বাঁকানো লতা ঢেকিয়া এশিয়ার ভেষজ লতা

বাঁকানো লতা ঢেকিয়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Lygodium flexuosum (L.) Sw. in Schrad. J. Bot. 1800(2): 106 (1801). সমনাম Ophioglossum flexuosum L. (1753). ইংরেজি নাম : ক্লাইম্বিং ফার্ন। স্থানীয় নাম : বাঁকানো লতা ঢেকিয়া।  
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Polypodiophyta. অবিন্যাসিত: Polypodiopsida. বর্গ: Schizaeales. পরিবার: Lygodiaceae. গণ: Lygodium প্রজাতির নাম: Lygodium flexuosum

ভূমিকা: বাঁকানো লতা ঢেকিয়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Lygodium flexuosum) হচ্ছে  এক প্রকারের ভেষজ লতা। এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।

বাঁকানো লতা ঢেকিয়া-এর বর্ণনা:

গ্রন্থিকন্দ স্বল্প-লতানো এবং মূল অথবা রোম দ্বারা ঘনভাবে আবৃত। পত্রদন্ড দুইটি খুব কাছাকাছি, গ্রন্থিকন্দের শীর্ষ গাঢ় বাদামী হতে প্রায় কালো রোম দ্বারা আবৃত। তরুণ পাতা এক অথবা দুইবার দ্ব্যগ্র শাখান্বিত, প্রতিটি শাখা একটি মাত্র পত্রক বহণকারী, পত্রক গভীর আ করতলাকার ৩-৭ খন্ডযুক্ত, খন্ডগুলি প্রায় সমান, পুরো পত্রকের গোড়া হৃৎপিন্ডাকার, প্রান্ত খাঁজযুক্ত এবং কখনো কখনো সভঙ্গ-খন্ডিত। দুষ্প্রাপ্য পাতার পত্রকঅক্ষ সরু ডানাযুক্ত, দুই ডানার মধ্যে উপরের পৃষ্ঠ চ্যাপ্টা এবং অণুরোমশযুক্ত, প্রাথমিক পত্রকঅক্ষ শাখা ৩ মিমি লম্বা (নিচেরগুলি সবচাইতে লম্বা), সুপ্ত শীর্ষ হালকা বাদামী রোম দ্বারা আবৃত, গৌণ পত্রকঅক্ষ শাখা পক্ষল হতে – কিছুটা দ্বি-পক্ষল, সরু ডিম্বাকার হতে ত্রিকোণাকার, সাধারণতঃ প্রায় ১৫ সেমি লম্বা এবং ৮ সেমি চওড়া, নিচের শাখার অনুর্বর পত্রক করতলাকার, গোড়া সুস্পষ্ট হৃৎপিন্ডাকার, উপরের গৌণ শাখা উভয় দিকে ৩-৫টি (কখনো কখনো ৭টি) এবং শীর্ষে একটি পত্রক বহনকারী, শীর্ষ এবং নিচের পত্রকগুলি বৃন্তযুক্ত, উপরের অবৃন্তক ফলক  কিছুটা পাতলা, শিরা সাধারণতঃ বিক্ষিপ্ত লম্বা রোমযুক্ত, মাঝে মাঝে নিচের পৃষ্ঠে বিক্ষিপ্ত খাটো রোমযুক্ত, কখনো কখনো ফলকও একই রকম রোমযুক্ত, উর্বর পত্রক অনুর্বর পত্রকের চাইতে ছোট। রেণু সূক্ষ্ম গুটিযুক্ত।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: n = ৬০ (Abraham et al., 1962) ।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

আরোহী ফার্ন আগাছা হিসাবে সবখানে জন্মায়। বংশবিস্তার হয় গ্রন্থিকন্দ এবং রেণু দ্বারা।

আরো পড়ুন:  সুরিঞ্জান-এর নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ

বিস্তৃতি:

ভারত, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, দক্ষিণ চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ। বাংলাদেশে ব্যাপক বিস্তৃত (Mirza and Rahman, 1997)।

ব্যবহার:

বাংলাদেশে ময়মনসিংহ, সিলেট এবং পঞ্চগড় জেলায় আরোহী পত্রদন্ড মাছ ধরার ঝুড়ি তৈরীতে এবং শোভাবর্ধন সামগ্রী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। জাতিতাত্ত্বিক ব্যবহারের মধ্যে পাতা শ্লেষ্মা নিঃসরণ এর ঔষধ হিসাবে এবং মূল বাত, খোসপাঁচড়া, চুলকানি, ক্ষত এবং বিষফোড়ায় চামড়ার বাইরে প্রয়োগ করা হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৫মখণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বাঁকানো লতা ঢেকিয়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে বাঁকানো লতা ঢেকিয়া সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। 

তথ্যসূত্র:    

১. মমতাজ মহল মির্জা (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৫ম, পৃষ্ঠা ২৫৯-২৬০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি tropical.theferns.info থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Daderot

Leave a Comment

error: Content is protected !!