ময়নাকাঁটা বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ

ময়নাকাঁটা


বৈজ্ঞানিক নাম: Meyna spinosa Roxb. ex Link, Jahrb. Gewachsk 1(3): 32 (1820). সমনাম: Vangueria spinosa Roxb. (1814), Meyna laxiflora Robyns (1828). ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: মাইনা, মাইনাকাট, ময়না, মুইনা, ময়নাকাঁটা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Gentianales পরিবার: Rubiaceae গণ: Meyna প্রজাতি: Meyna spinosa.

ভূমিকা: ময়নাকাঁটা ( বৈজ্ঞানিক নাম: Meyna spinosa) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ প্রজাতি। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের ঝোপে জঙ্গলে দেখা যায়।

ময়নাকাঁটা-এর বর্ণনা :

ময়নাকাঁটা শাখাবিশিষ্ট, ছোট বা মধ্যম-আকৃতির বৃক্ষ। এই গাছ ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। পাতা উপপত্রযুক্ত এবং বৃন্তক, উপপত্র প্রথমে প্রশস্তভাবে যমক, পুষ্পযুক্ত বিটপে ডিম্বাকার, পত্রবৃন্ত ১৩ মিমি পর্যন্ত লম্বা, পত্রফলক ডিম্বাকার- উপবৃত্তাকার বা ডিম্বাকার-আয়তাকার, ৭-১৪ ৩-৬ সেমি, মসৃণ, কখনো নিম্নভাগ হালকাভাবে রোমাবৃত, পার্শ্বীয় শিরা ৯ জোড়া পর্যন্ত, প্রান্তের নিকট উপরিভাগ বক্র। সাইম ১- ৩ পুষ্পক, প্রায় বৃদ্ধহীন, অর্ধআম্বেলসদৃশ, মঞ্জুরীপত্র এবং মঞ্জরীপত্রিকা ছোট, শল্কপত্র সদৃশ। পুষ্প ৫-অংশক, পুষ্পবৃন্ত ৫ মিমি পর্যন্ত লম্বা, মসৃণ এবং অণুরোমশ। বৃতি মসৃণ, নল ০.৫ মিমি পর্যন্ত লম্বা, খন্ডক লিগিউলবিশিষ্ট থেকে ত্রিকোণাকার, ১-২ মিমি পর্যন্ত লম্বা। পাপড়ি নল ৩.৫ মিমি পর্যন্ত লম্বা, খন্ডক আবরণে আবৃত, ছড়ানো, ডিম্বাকার, ৩ মিমি পর্যন্ত লম্বা, গ্রীবা পশমী। পুংদন্ড খাটো, পরাগধানী অনাবৃতভাবে বহির্মুখী। গর্ভদন্ড ৪ মিমি পর্যন্ত লম্বা, গর্ভমুন্ড ৫-খন্ডিত, গর্ভাশয় ৫-কোষ্ঠী যার প্রত্যেক কোষে ডিম্বক ১টি। ফল লাটিমাকার-গোলাকার, আড়াআড়ি ২০-২৩ সেমি, রসালো, পাইরিন কাষ্ঠল। ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

ঝোপ জঙ্গল জন্মে। ফুল ও ফল ধারণ সময় ফেব্রুয়ারি থেকে জুন। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

বিস্তৃতি : ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত।

ব্যবহার : বেঙ্গলের স্বদেশীরা ফল খায়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ময়নাকাঁটা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ময়নাকাঁটা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান এবং এস সি দাস , (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৯৭-৯৮। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: নয়ন জ্যোতি নাথ

Leave a Comment

error: Content is protected !!