পাখি বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ: প্রকৃতির প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আকুল আহ্বান

বাংলাদেশের পাখি (Birds of Bangladesh) বলতে মূলত আমাদের দেশের সীমানার ভেতরে দেখতে পাওয়া সেইসব পাখিকে বোঝায়, যাদের অস্তিত্বের সুনির্দিষ্ট এবং দালিলিক প্রমাণ বিজ্ঞানীদের কাছে রয়েছে। এই পাখিরা কেবল আকাশের সৌন্দর্যই নয়, বরং এদেরকে বাংলাদেশের প্রকৃতির আসল প্রাণ ও অলঙ্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের চারপাশের সবুজ পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের সবাইকে অবিরাম ও ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

পাখিদের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিস্তৃতির দিকে তাকালে এক বিশাল সংখ্যার দেখা মেলে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে পাখির প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১০,০৬৪টি। এর মধ্যে কেবল আমাদের এই সমৃদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশেই ডানা মেলে প্রায় ১,২০০ প্রজাতির অনন্য সুন্দর পাখি। নদীমাতৃক এবং চিরসবুজ আমাদের এই বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয়শত প্রজাতির পাখির স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে, যা আমাদের প্রকৃতির সমৃদ্ধির প্রমাণ দেয়। তবে উদ্ভিদ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের অনুমান, অতীতে এই সুজলা-সুফলা বাংলায় পাখির সংখ্যা আরও অনেক বেশি ছিল এবং একসময় এ দেশে প্রায় ৮০০ প্রজাতির পাখির বিচরণ ছিল। জলবায়ুর পরিবর্তন এবং বনাঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে আজ অনেক প্রজাতির পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে।

বাংলাদেশে অতীতে যেসব পাখির বিচরণ ছিলো, তার মধ্যে অন্যতম একটি অনন্য প্রজাতির নাম হচ্ছে গোলাপি হাঁস (Pink-headed duck)। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই সুন্দর পাখিটি আজ চিরতরে পুরো পৃথিবী থেকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়া আরও ২৯ প্রজাতির পাখি অতীতে আমাদের বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যেতো, যা এখন আর এদেশে নেই। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই পাখিগুলো পৃথিবী থেকে একেবারে বিলুপ্ত হয়নি, বরং অন্যান্য দেশের প্রকৃতিতে এখনও সুন্দরভাবে টিকে আছে।

এই ২৯ প্রজাতির পাখি যে অতীতে নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের বুকে ছিলো সেকথা দালিলিক প্রমাণসহ সবার জানা আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরায়ণের ফলে তাদের উপযুক্ত ও নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাস অনেক ক্ষেত্রেই এদেশে এখন আর অবশিষ্ট নেই। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া এমন মোট ৩০টি বিলুপ্ত পাখির প্রজাতির কথা বিখ্যাত ‘বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।[১]

অন্যদিকে, অবশিষ্ট ৬২৬ প্রজাতির পাখি সাম্প্রতিককালে এদেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল, নদী ও হাওর এলাকায় দেখা গেছে। এছাড়াও আমাদের দেশের একঝাঁক তরুণ ও অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকগণ মাঝেমধ্যেই বনের গভীরে বা চরাঞ্চলে নতুন নতুন প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি দেখার রোমাঞ্চকর তথ্য দিয়ে থাকেন।[২]

সুন্দর এই পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে পাখি। এই পাখিরা আমাদের রূপসী বাংলাদেশের রূপ ও প্রকৃতির অপরূপ এক উপাদান। বর্তমান সময়ে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সারা পৃথিবীতেই বিপন্ন পাখি রক্ষার জন্য সব স্তরের মানুষের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা সাধারণ জনগণকে সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, যেকোনো অঞ্চলের পরিবেশের সুস্থতার প্রধান ও অন্যতম সূচক হলো পাখি।

কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে যদি ক্রমাগত পাখির পরিমাণ কমতে থাকে, তবে বুঝতে হবে যে সে অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আমাদের বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পাখি বিশেষজ্ঞগণও দেশের বনাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলে পাখির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবার কথা বহু বছর ধরেই সতর্ক করে বলছেন। দেশে দ্রুত দূষণ বাড়ছে এবং এর ফলে পাখির সংখ্যা কমছে—এটি এখন সচেতন কৃষক, পরিবেশবিদ, পরিবেশকর্মী, পাখি পর্যবেক্ষক এবং নিবেদিতপ্রাণ বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীগণও খুব ভালোভাবে জানেন এবং মনেপ্রাণে মানেন।

নানাবিধ মানবসৃষ্ট কারণে আজ পুরো পৃথিবীতেই পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশেও দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি কমছে অতি দ্রুতগতিতে। মূলত অসচেতন মানুষের অপরিকল্পিত নানাবিধ কর্মকাণ্ডের কারণেই দিন দিন উজাড় হচ্ছে সবুজ বনভূমি এবং ভরাট হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাভূমি। এভাবে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্রগুলো প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছে মানুষ। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, দ্রুত শিল্পায়ন, কৃষিজমির অতিরিক্ত আগ্রাসন, মানুষের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি দখল, নদীতে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে চর জাগানো, খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে অনিয়মিত পর্যটনের প্রসারের কারণে পাখির চিরচেনা আবাসভূমি চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য বিশ্বের সাগর, মহাসাগর, নদী, পাহাড়, গভীর বনভূমি ও সমতলভূমি সর্বত্রই এখন চলছে শক্তিশালী বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন। এছাড়া ফসলের ভালো ফলনের আশায় কৃষিজমিতে অবাধে দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার, বিষাক্ত কীটনাশক, বালাইনাশক ও রাসায়নিক আগাছানাশক। এসব মারাত্মক উপাদান পাখির এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে সরাসরি মিশছে এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খলে চরম ভারসাম্য বিনষ্ট করছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড ক্ষতিকর কীটনাশক ছিটানো হয়। এর ফলে শুধুমাত্র উত্তর আমেরিকাতেই প্রতিবছরে প্রায় সাত-আট কোটি পাখি বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে অকালে মারা যায়।[৩] এমনকি আমাদের দেশেও পরবর্তী মৌসুমের জন্য বীজ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বীজে তীব্র কীটনাশক মিশিয়ে রাখা হয়, আর অসাবধানতাবশত সেই বিষাক্ত বীজ খেয়েও ঝাঁকে ঝাঁকে মারা যায় নিরীহ পাখি।

আমাদের দেশের অভিজ্ঞ পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই সতর্ক করে বলছেন যে, প্রকৃতিতে পাখি এবং মাছের জীবন একে অপরের উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েই বলছেন যে, শীতকালে আসা পরিযায়ী পাখি—যেগুলোকে আমাদের বাংলাদেশে সচরাচর অতিথি পাখিও বলা হয়—তার বেশিরভাগই মূলত বিভিন্ন জলাভূমির পাখি। আর এই জলাভূমির প্রয়োজনীয় পাখি যদি প্রকৃতিতে না থাকে, তবে নদী-নালার মাছও একদিন থাকবে না।

ব্যাপারটি কীভাবে ঘটবে তা আমরা একটু গভীরভাবে খেয়াল করলেই বুঝতে পারব। জলজ পাখির পুষ্টিকর বিষ্ঠা বা মল কিছু কিছু মাছ সরাসরি অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। আর এজন্যই আমরা সচরাচর দেখি যে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা মাছের খামারিরা বাজার থেকে হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা টাকা দিয়ে কিনে বস্তার বস্তা এনে মাছের পুকুরে সরাসরি প্রয়োগ করেন। আর গৃহপালিত হাঁস-মুরগিও যে এক ধরণের পাখি, তা তো আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

