ হিসেবে বেশি কার্যকরী। এর প্রধান ব্যবহারগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- সাপের কামড়ের প্রাথমিক চিকিৎসা: লোকজ চিকিৎসায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, বিষধর সাপের কামড়ের স্থানে এই উদ্ভিদের তাজা লেই প্রলেপ হিসেবে দ্রুত লাগিয়ে দিলে তা বিষের প্রকোপ বা তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। গ্রামীণ অঞ্চলে সাপুড়ে বা ওঝারা অনেক সময় এটিকে প্রাথমিক প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করেন।
- ফোড়া নিরাময়ে: শরীরে কোনো স্থানে শক্ত বা যন্ত্রণাদায়ক ফোড়া হলে এই ভেষজ প্রলেপটি ব্যবহার করা হয়। এটি ফোড়ার ভেতরের পুঁজ দ্রুত গলিয়ে বের করতে বা ফোড়া ফাটাতে সাহায্য করে।
- বাতের ব্যথা উপশম: দীর্ঘমেয়াদী বাতের ব্যথা (Rheumatism) এবং হাড়ের সন্ধিবাত (Joint Pain) জনিত তীব্র সমস্যায় এই প্রলেপটি আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ বা লেপে দেওয়া হয়। এটি ব্যথানাশক হিসেবে দারুণ কাজ করে বলে স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন।
এটি কেবল প্রাচীন কাল্পনিক বিশ্বাস নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের কাছেও এটি একটি পরীক্ষিত ঘরোয়া নিরাময় পদ্ধতি হিসেবে আজও টিকে আছে।
অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১১ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) চীনা বিষকচু প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে চীনা বিষকচু সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।
আরো পড়ুন:
- বচ-এর বিস্ময়কর ওষুধি গুণাগুণ: স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও রোগ নিরাময়ে প্রকৃতির এক অনন্য দান
- রসুনের উপকারিতা ও সেবন পদ্ধতি: সুস্থ হার্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সেরা উপায়
- খাড়া বিষকচু কি? জানুন বিরল এই পাহাড়ি উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য ও বিস্তৃতি
- চীনা বিষকচু প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়: চিরহরিৎ বীরুৎ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, বিস্তৃতি ও ভেষজ গুণাগুণ
- লম্বা ফানকচু: বিরল এই উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, আবাসস্থল ও ভেষজ গুণাগুণ
- কেতুরী হলদি দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ায় জন্মানো কন্দ প্রজাতি
- শঠি বা শটি কন্দের নানাবিধি ভেষজ গুণাগুণের বিবরণ
- সটি বা ফইল্লা দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- হলুদ বাংলাদেশে জন্মানো জনপ্রিয় ও ভেষজ গুণসম্পন্ন মসলা
- কালা হলদি পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- আমাদা বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ভেষজ কন্দজ প্রজাতি
- কচু বাংলাদেশে জন্মানো জনপ্রিয় ও সহজলভ্য ভেষজ সবজি
- গাং কনুর বাংলাদেশে জন্মানো বহুবর্ষজীবী কন্দ বীরুৎ
- বিষ কনুর বাংলাদেশে পাহাড়ীঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- দেশি কনুর ভেষজ গুণসম্পন্ন বাহারি বিরুৎ প্রজাতি
- ওল কচু দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষজীবী ভেষজ কন্দজাতীয় গুল্ম
- কলাবতী জলাশয়ের পাশে জন্মানো কন্দজাতীয় বিরুৎ
- বিট লোহা আর ফসফরাস সমৃদ্ধ ভেষজ গুণ সম্পন্ন সবজি
- মিষ্টি আলু নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে লতান বীরুৎ
- আদা হচ্ছে জিঞ্জিবার গণের ছোট কন্দজ ঔষধি বীরুৎ
- কেও বা কেঁউ গাছ: প্রকৃতিতে এক দৃষ্টিনন্দন ভেষজ ভাণ্ডার ও তার বহুমুখী ব্যবহার
- মুলা বা মুলোর সবজির পনেরটি ভেষজ উপকারিতা
- ওল বা ওলকচু খাওয়ার ষোলটি ভেষজ গুণাগুণ ও উপকারিতা
তথ্যসূত্র ও টিকা:
১. হোসনে আরা (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৮-২৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
২. এই নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ০২ মার্চ ২০২১ তারিখে এবং সর্বশেষ তথ্যসহ এটি ২১ জুন ২০২৬ তারিখে আপডেট করা হয়েছে।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: David J. Stang
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।