যূথিকাপর্ণী উদ্ভিদটি (rhinacanthus nasutus) ঐতিহ্যবাহী ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে এটি ত্বকের বিভিন্ন অবস্থার উপর এর উপকারী প্রভাবের জন্য বিশেষভাবে মূল্যবান।
যূথিকাপর্ণী-এর গুণপনা
এই ভেষজ প্রজাতিটি পাতা, মূল, বীজ প্রভৃতিকে নানা জায়গার লোকে যেসব রোগে ব্যবহার করে থাকেন। অনেকের মতে অব্যবহার্য একটি গাছ।
ইউনানী মতে এটি উষ্ণ ও অম্লরসযুক্ত। পাতার রস দেহের বিকৃত কালো দাগ এবং ছুলিতে লাগালে সেরে যায়। দক্ষিণ কোঙ্কণে দাদের পক্ষে এটি এক বিশিষ্ট ভেষজ। টাটকা মূল ও পাতা বেটে চূণের জল ও মরিচের সঙ্গে মিশিয়ে দাদ, চুলকানি, হাজা, একজিমা প্রভৃতিতে লাগালে উপকার হয়। থাইল্যাণ্ডে ক্যানসার রোগে এই পাতা ব্যবহৃত হয় সিন্ধু অঞ্চলে গাছের মূল অসাধারণ কামোত্তেজক ঔষধ হিসেবে পরিচিত। মূল দুধে সিদ্ধ করে সেই দুধ খেলে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইন্দোনেশিয়াতে পাতা ঘামাচিতে ব্যবহার করে। মূল সর্পবিষয় হিসেবে দঃ ভারতে প্রচলিত। মাদাগাস্কারে পাতার রস ও মূলের ছাল দাদ, একজিমা, বিসর্প প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বীজ বড় ক্রিমিনাশক। পাতা কটু স্বাদযুক্ত।
আধুনিক ভৈষজ্য বিজ্ঞানীগণের মতে এর মূলে রিনাক্যানথিন নামক এক প্রকারের উপক্ষার আছে, তা অনেকটা Chrysophanic ও frangulic acid-এর ন্যায়, জীবাণু ও ব্যথানাশক গুণ-সম্পন্ন। উদ্ভিদটিতে প্রচুর পটাসিয়াম লবণ পাওয়া যায়।
এই গণের আর একটি প্রজাতি ভারতের আসাম ও বাংলার জঙ্গলে পাওয়া যায়, সেটির কোন ভারতীয় নাম নজরে পড়ে না। সেটিকে পলকই ভেদ বলা যেতে পারে। তার নাম R calcaratus পাতা খাওয়া যায়, ক্রিমিনাশক গুণ-সম্পন্ন। মূলের রস কামোদ্দীপক। মূল লেবুর রস ও মরিচচূর্ণ সহকারে লাগালে হার্পিশ আরোগ্য হয়।
সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।
আরো পড়ুন
- হস্তিদাঁতী উদ্ভিদের উপকারিতা, ভেষজ গুণাগুণ, বৈশিষ্ট্য ও ঔষধি ব্যবহার
- ব্যাকটেরিয়া নাশক ও বাতের চিকিৎসায় অনন্য এক উদ্ভিদ: জেনে নিন এর চমৎকার ওষুধি গুণ
- কেচুয়ান গাছ: সাপের বিষের প্রতিষেধক ও কটু স্বাদের এক বিরল পাহাড়ি বৃক্ষ
- মরিশাস ঘাস: গবাদি পশুর পুষ্টিকর খাদ্য ও আদিবাসী চিকিৎসার এক অনন্য তৃণ
- শিয়াল বুকা: চিরহরিৎ অরণ্যের এক অনন্য বন্য ফল ও এর বৈজ্ঞানিক পরিচয়
- খাসিয়া জাম: চিরহরিৎ অরণ্যের এক বিরল বন্য ফল ও এর বৈজ্ঞানিক পরিচয়
- ক্ষুদিজাম বা ব্ল্যাক কারেন্ট ট্রি: নবজাতকের সুরক্ষায় ও আদিবাসী চিকিৎসায় এক অনন্য ভেষজ বৃক্ষ
- পাহাড়ি শিয়াল বুকা অরণ্যে জন্মানো ফলজ ও ভেষজ গুনসম্পন্ন বৃক্ষ
- দেশি গোবুরা (Anisomeles indica) উদ্ভিদের পরিচিতি ও ওষধি গুণাগুণ
- তারাগাছের অবিশ্বাস্য ঔষধি গুণ, বৈশিষ্ট্য ও জাতিতাত্ত্বিক ব্যবহার
- ক্ষেতরাঙ্গা গাছের ঔষধি গুণাগুণ, ভেষজ ব্যবহার ও বিস্তৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত
- কাইনজাল গাছ (Bischofia javanica) এর পরিচিতি ও ভেষজ উপকারিতা
- বচ-এর বিস্ময়কর ওষুধি গুণাগুণ: স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও রোগ নিরাময়ে প্রকৃতির এক অনন্য দান
- আকন্দফল লতা (Zanonia indica) এর পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও ঔষধি গুণাগুণ
- আকন্দ গাছের ১৩টি চমৎকার ভেষজ ও ঔষধি গুণাগুণ এবং উপকারিতা
- বিদ্যাপাতা বা কালীঝাঁট: পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও এর অবিশ্বাস্য ভেষজ গুণাগুণ
- বুইশাকফুল: এক রহস্যময় পরজীবী উদ্ভিদ ও এর অবিশ্বাস্য ভেষজ গুণাগুণ
- উচুন্টি গাছের ভেষজ গুণাগুণ, বৈজ্ঞানিক নাম ও অনন্য বৈশিষ্ট্য
- সাদা কড়ই বা লোহা শিরিষ গাছের বৈশিষ্ট্য ও বহুমুখী ব্যবহার: একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
- লাল পাতা চুকাই বা আফ্রিকান চুকাই (Hibiscus acetosella) এর পরিচিতি ও গুণাগুণ
- ওষধি উদ্ভিদ ভোলাটুকি বা ভেলা (Semecarpus anacardium) এর পরিচিতি ও গুণাগুণ
- দেশী ছোট এলাচ চাষ পদ্ধতি এবং এর চমৎকার স্বাস্থ্য উপকারিতা
- খুশি ফুল কি? জানুন বাংলাদেশের এই বিরল পাহাড়ি উদ্ভিদের সবকিছু
- নটে শাকের বৈজ্ঞানিক পরিচিতি, পুষ্টিগুণ ও ওষুধি ব্যবহারের বিস্তারিত নির্দেশিকা
- কাঁটানটে উদ্ভিদের পরিচয়, শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও ওষুধি ব্যবহার
- শিলারস গাছের পরিচিতি, প্রজাতি এবং মানবদেহে এর অনন্য ঔষধি গুণাগুণ
- শ্বেতফুলি বা সাদা ফুলি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য – Lepidagathis incurva
- কুতি কালাই-এর বিস্ময়কর উপকারিতা, ঔষধি গুণাগুণ, পরিচিতি ও চাষ পদ্ধতি: একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড
- পানি কেশুরী বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- চমসা পাথরকুচি এশিয়ায় জন্মানো বাহারী বিরুৎ
তথ্যসূত্র:
১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, সপ্তম মুদ্রণ ১৪২৬, পৃষ্ঠা, ২৬২-২৬৩।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: LiChieh Pan
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।