সব ধরনের পাখি শিকার নিষেধ

তাছাড়া পাখির বিষ্ঠা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি পরোক্ষভাবেও জলাশয়ের মাছের খাবারের প্রধান যোগান দেয়। পাখির এই বিষ্ঠা জলজ উদ্ভিদের ডালপালায় বা নিচের কাদায় কয়েকদিন জমে থাকলে, সেই বিষ্ঠার চারপাশে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে প্লাংকটন (এক ধরণের অতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও কণা) জন্মে। এই প্লাংকটন হলো মাছের ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং অপরিহার্য খাবার, যা ছাড়া কোনো মাছ ও জলজ প্রাণীই সঠিকভাবে বৃদ্ধি পায় না। মূলত এই প্লাংকটনই মাছের শরীরের প্রধান পুষ্টি যোগায়, আর তাই সহজ কথায় বলা হয় যে জলজ পাখি ছাড়া জলাশয়ে মাছও থাকবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে যে কয়েক প্রজাতির দেশীয় মাছ ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আরও প্রায় ৬০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, তা কিন্তু পাখির দ্বারা মাছ খেয়ে ফেলার কারণে ঘটেনি। আসলে আমাদের দেশের মুক্ত জলাশয়ের মাছ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে মানুষের চরম অদূরদর্শিতা, অজ্ঞানতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে। বরং সত্য বলতে, দেশের নদী-নালা ও হাওরে এখনো যে সামান্য কিছু মাছ প্রাকৃতিক উপায়ে টিকে আছে, তা মূলত এই পাখিদেরই বিশেষ কল্যাণে। বাংলাদেশের পাখির তালিকায় থাকা প্রায় ৬৫৮-এর অধিক প্রজাতির পাখির মধ্যে বর্তমানে প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রজাতি চরম সংকটাপন্ন এবং তার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রজাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে রয়েছে। প্রকৃতির এই উপকারী পাখিগুলো চিরতরে হারিয়ে গেলে আমাদের দেশ থেকে সুস্বাদু দেশীয় মাছও একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।

আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের কৃষিজমির চিরচেনা উর্বরাশক্তি গত ২০ বছরে প্রায় কয়েক গুণ কমে গেছে। দেশের সব সচেতন কৃষকই এখন নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন যে, তাদের জমি আর আগের মতো স্বাভাবিক উপায়ে প্রচুর ফলন দেয় না। অথচ আমাদের এই প্রিয় সোনার দেশ একসময় পুরো পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উর্বর ও সুফলা এক অঞ্চল ছিল। যেই দেশে একদা যেকোনো ফসলের বীজ সাধারণ মাটিতে ফেলে দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রচুর শস্য জন্মাত, সেই চেনা দেশে এখন অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, বিষাক্ত কীটনাশক ও বাড়তি যত্ন দিয়েও মনের মতো প্রত্যাশিত ফসল আসে না।

জমির এই প্রাকৃতিক উর্বরাশক্তি দিন দিন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো দেশ থেকে পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। কেননা হাজার হাজার বছর ধরে এই পাখিদের পুষ্টিকর বিষ্ঠাই প্রাকৃতিকভাবে আমাদের কৃষিজমির প্রধান ও নিরাপদ জৈব সার হিসেবে সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে। আধুনিক মানুষ ও কৃষকেরা এখন ভালোভাবে বুঝতে শিখেছেন যে, জমির পাকা ফসলে সামন্য ভাগ বসিয়ে পাখিরা মানুষের যেটুকু ক্ষতি করে, আমাদের পরিবেশের উপকার করে তার চেয়ে ঢের বেশি। এছাড়াও পাখিরা জলাশয় ও মাঠের ক্ষতিকর জলজ উদ্ভিদ, আগাছার বীজ এবং ফসলের ক্ষতিকর বিভিন্ন পোকামাকড় ও পোকা খেয়ে কৃষি ফসলের সামগ্রিক উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়াও পাখিরা ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়ানোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরাগায়নে সরাসরি সহায়তা করে, দূর-দূরান্তে ফলের বীজ স্থানান্তর করে বনায়ন সৃষ্টি করে এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক খাদ্য-শৃঙ্খল একদম ঠিক রাখে। আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এরকম অত্যন্ত উপকারী ও নিরীহ প্রাণীগুলোকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা কিংবা স্রেফ শখের বশে জবাই করে খেয়ে ফেলা মানে পরোক্ষভাবে সুজলা-সুফলা বাংলাদেশকেই ধীরে ধীরে হত্যা করা। তাই আমাদের স্লোগান হওয়া উচিত—প্রকৃতির স্বার্থে আর কোনো পাখি হত্যা নয়। কেননা একটি অনন্য পাখি যদি একবার এই চিরচেনা প্রকৃতি থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়, তবে সেটি কোটি টাকা খরচ করলেও আর কোনোদিনই এই পৃথিবীতে ফিরে আসবে না।

