কবিতার ইস্তেহার নিয়ে জাগতে হবে আজ

দুর্দিন না জানিয়ে গুটি গুটি পায়ে ভদ্রবেশে আসে আমাদের দ্বারে; যাদের মগজে আজো একটি সুন্দর ছবি স্থির হয়ে আছে- তাদেরই এই দুর্দিনে জেগে উঠতে হবে, কোমল সুরের মালা ছেড়ে রণ ধ্বনি বুকে এটে নিতে হবে।                                 আজকের এ পাঠের আসর থেকে উঠে আসুক কবিতার ইস্তেহার– কাব্যের চরণগুলো হোক একেকটি সম্ভবনার কণা; প্রতিটি শব্দ বুলেটের মতন … Read more

প্লাটফর্মের অলংকার

চেইন টেনে সবুজ আলো জ্বালিয়ে প্লাটফর্ম খালি করে- রাতের শেষ ট্রেনে বাড়ি ফেরা। বোতল টোকানো ছেলে, বোঝা টানা ছেলে, ফেরিওয়ালার ঝুড়ির দেশি-বিদেশি পণ্য, কাঁধে টাঙ্গানো মনোহারী আয়না-চিরুনির পশরা, কুলির উচ্চ কণ্ঠ, বাদামের খোসা, আইসক্রিমের কাঠি, মাইকের সংকেত, গতিশীল পা, চব্বিশ ঘণ্টার খবরের কাগজ; এসবকে ছেড়ে বাড়ি ফেরা। ১৯/০২/২০১৯ চালাবন, দক্ষিণখান, উত্তরা, ঢাকা বি. দ্র: ব্যবহৃত … Read more

তোমার আঙুল ছেড়ে চলা এক দশক

লালা টুকটুকে টগর যেদিন প্রথম কলোনির বাসায় এলো- সেদিন থেকেই আমার হাতেখড়ি হলো চারা লাগানোর, ঘুঘু পাখিকে আলত হাতে মুক্ত করার আনন্দ আমাকে শেখায় সম্পর্কের যত্ন নিতে। এক দশক হলও তোমার আঙুল ছেড়ে আমার পথ চলার, তাই এখন ঘরে ফেরার জন্য আমার মন টানে না, ঘুরে ঘুরে যতটা পথ দেখিয়েছো তুমি- তাকে আরো বাড়িয়েছি। এই … Read more

দশ আঙ্গুলের স্পর্শে একটি প্রত্যাশিত দিন

তারা জানেনা জন্ম নেওয়ার পড়ে তাদের কি পরিচয় হবে,/ শুধু জেনেছে দুঃখ-কষ্ট, ক্ষুধা-দারিদ্র, যুদ্ধ-দখল দেখতে হবে,/ তাদের জীবিত দিনগুলো কি তারুণ্যে কাটবে?/ নাকি আঘাত আর যন্ত্রণায় কাটবে?/ যাই ঘটুক না কেনো শুধু জানে একটি ঘুর্ণায়মান চাকা চালু হবে,/ তাই আপনারা হাতে নরম কাদা নিন, তারপরে সেটা চাকা উপর রাখুন। আরো পড়ুন

ইচ্ছেদের চাষাবাদ করব বলে যুগল পথ চলা

শহরের রাস্তাটা খুঁড়ছে, তা দেখতে দেখতে/ স্টেশনের যাচ্ছি তুমি আসবে জেনে।/ আমার কাছে আজকের দিনটি প্রত্যাশিত,/ মনের নানা খাল-খন্দর ভরাট করতে আমরা পাশাপাশি বসব,/ হকারের গুছানো ঝুড়ি, নানা কিছিমের ভিখারি,/ যাত্রীর আসা যাওয়া, মাছিদের উন্মুক্ত পাখা; আরো পড়ুন

সৈয়দ মুজতবা আলী বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ রম্য রচয়িতা

সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন শ্রীহট্ট জেলার (বর্তমানে সিলেট) করিমগঞ্জে (বর্তমানে ভারতের অন্তর্ভুক্ত)। পিতা–খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দর আলী, মাতা-আমতুল মন্নান খাতুন। পিতা সিকান্দর আলী ডাক বিভাগে ‘পেইড এপ্রেন্টিস’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতাবলে স্পেশাল সাব রেজিস্ট্রারের পদ লাভ করেন। সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন পিতামাতার তৃতীয় সন্তান। শৈশব কৈশোর থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী, জেদি আর প্রতিভাদীপ্ত। আরো পড়ুন

