তুমি শোনাও সভ্যতার ডাক

আমি একদিন বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে দেখেছি গাড়ি চালাতে চালাতে কেউ মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়েছে পাশের অষ্টাদশির দিকে, কেউবা দেখেছে চোখ টেরিয়ে পশ্চাতে সম্মুখে, দৃশ্যেরা আমার কাছে সুপার ইম্পোজ করা ছবির মতো মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে পরস্পরঃ ভালোবেসে দুজনের হাত ধরে পাশাপাশি নিরন্তর হাঁটাহাঁটি—সত্যি কি তাই? এ-পৃথিবীর নিবিড় সত্য ভালোবাসা বলে কিছু নাই। আমরা কেউ কেউ … Read more

পিতা-পুত্র

তীব্র অবজ্ঞা, উদাসীনতা ও রূঢ়তায় দগ্ধ এক নিমোর্হ অনভিক্ত অসংযত বালক কর্মহীন রাজপথে ভেসে গিয়ে পায় কুড়িয়ে লাল ত্যানায় মোড়া এক মুমূর্ষু কফিন; বালকের কচি মন ভেবে ভেবে হয়রান কী করবে সে সেই কাঠের কফিনখানি, কীভাবে কফিনে করে নিয়ে যাবে একসাথে এতো সব লাশ— বাপ দাদা নানী চাচা চৌদ্দ গোষ্ঠির?   সদুত্তরহীন ক্ষুব্ধ মনে বিষন্নতার … Read more

যুদ্ধবিরোধী কবিতা, ইরাক ২০০৩

ইতিহাসের রাজপথে আজ রাতে উড়ছে ধূলাবালি, মরুঝড়ে আটকা পড়ে থমকে গেছে কিছুক্ষণ ট্যাঙ্কের অগ্রাভিযান, তবুও যুদ্ধ তার শক্ত পিঠে উড়ায় পদচিহ্ন, গেঁথে নেয় শরীরে মৃত আর জীবিতের ভুলগুলি; জঙ্গি বিমানের ককপিট হতে যারা উড়ে এসে দূরে বসে প্রাণ দিলো বলি যাদের নির্দেশে— তাদের হৃদপিন্ডে শুধু রক্ত ঝরানোর রক্ত আছে; তাদের আঙুলে আছে অমোঘ শক্তি, তাদের … Read more

সভ্যতায় পৃথিবী, ২০০৩

ইথারে খবর আসে ‘কারফিউ, দেখামাত্র গুলি’ প্রেমিক শুধায় ‘প্রেমের কি হবে?’ প্রেমিকা ঘাড় বাঁকা করে বেশ কিছুক্ষণ পরে দেয় সমিল জবাব ‘জীবনবিহীন হৃদয়ের টান লাগে নাক ভালো’ তারপর নিঝুম অন্ধকার ও কথার বিরতি অনন্তকাল; মাঝে মাঝে বিজলির চমক দেখায় বোমারু বিমান ও সতেজ সভ্যতা; কাদের মৃত্যু দিয়ে কারা যেন সবিরাম ইতিহাস লিখে?   নলখাগড়া ও … Read more

অনন্যা

তুমি নতুন গর্জে ওঠা শহরের মাঝখানে আমাদের কিংবদন্তি, ইতিহাসের অগ্নিগোলকের শক্তিমান উজ্জ্বল ভাস্কর্য, অসীমের ঘরে জীবন্ত রোমান্টিক স্রোত; তুমি বিছিয়েছ হা-ঘরেদের জন্য শেষ অস্তিত্বে রাতের শয্যা, তোমার একটি কথায় নড়ে উঠেছে মহাবিশ্ব, তোমার কথার পূর্বে পৃথিবীতে ছিল মৃত্যু উপত্যকা, তোমার কথার পরের পৃথিবী অন্য আলোয় ভরা, তোমার  ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে আসমুদ্রহিমাচল, তোমার চোখের চাহনি দেখে … Read more

বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের জীবনযাপনে জটলা

বনবন ঘোরা থেকে মাথা বড় কষ্টে সুস্থির হয় অন্ধকারে, চিন্তার গতিবেগ শূন্যতায় নেমে যায়, দিনাতিপাতের পরে আবার বাড়ে এক ফালি হিসেব নিকেশ দৈনন্দিন হাজিরা ও অনুপস্থিতির গড়;   কবেকার বস্তির দলা পাকানো জঙ্গলে জন্মেছিলো আমার উৎসাহহীন ভ্রুণ, তারপর অবিরাম পথচলা রাজপথ অলিগলি জংলি ইট কাঠ রড টিন সিমেন্ট মেলায়; উদ্যান চোখেও দেখেনি কারো দাদা, আমি … Read more

মৃত্যু এসে নিয়ে যাক শৃঙ্খলিত প্রাণ

জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই জন্মেছো তুমি, উঠেছো বেড়ে কন্টকাকীর্ণ সুবিস্তীর্ণ জনমানববহুল মাঠে, তোমার মাথার উপরে গভীর পুঁজভর্তি সাদা আকাশ, প্রভাত সূর্য অতিরুগ্ন বৃদ্ধের মতো লাঠি ধরে এগিয়ে আসে ঘন দেয়ালের ভিতর দিয়ে, অথচ তুমি জানো না আজো এদেশে রাত্রি নামে ঘুষখোরের মতো বীরদর্পে, তোমার মহানিয়ন্ত্রককে তুমি চোখে দেখোনি কিন্তু উপনিয়ন্ত্রকের পা টিপে দাও, গোসল করাও, … Read more

তৃতীয় পক্ষের গমনাগমন

ক্ষণে ক্ষণে টের পাই তোমার ত্রিসীমানায় আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ে আছি; পথ নেই ছেড়ে যাবার; ইতিহাস শিক্ষা দেয় একদিন প্রয়োজন ফুরাবে, কেননা ইতিহাস সবকিছু পাঠায় ধ্বংসকুপে তুমি-আমি-কংকাল-রাজপ্রাসাদ-সভ্যতা-কৃষ্ণগহ্বর; ইতিহাস পাঠায় ধ্বংসকুপে মরণের স্পন্দনে চলমান প্রাণের ঘূর্ণায়মান সুতা ছিঁড়ে ছুটে চলা অবিরাম বিড়বিড় আউলা প্রলাপ বকা ঘুড়ি। সেই ঘুড়ি আমার ছাদ হতে পৌঁছে যায় তোমার অলিন্দে; আমাকে পৌঁছে … Read more

ঘেউ ঘেউ স্বপ্ন অথবা উজবুক

জমে আছে মাথার ক্ষতস্থানে জমাট রক্তপিন্ডের মতো কালচে বিষাদ, বুকের বেয়াড়া রোগে কাবু হয়ে বসে থাকি ব্যাঙের প্রস্তরমূর্তি, উপপাত্র বাঁকা হাসির;— নাম নেই; শালা গাধা, বলির পাঁঠা, দুবর্গ ইঞ্চি জমির অস্থায়ি মালিক, চেয়ার টেবিলবিহীন মাটিতে বসে খাই, তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, ফিকফিক হাসি হঠাৎ, কোলাহলহীন শব্দহীন অর্থহীন অচিননগরে   অকাজ বা কাজ— ইটভাঙা হাড়িভাঙা ঘুমভাঙা ডিমভাঙা … Read more

প্রশ্নহীন পোড়াবৃক্ষ

একা শহরে দাঁড়িয়ে আছি আমি বাজ পড়ে পুড়ে যাওয়া পাতাহীন গাছ, কখনো নড়ে উঠি ভুকম্পনে কিংবা দেখি কখন বেখেয়ালে ঘুনপোকা খেয়েছে কেন্দ্রিয় শাঁস, পাঁজরের অবকাঠামো; ক্ষণিক বৃষ্টি হলে জংধরা ডালপালা ঝরঝর ঝরে পড়ে, প্রবল হাওয়ার লুকোচুরি হাড়ে লাগায় টক্কর, চিন্তাজ্বরে কেঁপে কেঁপে মৃত্যুর সাথে লড়ি বিশ্রী বামন; বিদ্রোহি ক্রীতদাসের বেড়ি পরানো দুপায়ের মতো আমার আয়ু … Read more

error: Content is protected !!