বেয়ারের ভুতিহাঁস বিশ্বে মহাবিপন্ন এবং বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Aythya baeri সমনাম: Anas baeri Radde, 1863 বাংলা নাম: বেয়ারের ভুতিহাঁস, ইংরেজি নাম: Baer’s Pochard. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Aythya, Boie, 1822; প্রজাতি/Species: Aythya baeri (Radde, 1863)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায়  Aythya গণে পৃথিবীতে রয়েছে ১২টি প্রজাতি এবং বাংলাদেশে রয়েছে ৫টি প্রজাতি। সেগুলো হচ্ছে, ১. বেয়ারের ভুতিহাঁস, ২. পাতি ভুতিহাঁস, ৩. টিকি হাঁস, ৪. বড় স্কপ ও ৫. মরচেরঙ ভুতিহাঁস। আমাদের আলোচ্য এই হাঁসটি হচ্ছে বেয়ারের ভুতিহাঁস।

বর্ণনা: বেয়ারের ভুতিহাঁস মাঝারি আকারের তামাটে-বাদামি হাঁস (দৈর্ঘ্য ৪৬ সেমি, ডানা ২২ সেমি, ঠোঁট ৫ সেমি, পা ৩ সেমি, লেজ ৭ সেমি)। প্রজননকালে ছেলেহাঁসের মাথা চকচকে কালো ও ঘাড়ে সবুজাভ দীপ্তি রয়েছে; বুক মেহগনির মত বাদামি, বগল অনুজ্জ্বল তামাটে এবং পেট ও লেজের নিচের পালক সাদা। কালচে আগা ও নখসহ ঠোঁট স্লেট-নীল; চোখ সাদা বা সোনালী-হলুদ, পা ও পায়ের পাতা ধূসর কিন্তু অস্থি সন্ধি এবং আঙুলের-পর্দা মলিন। প্রজননকাল ছাড়া ছেলেহাঁসের মাথা অনুজ্জ্বল ও চোখ সাদা। উষ্ণ বাদামি বুক ও ঠোঁটের গোড়ায় বিচ্ছিন্ন তামাটে-বাদামি তিলা ছাড়া তরুণ ছেলে ও মেয়েহাঁসের চেহারা অপ্রজননশীল পুরুষহাঁসের মত; তবে, মেয়েহাঁসের চোখ বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির অনুজ্জ্বল দেহ, অতি তামাটে-বাদামি মাথা ও ঘাড়ের তিলাবিহীন অংশ ছাড়া দেখতে মেয়েহাঁসের মত।

স্বভাব: বেয়ারের ভুতিহাঁস হাওর, জলাশয় ও হ্রদে বিচরণ করে; দলে থাকে এবং শীতকালীন আবাসে অন্যান্য ডুবুরি হাঁসের দলে দেখা যায়। অগভীর পানিতে ডুব দিয়ে খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ বস্তু; কিন্তু এদের পছন্দের আহার্য ও খাবার গ্রহণের কৌশল এখনও ভালোভাবে জানা যায়নি। শীতকালীন আবাসে এরা সাধারণত নীরব ও ভয়ার্ত থাকে এবং সর্তকতার সঙ্গে চলাফেরা করে। গ্রীষ্মে প্রজননকালে উত্তর-পূর্ব চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব সাইবেরিয়ায় এরা র্ককশ গলার ডাকে: গ্র্যাক..; এবং জোড়ায় জোড়ায় অথবা বিচ্ছিন্ন ছোট দলে মাটিতে বাসা করে ডিম পাড়ে। ডিমের সংখ্যা ৬-১০টি; ২৭দিনে ডিম ফোটে।

আরো পড়ুন:  পাতি শরালি বিশ্বে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

বিস্তৃতি: বেয়ারের ভুতিহাঁস বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি; প্রধানত সিলেট বিভাগের হাওরে শীতকালে বিচরণ করে; ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে পাওয়ার তথ্য আছে। দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন ও জাপানে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: বেয়ারের ভুতিহাঁস বিশ্বে মহাবিপন্ন পাখি হিসেবে বিবেচিত। এই প্রজাতিটি মহাবিপন্ন হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে কারণ প্রজনন এবং শীতকালীন ভিত্তিতে উভয় সংখ্যার গণনায় এদের দৃশ্যমানভাবে অত্যন্ত দ্রুত সংখ্যা কমেছে। এদেরকে বর্তমানে দেখা যায় না এদের প্রাক্তন প্রজনন এবং শীতকালীন পরিযায়নের এলাকায়। এদের সংখ্যা খুবই কমে গেছে এবং প্রায়ই দেখা যায় না এবং এটা ভাবা হয় যে আবাসস্থল ধ্বংস এবং পাখি ও ডিম উভয়ই আহরণ হচ্ছে এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে মহাবিপন্ন (Critically Endangered CE) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: বেয়ারের ভুতিহাঁসের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বেয়ারের সিন্ধুবিহঙ্গ ( গ্রীক : aithuia = সামুদ্রিক পাখি – এরিস্টটলের উল্লেখানুসারে ; baeri = কার্ল আর্নস্ট ফন বেয়ার, ১৭৯২-১৮৭৬, পারস্যের ভ্রুণতত্ত্ববিদ, ভূগোলবিদ ও অনুসন্ধানকারী)।

তথ্যসূত্র:

১. এম আনোয়ারুল ইসলাম ও  এম কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ২৮-২৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Aythya baeri“, http://www.iucnredlist.org/details/22680384/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৯ আগস্ট ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫০।

Leave a Comment

error: Content is protected !!