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও সমালোচক

কথাশিল্পী নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়র প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯১৮ সালের ০৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বালিয়াডাঙ্গিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃভূমি বরিশালের বাসুদেবপুরের নলচিরায়। ছেলেবেলায় তাঁর ডাক নাম ‘নাড়’। সুনন্দ’ তাঁর ছদ্মনাম। বাবা প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা বিন্ধ্যবাসিনী দেবী। বাবা-মায়ের অষ্টম সন্তান তিনি। তাঁর দুই অগ্রজ শিশু বয়সেই মারা যায়। বাকি আট ভাইবোন হলেন সতীরানী, নিখিলনাথ, ননীবালা, পুঁটুরানী, শেখরনাথ, তারকনাথ (নারায়ণ), বীণা ও কমলা। আরো পড়ুন

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে কথাসাহিত্যিক

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বপুরুষের আদিনিবাস ছিল পশ্চিম চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পানিতর গ্রামে। তাঁর পিতামহ তারিণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় পিতৃগ্রাম পরিত্যাগ করে স্থায়ীভাবে চলে আসেন অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলার বারাকপুর গ্রামে। বর্তমানে এই বারাকপুর গ্রাম পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। ইছামতী-লালিত সবুজ-সমৃদ্ধ গ্রাম বারাকপুর। লোকে বলে চালকি-বারাকপুর। চালকি পাশের গ্রাম। কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত ব্যারাকপুর থেকে আলাদা করে বোঝানোর জন্যেই এই নামকরণ—চালকি-বারাকপুর। তারিণীচরণের শ্বশুরবাড়ির সূত্রে কিছু আত্মীয়-স্বজন এই গ্রামের আশপাশে ছড়িয়ে ছিলেন। গ্রামগুলো হলো সাইলেপাড়া, শিমুলিয়া, শিলহাটি, মোল্লাহাটি, সুন্দরপুর, মাধবপুর, দুর্গাপুর, নিশ্চিন্দিপুর ইত্যাদি। আরো পড়ুন

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক

একটি উদার এবং রুচিশীল পারিবারিক পরিমণ্ডলের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকারী ছিলেন শিল্পী বনফুল। তার পিতামহ কেদারনাথ ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ এবং তান্ত্রিক কালীসাধক। বনফুলের পিতা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায়ের জীবনের প্রাথমিক পর্যায় খুব একটা মসৃণ ছিল না। বাল্যকালেই মাতৃহীন হয়ে মামা-বাড়িতে মানুষ হন তিনি। ফলে জীবনকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে শেষপর্যন্ত চিকিৎসক হিসেবে তিনি কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হন। সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। আরো পড়ুন

সুবোধ ঘোষ একজন বাংলা কথাসাহিত্যিক

সুবোধ ঘোষ (জন্ম: ১৯০৯ – মৃত্যু: ১০ মার্চ, ১৯৮০) একজন বাংলা কথাসাহিত্যিক। বাংলাভাষী পাঠকসমাজে সুবোধ ঘোষ এখনও অনেক প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে তার সৃষ্ট ‘অযান্ত্রিক’ এবং ‘ফসিল’-এর মতো দুটি গল্পের জন্য বাংলা সাহিত্যের যুগান্তকারী স্থান অধিকার করে আছেন। সুবোধ ঘোষের জন্ম বিহারের (বর্তমান ঝাড়খণ্ডের) হাজারিবাগের এক নিম্নমধ্যবিত্ত কায়স্থ পরিবারে, ১৯০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। চার পুরুষের বসতি তৎকালীন ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে হলেও তার বাবা ছেলেকে আশৈশব বড়ো করে তুলেছিলেন হাজারিবাগে। জেলখানার অধস্তন চাকুরে শ্রী সতীশচন্দ্র ঘোষ ও শ্রীমতী কনকলতাদেবীর সাত সন্তানের মধ্যে সুবোধ ঘোষ দ্বিতীয়। আরো পড়ুন

error: Content is protected !!