পাথরকুচি বহুবর্ষজীবী ভেষজ গুণসম্পন্ন বিরুৎ

পাথরকুচি

বৈজ্ঞানিক নাম: Bryophyllum pinnatum (Lam.) Oken 159 (1966). সমনাম: B. Kalanchoe pinnata. ইংরেজি নাম: air plant, cathedral bells, life plant, miracle leaf,. স্থানীয় নাম: পাথরকুচি।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Saxifragales পরিবার: Crassulaceae গণ: Bryophyllum প্রজাতি: Bryophyllum pinnatum.

ভূমিকা: পাথরকুচি বা ( বৈজ্ঞানিক নাম: Bryophyllum pinnatum) হচ্ছে ক্রাসুলাসি পরিবারের ব্রায়োফাইলাম গণের একটি ঋজু, বহুবর্ষজীবী রসালো বিরুত। পাথরকুচি ছাড়াও এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত; যেমন – পাষানভেদী, শিলাভেদ, অশ্মঘ্ন, কোপ্পাতা, শ্বেতা, গাত্রচুরি, কফপাতা ইত্যাদি।

পাথরকুচি-এর বিবরণ:

হাত-চেটোর মতো পুরু পুরু শাঁসালো মসৃন পাতা, পাতার ধারগুলো খাঁজকাটা, শিরা একটু লালচে। কান্ড গোলাকৃতি নরম। বহুবর্ষজীবী ঝোপাকৃতি গাছের উচ্চতা ৩-৪ ফুট। শীতকালে ফিকে লাল-গোলাপী রঙের ফুল ফোটে। পূষ্পমঞ্জরী দেখতে অনেকটা আগেকার দিনের কার্বাইড গ্যাসের ঝাড়-বাতির মতো, ফুলগুলো নিচেরদিকে মুখ করে ঝুলে থাকে।

এই গণের (Genus) কয়েকটি প্রজাতি বর্তমানে এখানে পাওয়া যায়। ভারতের উষ্ণ অথবা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি জন্মে। তবে দেখা যায় কাঁকুরে মাটিতে গাছগুলি ভাল হয়। এর সংস্কৃত নাম পাষাণভেদ, বাংলায় প্রচলিত নাম কফপাতা ও হিন্দীতে জ্যাকমহায়াৎ নামে পরিচিত। বোটানিক্যাল নাম Kalanchoe pinnata Pers. পরিবারের নাম Crassulaceae. ব্যবহার্য অংশ— পাতা।

ভারতীয় উপমহাদেশের নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণ অঞ্চলে পাথরকুচি একসময়ে ছিল অতিসহজলভ্য একটি অমূল্য ভেষজ। আজকাল এটির ভিনদেশীয় নানা প্রজাতিকে আমরা টবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখি। এদিকে আসল পাথরকুচি গাছকে সমূলে ধ্বংস করে দিতে আমাদের এতটুকু হাত কাঁপে না। অথচ, অসাধারণ ভেষজগুণের পাশাপাশি সমগ্র গাছ, বিশেষ করে পাথরকুচির ফুল‌ও অত্যন্ত নয়নাভিরাম।

গুণাগুণ:

লাল পাথরকুচি পাতার রসে তিক্ত, পিচ্ছিল, কোমলতাকারক, ক্ষতনিবারক ও কীটনাশক।  পাতার রস চা-চামচের দু’ চামচ ও তার সঙ্গে এক চা-চামচ পরিমাণ ঘি মিশিয়ে খেলে আমাশায় রোগের উপশম হয়ে থাকে। তাছাড়া এই রস ঘি ও রসুন সহযোগে খেলে কাসরোগের প্রশমন হয়। বাহ্য প্রয়োগার্থ ব্রণক্ষতে, মাংসপেশী থেতলে গেলে ও বিষাক্ত কীটাদির বিষনাশে পাতা আগুনে ঈষৎ গরম করে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া দেহের কোন স্থানে কাটা গেলে তজ্জনিত ব্যথা-বেদনায় ও ফলায় উক্ত পাতার সেঁক ফলদায়ক। হাড় ভেঙ্গে গেলে পাতা বেটে তথায়, ব্রণস্থানে ও দূষিত ক্ষতে বেধে দিলেও সুফল পাওয়া যায়। কোন কোন প্রদেশে চোখের যন্ত্রণায়ও এর বাহ্য প্রয়োগ দেখা যায়।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৪, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা, ১৭৬-১৭৯।

Leave a Comment

error: Content is protected !!