ভূমিকা: সাতিপাতা ( বৈজ্ঞানিক নাম: Molineria recurvata) হচ্ছে এশিয়ার ভেষজ প্রজাতি। এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের ঝোপে জঙ্গলে দেখা যায়।
সাতিপাতা-এর বর্ণনা:
দৃঢ় বীরুৎ, মূলাকার কান্ড কন্দাল। পত্র অত্যন্ত পরিবর্তশীল, ৩০-৯০ × ৭-১৫ সেমি, বল্লমাকার কুঞ্চিত, রোমশবিহীন বা অঙ্কীয় পৃষ্ঠ রোমশ ও শিরাল, বক্র, বৃন্ত খাঁজ যুক্ত, ৩০-৯০ সেমি লম্বা, নিম্নাংশ রোমশ, উপরের অংশ রোমশ বিহীন। ভৌমপুষ্পদন্ড ৭-৩০ সেমি লম্বা, দৃঢ় বা পাতলা, চাপা, মঞ্জুরীপত্র চমসা সদৃশ, বল্লমাকার, অতিরোমশ। পুষ্প হলুদ, সবৃন্তক, ঘন মঞ্জুরীপত্র শীর্ষ মঞ্জরীতে বিন্যস্ত, আড়াআড়ি ৫-১০ সেমি, পুষ্পপুট খন্ড ৬, বহিস্থ খন্ড সমূহের পেছন অতিরোমশ, চক্রাকার, অবৃন্তক। পুংকেশর ৬ টি, পুংদন্ড খাটো, পুষ্পপুট খন্ডের মূলীয় অংশ লগ্ন, পরাগধানী সংসঞ্জক। গর্ভপত্র ৩টি, গর্ভশীর্ষপুষ্পী, যুক্ত গর্ভপত্রী, গর্ভাশয় ৩-কোষী গর্ভমুণ্ড ক্ষুদ্র। ফল বেরি, ৬-৮ মিমি, ব্যাস বিশিষ্ট। বীজ কালো। ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:
পাহাড়ী ভূমি। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর। কন্দের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়।
বিস্তৃতি:
শ্রীলংকা, হিমালয়ের উষ্ণাঞ্চল (নেপাল থেকে পূর্ব দিকে) মায়ানমার, চীনের দক্ষিণাঞ্চল মালয় দ্বীপপুঞ্জ ও অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলায় পাওয়া যায়।
ব্যবহার: পাতা টুপি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১১ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) সাতিপাতা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে প্রজাতিটির আবাস্থল সংকটাপন্ন তবে এটি আশংকা মুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে সাতিপাতা সংরক্ষণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ উদ্যানে কিছু গাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।
তথ্যসূত্র:
১. এম এ হাসান, (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১১ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৬৮-৩৬৯ আইএসবিএন 984-30000-0286-0
আরো পড়ুন
- কেতুরী হলদি দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ায় জন্মানো কন্দ প্রজাতি
- শঠি বা শটি কন্দের নানাবিধি ভেষজ গুণাগুণের বিবরণ
- সটি বা ফইল্লা দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- হলুদ বাংলাদেশে জন্মানো জনপ্রিয় ও ভেষজ গুণসম্পন্ন মসলা
- কালা হলদি পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- আমাদা বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ভেষজ কন্দজ প্রজাতি
- কচু বাংলাদেশে জন্মানো জনপ্রিয় ও সহজলভ্য ভেষজ সবজি
- গাং কনুর বাংলাদেশে জন্মানো বহুবর্ষজীবী কন্দ বীরুৎ
- বিষ কনুর বাংলাদেশে পাহাড়ীঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- দেশি কনুর ভেষজ গুণসম্পন্ন বাহারি বিরুৎ প্রজাতি
- লম্বা ফানকচু দক্ষিণ পুর্ব এশিয়ার অরণ্য বিরুৎ
- চীনা বিষকচু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ
- খাড়া বিষকচু বাংলাদেশের ঝোপ-ঝাড়ে জন্মানো সংকটাপন্ন বিরুৎ
- বচ বাংলাদেশের জলাভূমিতে জন্মানো ভেষজ বিরুৎ
- ওল কচু দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষজীবী ভেষজ কন্দজাতীয় গুল্ম
- কলাবতী জলাশয়ের পাশে জন্মানো কন্দজাতীয় বিরুৎ
- বিট লোহা আর ফসফরাস সমৃদ্ধ ভেষজ গুণ সম্পন্ন সবজি
- মিষ্টি আলু নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে লতান বীরুৎ
- রসুন সারা দুনিয়ায় ব্যবহৃত জনপ্রিয় সবজি মসলা
- আদা হচ্ছে জিঞ্জিবার গণের ছোট কন্দজ ঔষধি বীরুৎ
- কেও বা কেঁউ গাছ: প্রকৃতিতে এক দৃষ্টিনন্দন ভেষজ ভাণ্ডার ও তার বহুমুখী ব্যবহার
- মুলা বা মুলোর সবজির পনেরটি ভেষজ উপকারিতা
- ওল বা ওলকচু খাওয়ার ষোলটি ভেষজ গুণাগুণ ও উপকারিতা
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Raffi Kojian
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।