মেথি খাওয়ার উপকারিতা ও ১০টি ভেষজ প্রয়োগ

বাত ব্যাধিতে মেথি (বৈজ্ঞানিক নাম: Trigonella foenum-graecum) খাওয়া শ্রেষ্ঠ। প্রতিদিনের ব্যবহারে সুলভ মেথি দানার বা মেথির আছে অনেক গুণ। মেথি ফোড়ন দিয়ে রান্না করা তরকারি, মেথির শাক এমনকী চচ্চড়ির পাঁচফোড়নে মেথির সুগন্ধ সকলেরই প্রিয়। কিন্তু মেথির গুণপনার কথা হয়তো সকলের জানা নেই। মেথি বায়ুকে শান্ত করে, কফ দূর করে, জ্বর সারিয়ে দেয়। মেথি বাত হরণ করে, উষ্ণ, তেতো, দীপক (উদ্দীপিত করে) ও পৌষ্টিক, কৃমি, শূল, গুল্ম, সন্ধিবাত, কোমরে ব্যথা এবং অনেক রকমের শারীরিক পীড়া দূর করে সেই সঙ্গে বায়ুনাশ করে ।। সুক্ষ্মতের মতে মেথি পিত্তনাশক, রক্ত সংশোধক (রক্তের দোষ দূর করে), বায়ুনাশক, পুষ্টিকর, মায়েদের স্তনের দুধ বাড়িয়ে দেয়। মেখির শাক, শাক ভাজা বা মেখি শাকের তরকারি তী, উষ্ণ, পিত্তবর্ধক, দীপক, (উদ্দীপিত করে), লঘু, তেতো, মলরোধ করে এবং বলবৃদ্ধি করে। আরও পড়ুন

জোয়ান বা যোয়ানের ২০টি ব্যবহার বা ভেষজ গুণাগুণ

জোয়ান বা যোয়ান খাবারকে সহজে হজম করায়। ঘরোয়া ওষুধের মধ্যে যোয়ানের ব্যবহার আমাদের দেশে প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে। যোয়ানের সংস্কৃত নাম যমানী। যোয়ান খাবার হজম করায়, রুচি উৎপন্ন করে, তীক্ষ্ণ, গরম, হালকা খিদে বাড়িয়ে দেয়, তেতো আর পিত্ত উৎপন্ন করে। শুক্র শূল, বায়ু, কফ, পেটের গ্যাস, গুল্ম, লিভারের অসুখ ও কৃমির প্রকোপ কমিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে বাত নাশক, উদ্বিগ্নতা দূর করে, শূলের ব্যথা কমায়, কফ, জ্বর, কৃমি নাশ করে, দুর্গন্ধ দূর করে। বদহজম, পেটের অসুখ, আমাশা, আর সর্দি সারিয়ে দেয়। কলেরা রোগে যোয়ানের প্রভাব কম হলেও এই অসুখেও উপকারক। আরও পড়ুন

মৌরি দানার ১০টি ভেষজ গুণ ও অন্যান্য ব্যবহার

মৌরি (বৈজ্ঞানিক নাম: foeniculum-vulgare) শরীর শীতল করে তাই প্রাচীন কাল থেকেই মৌরির ব্যবহার মশলা আর মুখশুদ্ধি রূপে হয়ে আসছে। পান সাজবার সময়েও পানের ভেতর মৌরি দেওয়া হয়। মৌরি স্বাদে মিষ্টি বা মধুর। এই মধুরতা গুণের জন্যেই সংস্কৃত ভাষায় মৌরিকে মধুরী বলা হয় । চরকের মতে, মৌরি শূল প্রশমন করে বা কমিয়ে দেয়। সুশ্রুতের মতে কফ নাশ করে। আয়ুর্বেদ মতে মৌরি শীতবীর্য (শীতল), রুচিকর, শুক্রবর্ধক, মুখদোষ নিবারক, রক্তপিত্ত, জ্বর, পেটের অসুখে, চোখের অসুখে ও শ্লেষ্ম রোগে উপকারী। যোনির ব্যথা, কোষ্ঠবদ্ধতা (মল না হওয়া), অগ্নিমান্দ্য (খিদে না হওয়া), কৃমি, কাশি, বমি, শূল ও বায়ুনাশ করে, খাবার হজম করায় (পাচক)। আরও পড়ুন

হিং খাওয়ার উপকারিতা ও রোগ সারাতে ১১টি ভেষজ প্রয়োগ

পেটের অসুখ সারাতে হিং উপকারি। এটি এমন একটি মশলা যার প্রয়োজন হয় সাধারণত তরকারিতে বা ডালে ফোড়ন দেওয়ার নন্য। হিন্দিতে ফোড়ন দেওয়াকে বলা হয় ‘বধারনা’। হিং ফোড়ন দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় বলে একে বলা হয় ‘বধারনী’ । অনেক সময় পেয়াজের বদলেও এটা ব্যবহার করা হয়। অরুচি, গ্যাস, পেটের নানা অসুখ সারাতে এটা ওষুধ হিসেবে … Read more

