সিলেটি ঢেকিয়া শাকের পরিচিতি, বাসস্থান ও বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

ভূমিকা: সিলেটি ঢেকিয়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Angiopteris sylhetensis) হচ্ছে বাংলাদেশের ভেষজ উদ্ভিদ। প্রাকৃতিক পরিবেশে অনায়াসে জন্মাতে পারে। তবে রাজ ঢেকিয়া থেকে এই প্রজাতির তথ্য অপ্রত্যুল।

পরিচিতিবিবরণ
স্থানীয় নামসিলেটি ঢেকিয়া শাক / শাকসিলেটি ঢেকিয়া
বৈজ্ঞানিক নামAngiopteris sylhetensis de Vriese, Mon. Maratt. (1853)
ইংরেজি নামফার্ন (Fern)
সমনাম (Synonym)জানা নেই

সিলেটি ঢেকিয়া-এর বর্ণনা:

এটি একটি বিশেষ স্থলজ ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ। উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো:

  • গাছের গঠন ও পাতা: তরুণ অবস্থায় এর পত্রদণ্ড বেশ সরস ও মাংসল থাকে। এর পাতাগুলো আকারে বেশ বড় এবং দ্বি-পক্ষল হয়ে থাকে। পাতার ফলক সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
  • পত্রদণ্ডের বিবরণ: এর গৌণ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের পত্রদণ্ডটি গাঢ় বাদামী রঙের এবং গোলাকার হয়। এটি প্রকৃতিতে বেশ নরম ও পাতলা, তবে এর গোড়ার অংশটি স্ফীত বা ফোলা থাকে না।
  • পক্ষকের আকার ও আকৃতি: প্রতিটি পক্ষক প্রায় ৫-১৫ সেমি লম্বা এবং ২.৫-৪.০ সেমি চওড়া হয়। চামড়ার মতো শক্ত বা চর্মবৎ টেক্সচারের এই পক্ষকগুলো একটির পর একটি একান্তরভাবে সাজানো থাকে। এগুলো দেখতে দীর্ঘ-বল্লমাকৃতি বা দীর্ঘ অর্ধবৃত্তাকৃতির হয়ে থাকে।
  • শীর্ষ ও কিনারার গঠন: পাতার প্রান্ত বা কিনারাগুলো ক্রকচী-দন্তুর (করাতের মতো খাঁজকাটা) এবং পক্ষকের শীর্ষভাগ বেশ তীক্ষ্ণ হয়। এর সামগ্রিক বয়নবিন্যাস বা টেক্সচার অত্যন্ত মসৃণ।
  • পত্রকের গোড়া ও শিরা: পত্রকের গোড়ার অংশটি অসমান থাকে—যার উপরের দিকটা সামান্য কর্তিত বা কাটা এবং নিচের দিকটা গোলাকার। পাতার শিরাগুলো খুবই সুস্পষ্ট এবং এর সোরাস (Sorus) দেখতে রেখাকার বা লম্বা লাইনের মতো হয়।
  • ক্রোমোসোম সংখ্যা: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই ফার্ন উদ্ভিদের ক্রোমোসোম সংখ্যা পাওয়া গেছে n = ৪০।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

বিরল প্রজাতির এই সিলেটি ঢেকিয়া সাধারণত পাহাড়ি নদীর ধারে আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়। এই উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি বেশ অনন্য। এটি মূলত গাছের গোড়ার গ্রন্থিক (Stipules/Buds) এবং পাতার নিচে থাকা রেণু (Spores) দ্বারা

বিস্তৃতি:

সিলেটি ঢেকিয়া (Angiopteris sylhetensis) হলো বাংলাদেশ ও ভারতের একটি অত্যন্ত বিরল এবং সংকটাপন্ন উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে গবেষক ঘোষ এবং তাঁর দল প্রথমবারের মতো পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশের সিলেট জেলা থেকে এই উদ্ভিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেন। মূলত পাহাড়ি নদীর অববাহিকা এবং আর্দ্র পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই উদ্ভিদটি বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৫ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) সিলেটি ঢেকিয়া শাক প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার জন্য এটি বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে সিলেটি ঢেকিয়া শাক সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির অবস্থান খুঁজে বের করার জন্য জরিপ করা এবং স্বস্থানের বাইরে এবং স্বস্থানে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ মহল মির্জা (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৫ম, পৃষ্ঠা ২৪৬-২৪৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. এই নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০ মার্চ ২০২১ তারিখে এবং সর্বশেষ তথ্যসহ এটি ০২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আপডেট করা হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!