ঘি খাওয়ার উপকারিতা

ঘি হলো দুধের ননী বা মাখন থেকে তৈরি হয়। বাঙালি অনেক সুস্বাদু রান্নায় সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি, শক্তি জোগান, ত্বক ও চুলের উন্নতিসহ নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে।

ননী : ননীকে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় নবনী বা নবনীত। কাঁচা দুধ মন্থন করনে ননী আলাদা হয়ে যায়। আয়ুর্বেদ মতে সদ্য তোলা টাটকা ননী, সুস্বাদু, মল ধারণ করে, গায়ের রং পরিষ্কার করে (বর্ণ প্রসাদক), ঠাণ্ডা, লঘু, মেধা বৃদ্ধি  করে, পুষ্টিকর, মস্তিষ্কের শক্তি খুব তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে তোলে। গরম তাপে গলিয়ে নিলে ননীর সব গুণ নষ্ট হয়ে যায়।

সুস্থ থাকতে ঘি-এর প্রয়োগ:

১.  রাতে শোওয়ায় সময় দুধ গরম করে তাতে একটু ঘি মিশিয়ে খেলে সকালে কোষ্ঠ সাফ হয়ে যায় ।

২. গাওয়া ঘিয়ের ফোঁটা নাকে দিলে অনেক সময় নাক থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

৩. গাওয়া ঘি ঘষলে হাত-পায়ের জ্বালা দূর হয় এবং গভীর ঘুম আসে । বৈঙ্গানিকদের মতে ঘি শরীরের শক্তি উৎপন্ন করে, দ্রবণীয় অংশ সঞ্চয় করে, এবং শর্করায় রূপান্তরি হয়ে (যকৃতের সাহায্যে অ্যামিনো অ্যাসিডের রূপে) কাজ করে। ঘি শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রিত করে এবং শরীরকে স্নেহযুক্ত করে অপ্রত্যঙ্গ রক্ষা করে। শুদ্ধ গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ‘ডি’ ‘ই আর কে আছে। .

পুরনো ঘি :  পুরনো বাত ও ব্যথায় এবং আরও অনেক অসুখে পুরানো ঘিয়ের মালিশ করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ মতে এক বছরের বেশি পুরানো ঘি ত্রিদোষ নাশক (কক, পিও, বাত) মূর্চ্ছা, কুষ্ঠ, বিষ, উন্মাদ, হিস্টিরিয়া, ছানি এবং অন্য চোখে রোগেরও উপশম করে। কানে ব্যথা বা শূল, শোথ, অর্শ, ব্রণ এবং যোনিদোষের পুরানো ঘিয়ে উপকার দেয়।

দুধ, তক্র, দুগ্ধজাত সবকিছুই শরীরের পক্ষে সুফলদায়ক। হুম শক্তি অনুশারে পরিমিত পরিমানে এর মধ্যে দু-একটি বেছে নিয়ে খেলে শারীরিক উন্নতি হবে।

তথ্যসূত্রঃ

১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা,৩৮-৩৯।

চিত্রের ইতিহাস: প্রবন্ধে ব্যবহৃত চিত্রটি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রী: Hartej.hundal

Leave a Comment

error: Content is protected !!