প্লীহা-এর সমস্যা সারানোর পাঁচটি উপায়

প্লীহা (spleen) হলো শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা বাম পাঁজরের খাঁচার নিচে, পেটের উপরের বাম দিকে অবস্থিত; এটি রক্ত ​​পরিশোধন করে, পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকা অপসারণ করে, শ্বেত রক্তকণিকা ও অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং রক্তের ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।

১ পাকা আম: পাকা আমের মিষ্টি রস ৭ থেকে ৮ চা চামচ মাত্রায় ২ থেকে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে প্লীহাবৃদ্ধি ও তজ্জনিত উপসর্গের উপশম হবে। তবে বায়ু প্রধান প্লীহা রোগেই এই পদ্ধতি ব্যবহার্য।

২. রয়না বা পিতরাজ: যেখানে দেহের এই দুটি যন্ত্র ভাল কাজ করছে এবং তার জন্য বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হচ্ছে;  সেখানে রয়না বা পিতরাজ ছাল ৪। ৫ গ্রাম এক কাপ গরম জলে ১০।১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেটা ছে’কে সকালে কিছু খাওয়ার পর খেতে হবে।

৩. শঠীমূল: যেখানে প্লীহার উপদ্রবে জ্বর হতে থাকে এবং তার বৃদ্ধিটা লক্ষণীয় হয়, সেখানে ৪। ৫ গ্রাম শঠীমূল চূর্ণ আধ কাপ গরম জলে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে, ওটাকে ছে’কে ওই জলটা খেতে হবে। এর দ্বারা জ্বর ও প্লীহা দুইই কমে যাবে।

৪. কুলেখাড়া: এটা আস্তে আস্তে বড় হয়ে চলেছে, তার আনুষঙ্গিক অন্যান্য লক্ষণগুলিও এসে পৌছচ্ছে, যেমন রক্তাল্পতা, আহারে অরুচি, দাস্ত অপরিষ্কার; সেক্ষেত্রে কুলেখাড়ার রস ৪/৫ চা-চামচ একট, গরম করে তার সঙ্গে ২০০ অথবা ২৫০ গ্রাম পিপুল চূর্ণ মিশিয়ে এক সপ্তাহ খেলেই এর উপকারিতা উপলব্ধি করতে পারবেন। অনেক প্রাচীন বৈদ্য এক্ষেত্রে কাঁচা দুধসহ পিপুল চূর্ণ খেতে দিয়ে থাকেন।

৪. পেঁপে: দুই চা চামচ কাঁচা পেঁপের আঠা ২ চা চামচ চিনি মিশিয়ে কিছুদিন ধরে দিনে তিনবার করে খেলে পিলের আয়তন ক্রমশ কমে যায়।

কাঁচা পেঁপে মোটা করে ছাড়িয়ে সেই ছালের ছোট ছোট টুকরা ভিনিগারে ডুবিয়ে কাচের বোয়ামে রেখে আচার তৈরি করতে হবে। এই খোসার ৭ থেকে ৮ টুকরা দিনে ২ বার করে খেলে অনেক সময় পিলের রোগ একেবারে সেরে যায়।

আরো পড়ুন:  পেটের সমস্যা সমাধানে দশটি ভেষজ উপায়

কাচা পেঁপের খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ভিনিগারে ডুবিয়ে কাচের বোয়ামে ভরে রেখে প্রথমে আচার তৈরি করতে হবে। এই আচার তিন থেকে চার টুকরা করে প্রতিদিন দুবার করে খেলে অনেক সময় কঠিন প্লীহা রোগ (পিলের অসুখ) সারে। পেঁপে শুকিয়ে গুঁড়া করে অল্প নুন মিশিয়ে খেলে দুরারোগ্য পিলের অসুখ সারে— এই ওষুধ পুরানো পেটের অসুখেও উপকারী।

পিলে ও লিভার বেড়ে যাওয়া, তার সঙ্গে জ্বর ও দুর্বলতার ওষুধ হিসেবে দিনে ও রাত্তিরে খাওয়া-দাওয়ার পর নিয়মিত ৫ থেকে ১০ ফোটা করে পেঁপের আঠা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৫. কুলের পাতা: কুলের কাঁচা পাতা তিলের তেলের সঙ্গে বেটে, ঐ বাটা জিনিসটা প্লীহার উপর মালিশ করতে হবে; অবশ্য অল্প একটু চেপে মালিশ করতে হয়, যাকে বলা যায় মৃদু চাপ। এটা কয়েকদিন করতে হবে। এই দ্রব্যের ব্যবহার চলাকালে দুধ খেতে হবে। ষষ্ঠ শতকের বাগভটাচার্য। আয়ুর্বেদ জগতের একজন দিকপাল।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩।

২. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Tim Tieu

Leave a Comment

error: Content is protected !!