বন কাঞ্চন দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ

বৃক্ষ

বন কাঞ্চন

বৈজ্ঞানিক নাম: Bauhinia malabarica Roxb., Fl. Ind. ed. 2, 2: 321 (1832). সমনাম: Bauhinia acida Reinw. ex Korth. (1841), Bauhinia castrata Hassk. (1842), Bauhinia platyphylla Zip. ex Miq. (1855). ইংরেজি নাম: Malabar Bauhinia। স্থানীয় নাম: করমি, আমলি, আমলোসা, বনকাঞ্চন, নানকি, ঝাঙ্কি। কাঞ্চন।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Fabales. পরিবার: Fabaceae. গণ: Bauhinia  প্রজাতির নাম: Bauhinia malabarica

ভূমিকা: বন কাঞ্চনন (বৈজ্ঞানিক নাম: Bauhinia malabarica) ফেবাসিস পরিবারের একটি এক প্রকারের বৃক্ষ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশে জন্মে।

বন কাঞ্চন- এর বর্ণনা:

বন কাঞ্চন পর্ণমোচী বৃক্ষ। এই গাছটি ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গাছের বাকল পুরু, রৈখিক-শঙ্কাকারে পতনশীল, শাখা-প্রশাখা রোমশ বা রোম বিহীন।

পত্র সরল, একান্তর, সহপত্রী, উপপত্র ২ টি, ২-৩ মিমি লম্বা, রৈখিক, সূক্ষ্মাগ্র, আশুপাতী, ফলক ডিম্বাকার থেকে গোলাকার, ৪৮ সেমি প্রশস্ত,

মূলীয় অংশ কর্তিতাগ্র থেকে তাম্বুলাকার, উপরের পৃষ্ঠ রোম বিহীন, অঙ্কীয় পৃষ্ঠ রোমশ থেকে রোম বিহীন এবং চকচকে (শুষ্ক অবস্থায় সাদা), বৃন্ত ২-৪ সেমি লম্বা, সূত্রাকার, রোমশ,

মঞ্জরীপত্র ১ টি, ক্ষুদ্র কৌণিক, মঞ্জরীপত্রিকা ক্রমান্বয়ে হ্রাসপ্রাপ্ত। পুষ্প মুকুল মুষলাকৃতি, রোমশ, ৬-১০ মিমি লম্বা। পুষ্পধার ৩৫ মিমি লম্বা, কৌণিক।

বৃতি নালিকাকার, উপরের অংশ ৩৫ খন্ডিত। পাপড়ি সাদা, দীর্ঘায়ত, দলবৃন্ত খাটো, প্রায় ১০ মিমি।

পুংকেশর ১০ টি, উর্বর, পাপড়ি অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর বহি:আবর্ত অন্ত:আবর্তের চেয়ে দীর্ঘতর, পুংদন্ড রোমশ, পরাগধানী দীর্ঘায়ত।

গর্ভাশয় সদন্ডক, ঘনক্ষুদ্র কোমল রোমশ, ৫-৬ সেমি লম্বা, গর্ভমুন্ড ছত্রবদ্ধ। ফল পড, ২০-৩০ x ১.৫-২.০ সেমি, জিহ্বাকৃতি, ঠোট লম্বা, সোজা, চর্মবৎ, রোম বিহীন, রেখান্বিত, অবিদারী। বীজ প্রতি পডে ১০-৩০ টি, প্রায় ৭ x ৪ মিমি, দীর্ঘায়ত।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

সুনিষ্কাশিত বিভিন্ন আবাসযোগ্য জমি। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল সেপ্টেম্বর-এপ্রিল। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে।

আরো পড়ুন:  দেশী ছোট এলাচ বা মধুনিক্কন দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ বিরুৎ

বন কাঞ্চন- এর বিস্তৃতি:

অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, কম্বোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের সব জেলায় জন্মে।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার:

ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে পাতা খাদ্যরূপে ব্যবহৃত (Gamble, 1992)। ইন্দোচীন ও ফিলিপাইনে সজীব ফুল পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি আমাশয় রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা করা হয় (Caius, 1989)।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বন কাঞ্চন  প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে বন কাঞ্চন  সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. বি এম রিজিয়া খাতুন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৯১-৯২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!