দৃশ্যত

রাস্তা দিয়ে যেই যায়, খোলা জানলা, উঁকি মেরে দেখে –/ কে একজন সারাক্ষণ গদি-আঁটা কাঠের চেয়ারে/ টেবিলে দু-ঠ্যাং তুলে গালে হাত দিয়ে বসে থাকে।/ চুলগুলো খোঁচা খোঁচা, ভাঙা গাল, দেখতেও চোয়াড়ে,/ মাঝখানে সামান্য ভুঁড়ি, যে রকম হয় ভারি ট্যাঁকে—/বেড়া ভেঙে ভাবনা ঢুকলে সম্ভবত দেয় সে খোঁয়াড়ে। আরো পড়ুন

বুড়ি ছু’য়ে

যে দেয়ালে বুড়ি দিত এতদিন ঘুটে/ ভদ্রলোকের বেটারা সেখানে জুটে/ তাতে নানা রং ফলিয়ে গিয়েছে লিখে/ বুড়ি জানে নাকে কারা কোন্ দল কী কে/ একই দেয়ালের ভাগ ক’রে দুই পিঠে/ দু-দলেই যায় দু-দলের ঢাক পিটে/ ওরা বলে, মুখে ধরব দুধের বাটি/ ভাই, আমাদের ওঠাও আরেক কাঠি আরো পড়ুন

আনু মুহাম্মদ আত্মশুদ্ধিব্রত পালনকারী ক্ষুদে বুর্জোয়া চিন্তায় আচ্ছন্ন প্রগতিশীল লেখক

আনু মুহাম্মদ (জন্ম: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৬) হচ্ছেন অর্থনীতির অধ্যাপক, একসময় মার্কসবাদ ও পুঁজিবাদ বিশ্লেষণ করে কিছু লেখা লিখেছিলেন। বর্তমানে পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের সাথে জড়িত। তাঁর লেখার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি বাংলাদেশের ও বিশ্ব পুঁজিবাদী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফুটিয়ে তোলেন। আরো পড়ুন

নৈসর্গিক সৌন্দর্যেমন্ডিত চিনামাটির পাহাড়ের শহর সুসং দুর্গাপুর

গারো পাহাড় ছুয়ে এঁকেবেঁকে কংশ, সোমেশ্বরীসহ অন্যান্য শাখা নদী নিয়ে বর্তমান নেত্রকোণা জেলা। নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা। এটি বিভিন্ন নদীর জলধারায় পলিযুক্ত মাটি , হাওড় নিয়ে উর্বর একটি জেলা। এই জেলার উত্তরে অবস্থিত মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা। নেত্রকোনার উর্বর মাটিতে সোনালী ধান ক্ষেত ও হাওড়ের জলের ঢেউয়ে নেচে। আরো পড়ুন

বাজে ক্ষুব্ধ ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষাণ ইনক্লাব আহ্বান, নিথর জলধিজলে জাগে উতরোল

বাজে ক্ষুব্ধ ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষাণ, (উৎপল দত্তের ‘কল্লোল’ নাটকের প্রস্তাবনা গীত) বাজে ক্ষুদ্র ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষাণ/ ইনক্লাব আহ্বান —/ নিথর জলধিজলে জাগে উতরোল/ বিষ-মন্থনে ওঠে জীবন হিল্লোল/ ক্রুর বন্ধন ভেঙে ভেঙে তরঙ্গ রঙ্গে ওঠে/ সমুদ্র কল্লোল, উঠিল সমুদ্র কল্লোল।। আরো পড়ুন

তার কাছে

গৌরচন্দ্রিকা থেকে পরিশিষ্টে/ ছুটিয়ে প্রাণান্ত পরিচ্ছেদে/ ওপরে সোনার জলে/ নামধাম লিখে/ যথোচিত ঠাটবাটে/ মর্কটের চামড়ার মলাটে/ আষ্টেপৃষ্ঠে/ যে আমাকে বাঁধে/ বলো পাখি, গিয়ে বলো,/ রাধে রাধে রাধে!— আরো পড়ুন

দূরান্বয়

সাদা চুলে/ দেখতে পাচ্ছি দরোজার/ ঝানকাঠে দাঁড়িয়ে—/ টেবিলে পা তুলে/ কোথাকার কে এক ছোকরা/ তর্জনী নাড়িয়ে/ সামনের দেয়ালকে বলছে,/ ‘কে ওখানে বটো ?/ হটো হটো হটো!’/ বাইরে বেরিয়ে ভাবি/ দেয়ালের কান নেই/ শোনে না, ভাগ্যিস ! আরো পড়ুন

এককাঠি দুকাঠি

এক পা বাইরে।/ এক পা/ মনের ভেতরে।/ ডালে দোল খায়/ আকাশকুসুম,/ শৃঙ্খলে বাঁধা/ স্মৃতি যায় ঘুম/ শেকড়ে।/ এক পা ওঠালে/ এক পা/ পেছনে ঠেলে।/ এ যখন ছাড়ে/ লাগে ওর টান/ থেকে থেকে হলে/ ওর উত্থান/ এ পড়ে। আরো পড়ুন

অগত্যা

তিন কাল গিয়ে এক কালে ঠেকা বুড়ো/ সব পাতা ঝ’রে গেলে শীতে/ ফু দিয়ে স্মৃতিতে/ একা সে আঁটকুড়ো/ ব’সে ব’সে সারাক্ষণ ফোলায় ফাঁপায় / রঙিন বুদ্বুদ/ যেখানে যা পায়/ মাটিতে লাগিয়ে মুখ খুঁটে খায় খুদ/ পাখিদের মতন হুবহু/ এক থেকে/ সেও হতে চেয়েছিল বহু/ একা তাকে ফেলে রেখে গিয়েছে প্রত্যেকে/ দাঁতে আরো জোর কমবে চোখে কমবে জ্যোতি/ জিভ আরো বেশি করে চাইতে থাকবে নুন-ঝাল-টক/ তখনই ফিরিয়ে নেবে বস্তু তার দেহ থেকে গতি আরো পড়ুন

জল নেমে গেলে পলি

দেবতার থানে ধ’রে দিয়ে পাঁচসিকে/ কিনে নেব ত্রাণ -/ আমরা নই সে চিজ/ হানা দিলে বান/ ডেকে তুলে পড়শিকে/ চলে আমাদের তদন্ত তজবিজ।/ পেটে পড়ে টান,/ পড়ক –/ উঁচুতে টাঙাই শিকে/ পদ্মপাতায় ভালো ক’রে মুড়ে/ মাটির হাঁড়ির মুখ/ হাতের নাগাল থেকে ঢের দূরে/ তুলে রেখে দিই বীজ আরো পড়ুন

error: Content is protected !!