বাত ব্যাধিতে মেথি (বৈজ্ঞানিক নাম: Trigonella foenum-graecum) খাওয়া শ্রেষ্ঠ। প্রতিদিনের ব্যবহারে সুলভ মেথি দানার বা মেথির আছে অনেক গুণ। মেথি ফোড়ন দিয়ে রান্না করা তরকারি, মেথির শাক এমনকী চচ্চড়ির পাঁচফোড়নে মেথির সুগন্ধ সকলেরই প্রিয়। কিন্তু মেথির গুণপনার কথা হয়তো সকলের জানা নেই। মেথি বায়ুকে শান্ত করে, কফ দূর করে, জ্বর সারিয়ে দেয়।
সুস্থ থাকতে মেথির প্রয়োগ:
১. পেটা বায়ু জমলে: এক চা চামচ মেথি চূর্ণ প্রতিদিন সকালে খেলে বায়ু-বিকার দূর হয়ে যায়। মেথি আর মৌরির অর্ধ চা চামচ করে চূর্ণ সকালেবেলা গুড়ে মিশিয়ে খেলে অনেকাংশে পুরনো পেটের বায়ু নিঃসরণ ইত্যাদির কষ্ট কমে ।
২. অম্লজনিত কারন সারাতে: ২ চা চামচ মেথি ও ২ চা চামচ মৌরি একসঙ্গে নিয়ে তাওয়ায় সেঁকে নিতে হবে। অর্ধ কোটা করে এই মিশ্রিত মশলা ১ চা চামচ করে প্রতিদিন খেলে বায়ু, গ্যাস, বমিভাব, টক হেঁচকি আর টক ঢেকুর ওঠা ইত্যাদির প্রশমন হবে।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: মেথির অর্ধ চা চামচ চুর্ণ সকাল ও সন্ধেবেলা গুড়ে মিশিয়ে বা জলে গুলে কিছুদিন ধরে খেলে মলরোধ অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে। যকৃৎ (লিভার) বলবান হবে। পিত্ত প্রকৃতির লোকেরা যদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মেখির শাক খান তাহলেও উপকার পাবেন। কচি মেথির পাতার তরকারি রান্না করে খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্যের কষ্ট দূর হবে, সেই সঙ্গে রক্তের শোধন হাব, শক্তি বৃদ্ধি পাবে আর অর্শ রোগেও উপকার পাওয়া যাবে।
৪. আমাশা সেরাতে: আধ চা চামচ মেথি চূর্ণ যদি টাটকা পাতা টক দইয়ের ঘোলে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধেবেলা খাওয়া যায় পুরনো আমাশা সেরে যাবে । মেথি পিষে নিয়ে টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও আমাশা সেরে যায়।
৫. রক্তআমাশা: মেথির শাক সেদ্ধ করে রস ছেকে নিয়ে সেই রসে আঙুরের রস মিশিয়ে পান করলে রক্ত আমাশা ও রক্ত আমাশাযুক্ত পেটের অসুখে উপকার পাওয়া যায়।
৬. মেয়েদের প্রদর রোগ সারাতে: অল্প পরিমাণে পেষা মেথি সকাল সন্ধেবেলা গুড় আর ঘি মিশিয়ে চিবিয়ে খেলে মেয়েদের প্রদর রোগে সুফল পাওয়া যায়।
৭. ডায়বেটিস রোগে সুফল পেতে: মেথির শাক সেদ্ধ করে ২ চা চামচ রস বের করে তাতে অল্প খয়ের (পেষা) ও চিনি মিশিয়ে খেলে বহুমূত্র (ডায়বেটিস) রোগের উপশম হয়। রাত্তিরে দেড় চা চামচ মেথি এক কাপ জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকাল বেলা খুব ভাল করে মেথির দানা রগড়ে নিয়ে জল ছেকে নিতে হবে। এই জল প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে এক মাস ধরে ডায়বেটিসে যাঁরা ভুগছেন তাঁদের খাওয়ালে প্রস্রাবের সঙ্গে শর্করা কম বের হবে। মেথির ডায়বেটিস সারানোর গুণ আছে। অনেকেই এই সস্তা, সহজ ও সুলভ চিকিৎসা করে। বহুমূত্র, মধুমেহ বা ডায়বেটিস রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
৮. লু বা গরম হাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা: শুকনা মেথির পাতা ঠাণ্ডা জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে । ভাল করে ভিজে গেলে হাত দিয়ে রগড়ে ঘেঁকে নিতে হবে । এই জলে একটু মধু মিশিয়ে খেলে যদি গরম কালে লু বা গরম হাওয়া লেগে গিয়ে শরীর খারাপ হয় তাতে আরাম পাওয়া যাবে।
৯. ব্রণ সারাতে: মেথির দানা বা পাতা মিহি করে পিষে প্রলেপ লাগালে ব্রণ সেরে যায়।
১০. ফোড়া সারাতে: যদি কোনো ঘা বা ফোঁড়া জ্বালা করে এই প্রলেপ লাগালে তাতেও উপকার পাওা যায়। ফোড়া ফুলে পাকা কমে যায়।
তথ্যসূত্রঃ
১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, ২২৩-২২৭।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: आशीष भटनागर
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।