জীব ও প্রকৃতির প্রতি মানবিক হওয়া সম্পর্কে আমাদের প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা ও আফ্রিকান সভ্যতার আদি নীতি ও মূল দর্শনই হলো সমস্ত প্রাণের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রদর্শন করা। পাখির এই গুরুত্ব ও তাদের জীবন বাঁচানোর তাগিদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বিখ্যাত কবি অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁর কবিতায় লিখেছেন—

“তিন হাজার বছর ধরে ভারতের নীতি হচ্ছে প্রাণের প্রতি শ্রদ্ধা। শুধু মানুষের নয়, প্রাণীমাত্রেরই বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সে অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। এই মূল নীতির উপরে ভারতীয় সভ্যতার প্রতিষ্ঠা। সেইজন্য ভারতীয় সভ্যতা এতকাল অটুট।”[৪]

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সুন্দর এই প্রকৃতিতে পাখি বাঁচলে তবেই জলশয়ের মাছ বাঁচবে, গাছে গাছে রঙিন ফুল ফুটবে, সুস্বাদু ফল ধরবে, সবুজ গাছপালা বাঁচবে এবং চিরচেনা ঋতুবৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। আর এভাবে পাখিদের হাত ধরেই আমাদের সমগ্র প্রকৃতি রক্ষা পাবে এবং সর্বোপরি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে টিকে যাবে। তাই আসুন, আমরা দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে পরম মমতায় পাখি বাঁচাই, আমাদের সুন্দর প্রকৃতি বাঁচাই এবং পৃথিবীর অমূল্য জীববৈচিত্র্য বাঁচাই।[৫]

আরো পড়ুন

📚 তথ্যসূত্র ও টীকা (References & Notes)

  • ১. প্রধান সম্পাদক: জিয়া উদ্দিন আহমেদ; বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ; এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা; প্রকাশকাল: জুন ২০১১, খণ্ড: ২৬, পৃষ্ঠা: xxxv।
  • ২. দেশের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসমূহ।
  • ৩. সৌরভ মাহমুদ; “পাখিরা থাকবে কোথায়!”; দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ মে, ২০১১, পৃষ্ঠা: ১২; অনলাইন আর্কাইভ লিংক।
  • ৪. অন্নদাশঙ্কর রায়; মুক্তবঙ্গের স্মৃতি; দেজ পাবলিশিং, কলকাতা; প্রকাশকাল: পৌষ, ১৪০৫ বঙ্গাব্দ, পৃষ্ঠা: ১০৮।
  • ৫. ইতিহাস ও সংস্করণ: প্রবন্ধটি ২০১২ সালের ২৭ মার্চ তারিখে ‘প্রাণকাকলি’ ব্লগে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে লেখাটি এস এম শাখাওয়াত হোসেন আকাশ সম্পাদিত নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজের বার্ষিকী ‘মনন’ (২০১৯ সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৭২-৭৩)-এ প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষে, আজ ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তথ্য ও ভাষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে লেখাটিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে।


Leave a Comment

error: Content is protected !!