সাদা ঢেকিয়া ভেষজ গুণসম্পন্ন ফার্ন

সাদা ঢেকিয়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Helminthostachys zeylanica (L.) Hook., Gen. Fil.: t. 47 (1840). সমনাম: Osmunda zeylanica L. (1753). ইংরেজি নাম: ফার্ন। স্থানীয় নাম: সাদা ঢেকিয়া।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Polypodiophyta. অবিন্যাসিত: Polypodiopsida. বর্গ: Ophioglossales. পরিবার: Ophioglossaceae. গণ: Helminthostachys প্রজাতির নাম: Helminthostachys zeylanica

ভূমিকা: সাদা ঢেকিয়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Helminthostachys zeylanica) হচ্ছে ওফিওগ্লোসেসি পরিবারের হেলমিন্টোস্টাচিস গণের এক প্রকারের ফার্ন। এই প্রজাতিটি দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মায়।

সাদা ঢেকিয়া-এর বর্ণনা:

সাদা ঢেকিয়া একটি স্থলজ ফার্ন। যার গ্রন্থিকন্দ সরস, অসংখ্য সরস মূলবহনকারী, স্টাইপ সরস, সবুজ অথবা ধূসর বর্ণের, প্রায় ২০-৩০ সেমি লম্বা। পাতা খাড়া উর্বর স্পাইকসহ ত্রিপক্ষীয় ফলক (ল্যামিনা) দ্বারা গঠিত। ফলক প্রায় সমান ত্রিপার্শ্বীয়, এর নিচে পার্শ্বীয় পত্রক বৃন্তবিহীন এবং প্রায়শ: চওড়া পর্বলগ্ন, পুরো ফলক প্রায় ১২-৩০ সেমি লম্বা, ফলক ১০ – ১৮ সেমি লম্বা এবং ২-৪ সেমি চওড়া, সরু হয়ে কীলকাকৃতি গোড়া এবং দীর্ঘাগ্রী শীর্ষে পরিণত, প্রান্ত অখন্ড অথবা সামান্য অনিয়মিত দপ্তর, বয়ন পাতলা, মধ্যশিরা উপরে খাঁজযুক্ত এবং নিচে উত্তোলিত, পার্শ্বীয় শিরা যুক্ত, তীর্যক, সূক্ষ্ম। এক বা দ্বি-স্বরিত্র, মুক্ত। বৃত্তসহ স্পাইক কখনো কখনো ফলক এর চাইতে বড়। স্পাইক সমাকীর্ণ বৃন্তহীন রেণুস্থলী এবং শীর্ষে একটি ছোট অনুর্বর খন্ড বিশিষ্ট।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: n = ৯৪ (Wagner, 1990), ২n = ১৮৮ (de Winter and Amoroso, 2003) ।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

নদীর পাড়ে ভেজা স্যাঁতসেঁতে জায়গা, অধিক জৈবস্তুপ বিশিষ্ট মাটি। গ্রন্থিকন্দ এবং রেণু দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

বিস্তৃতি:

ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ চীন এবং তাইওয়ান, দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়া হতে গ্রীষ্মমন্ডলীয় অস্ট্রেলিয়া এবং পশ্চিম প্যাসিফিক অঞ্চল। বাংলাদেশে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং সুন্দরবন অরণ্য (Mirza and Rahman, 1997) ।

সাদা ঢেকিয়া-এর উপকারিতা:

খাদ্য, তন্ত্র এবং ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কচি পাতা রান্না করে তরকারী অথবা কাঁচা অবস্থায় সালাদ হিসাবে খাওয়া হয়। কচি বৃত্ত রান্না করা, সাজানো এবং অ্যাসপারাগাস এর মত খাওয়া যায় (deWinter and Amoroso, 2003)। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ফিলিপাইনে H. zeylanica বাজারে প্রচুর পরিমানে বিক্রি হয় (deWinter and Amoroso, 2003) ।

আরো পড়ুন:  পাহাড়ি শিয়াল বুকা অরণ্যে জন্মানো ফলজ ও ভেষজ গুনসম্পন্ন বৃক্ষ

জাতিতাত্ত্বিক ব্যবহার:

জাভায় গ্রন্থিকন্দ (রাইজোম) আমাশয়, সর্দি, শ্লেষ্মা এবং ফুসফুস আক্রমণকারী প্রাথমিক অবস্থার যক্ষায় ব্যবহার করা হয়। মলাক্কাতে রাইজোম মৃদু জোলাপ হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং হুপিং কাশির জন্য পান এর সাথে খাওয়া হয়। মালয়েশিয়ায় এটিকে একটি বলকারক হিসাবে গণ্য করা হয় এবং সাকাই জাতি এটিকে সিফিলিস এর চিকিৎসায় ব্যবহার করে। ফিলিপাইনে ম্যালেরিয়ায় এবং ভারতে কটির বাতরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় (deWinter and Amoroso, 2003)

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ০৫ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) সাদা ঢেকিয়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বন ধ্বংসের কারণে বাংলাদেশের এটি সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে সাদা ঢেকিয়া সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ মহল মির্জা (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ০৫ম, পৃষ্ঠা ২৩৯-২৪০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Vinayaraj

Leave a Comment

error: Content is protected !!