শাহজিরা বা শাজিরা বা শাহিজিরা ১০টি ভেষজ গুণ

শাজিরা বা শাহজিরা বা শাহিজিরা (Elwendia persica) চোখের পক্ষে ভাল শাহজিরা আয়ুর্বেদ মতে, উষ্ণবীর্য বা গরম কড়া, সুগন্ধযুক্ত, কটুরস বা তেতো, মল সংগ্রাহক বা মলরোধ করে, রুক্ষ, অগ্নিহদীপক বা খিদে বাড়িয়ে দেয়, কফ নাশ করে, রুচি বৃদ্ধি করে, চোখের পক্ষে ভাল।হকিমি বা ইউনানি মতে, শাহজিরা খেলে শরীরে উষ্ণতা ও মনে সুকৃর্তি বা চনমনে ভাব আসে, কফ ও বায়ু নাশ করে, ফোলা সেরে যায় বা কমে যায়, পাকস্থলীর বদরস (বিকৃত রস) বিদূরিত হয়, রসদোষ নষ্ট হয়, খিদে বেড়ে যায়, প্রস্রাব পরিষ্কার হয়, ঋতু (মাসিক) পরিষ্কার হয়।আরও পড়ুন

কালোজিরা প্রয়োগের ১০টি রোগের ভেষজ চিকিৎসা

পুরনো পেটের অসুখে কালোজিরে আয়ুর্বেদ মতে কালোজিরে উষ্ণবীর্য বা গরম-কড়া, কটু-তিক্ত রস (তেল), রুচি ও বল বৃদ্ধি করে, মেধা বৃদ্ধি করে, অগ্নিদীপক (খিদে বাড়িয়ে দেয়), পাচক (খাবার হজম করায়), ধারক (মল রোধ করে), গর্ভাশয় বিশোধক অর্থাৎ মেয়েদের গভাশয়ের পক্ষে ভাল। কালোজিরে বদহজম, পেটের অসুখ, বাতের জন্যে পেট ফাঁপা, গুম, রক্তপিত্ত বা পিত্তের জন্য রক্তাধিক্য-অবমন), কৃমি, কফ, বায়ু, আমদোষ, পুরনো পেটের অসুখ, বাত, ব্রণ ও শূল রোগে ব্যবহার করা হয়। আরও পড়ুন

জিরা খাওয়ার উপকারিতা ও ১২টি রোগের ভেষজ চিকিৎসা

শরীর ঠাণ্ডা করতে জিরা (বৈজ্ঞানিক নাম: Cuminum cyminum) ব্যবহার করা হয়। জিরা অর্থাৎ শুকনা জিরে আমাদের প্রতিদিন ব্যবহারের একটি রুচিকর ও সুস্বাদু মশলা। ওষুধেও জিরার খুব ব্যবহার হয়। জিরা শীতল তাই শরীরে যদি কোনো কারণে গরম বা উষ্ণভাবে বেড়ে যায় তাহলে জিরা খেলে গরম কমে। আরও পড়ুন

চোকলা এশিয়াসহ বাংলাদেশ ভারতের চিরসবুজ বৃক্ষ

চোকলা হচ্ছে মালভেসি পরিবারের হেরিটিয়েরা গণের সপুষ্পক উদ্ভিদের একটি প্রজাতির নাম। চোকলা ক্ষুদ্র হতে মাঝারী-আকৃতির বৃক্ষ, ১০-১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু, কচি শাখা তারকাকার-ঘন ক্ষুদ্র কোমল রােমাবৃত। এদের পাতা একান্তর, একফলক, ৪-১৬ x ৩-৭ সেমি, বল্লমাকার, বিবল্লমাকার অথবা আয়তাকার হতে উপবৃত্তীয়, গােড়া স্থূলাগ্র। আরো পড়ুন

আইনা এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার বনের চিরসবুজ বৃক্ষ

আইনা বা আইনা সুন্দরী হচ্ছে মালভেসি পরিবারের হেরিটিয়েরা গণের সপুষ্পক উদ্ভিদের একটি প্রজাতির নাম। এরা মাঝারী-আকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ, ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু, নীচু শাখান্বিত, বাকল গােলাপী-ধূসর, উলম্ব এবং গাত্রীয়ভাবে বিদীর্ণ হয়, ক্ষুদ্র শাখা শল্কল। এদের পাতা সরল আরো পড়ুন

কাঁচা মরিচ বা কাঁচা লঙ্কার খাওয়ার গুণাগুণ ও অপকারিতা

কাঁচা মরিচ

সব মশলার মধ্যে নুনের পরই দ্বিতীয় স্থান হলো মরিচ বা লঙ্কার। বাংলাদেশ ও ভারতে ২ প্রজাতির মরিচ চাষ হয়ে থাকে যাদের নাম হচ্ছে আকাশি মরিচ ও কাঁচা মরিচ। বলা হয়ে থাকে ব্যঞ্জনে বা তরকারিতে যদি নুন-লঙ্কা না থাকে তাহলে তা বিস্বাদ হয়ে যায়। আমাদের দেশে শুকনা লাল লঙ্কার সঙ্গে সঙ্গে তরকারিতে, ডালে বা যে কোনো নোনতা খাবারে কাঁচালঙ্কাও ব্যবহার করা হয়। কাঁচালঙ্কার ঝালের জন্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই খাওয়ার সময় কাঁচা মরিচ খেলে মুখ থেকে যে লালা বেরোয় তা খাবার হজম করবার পক্ষে ভাল। আরও পড়ুন

error: Content is protected !!