ভূমিকা: অশ্বথ হচ্ছে তুঁত বা মোরাসি পরিবারের ফাইকাস গণের একটি বৃহদাকার বৃক্ষ। বট ও অশ্বথ পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
বিবরণ
অশ্বথ বটের মতো বড় আকারে বৃক্ষ। অশ্বত্থ গাছ ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। কাণ্ড নাতিদীর্ঘ ও শাখা বড় হয়।এর কান্ড ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। শীর্ষ ছত্রাকৃতি এবং বাকল ধূসর বর্ণের। শাখা মাটি সমান্তরালে প্রসারিত হয়। পাতা পাতলা চামড়ার মতো ও এর উপরিভাগ উজ্জ্বল। বৃন্ত লম্বা হয় আর এর অগ্রভাগ ক্রমশ সরু আকৃতির। বৃন্তদেশ হৃৎপিণ্ড আকারের হয় এবং পাঁচ থেকে সাতটি শিরা থাকে।[১] এর ফুলগুলো ফলের ভেতরে লুকানো থাকে। এর পাতা দেখতে আকারে পান পাতার মতো ও ঘন সবুজ; ডগায় পাতার লম্বা লেজ থাকে। পাতা ১০ থেকে ১৭ সেমি লম্বা হয় এবং ৮ থেকে ১২ সেমি চওড়া হয়। শীতকালে এরপাতা ঝরে যায়, বসন্তকালে কচি পাতা হয় দেখতে তামাটে রঙের। ফল ডুমুরের মতো হলেও পাকা বেগুনি রঙের হয়ে যায়;কাচা অবস্থায় ফল সবুজ; ফলের আকার ১ থেকে দেড় সেমি। এই গাছ তলায় অল্প বাতাসেও ঝমঝম আওয়াজ শোনা যায়।
বাংলা তথা সমগ্র ভারতের জনসাধারণের কাছে অশ্বত্থ গাছ পরিচিত একটি বৃক্ষ। এই গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Ficus religiosa Linn ও পরিবার Moraceae. এ ধরনের আর একটি গাছ হয়, সেটির প্রচলিত নাম নন্দীবৃক্ষ বা গয়া অশ্বত্থ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ficusrumphii Blume, সমগ্র পৃথিবীতে এই ফ্যামিলির প্রায় ৬ooটি প্রজাতি (Species) থাকলেও ভারতবর্ষে ১১২টি প্রজাতি বর্তমান। একে হিন্দিভাষী অঞ্চলে বলে থাকে পিপ্পল গাছ। সংস্কৃত নাম ক্ষীরন্দ্রুম, গজভক্ষ্য।
চাষ পদ্ধতি:
অশ্বত্থ গাছে গ্রীষ্মকালে ফুল এবং বর্ষাকালে ফল হয়। চৈত্র মাসে অশ্বত্থবক্ষ পত্রশূন্য হয় এবং বৈশাখে আবার নতুন পাতায় ভরে যায়। তারপরেই হয় ফল এবং বর্ষার শেষে ফল পেকে যায়। ছায়াতরু হিসেবে অশ্বত্থ রাস্তার ধারে রোপণ করা হলেও উপযোগিতায় বটগাছের সঙ্গে তার তুলনাই হয় না। তবে বট, অশ্বত্থ,পাকুড় প্রভৃতি যাদের গুপ্তবীজ, সেইসব গাছের তলায় বহু ফল পড়ে থাকলেও সেই সব ফলের বীজ থেকে চারা হ’তে দেখা যায় না; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাঙ্গা বাড়ির ফাটলে বা কার্ণিসে এর চারা দেখতে পাই, কারণ যেসব পাখি এসব ফল খায়, তাদের উদরের মধ্যে যে তাপ আছে, হয়তো জননোপযোগী বীজগুলিই কেবল তারই দ্বারা অঙ্কুরিত হবার যোগ্য হয়। দেখা যাচ্ছে এই ফ্যামিলির বীজের অঙ্কুরোদগমের ইনকিউবেটর যেটা Incubator: ডিম ফোটাবার যন্ত্র। এইসব পাখির উদর।[২]
বিস্তৃতি: আদিবাস শ্রীলঙ্কা, ভারত ও বাংলাদেশ।
ব্যবহার:
ক্ষত ও যন্ত্রণায় এর পাতা বেঁধে রাখলে পুঁজ পড়া কমে। যন্ত্রণা উপশম হয় । ছাল গনোরিয়া নাশক। ফল মৃদু বিরেচক ও পরিপাক ক্রিয়ার সাহায্যে করে। বীজ স্নিগ্ধকর ও ক্রিমিদোষ নাশক।[১]
মন্তব্য: হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পবিত্র বৃক্ষ।
তথ্যসূত্রঃ
১. শেখ সাদী; উদ্ভিদকোষ, দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০০৮, পৃষ্ঠা ৪২।
২. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য, চিরঞ্জীব বনৌষধি‘ খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা, ১৭৮-১৮১।
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke
- পানি কেশুরী বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- বড়কুচ পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ময়নাকাঁটা বাংলাদেশে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- নাগেশ্বর পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- কুমারি বুড়া দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো উপকারি বৃক্ষ
- সিন্দুরি গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রে জন্মে
- শাল গাছ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ছোট জাগরা বাংলাদেশের পাহাড়ীঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- দেশি জাগরা দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ বৃক্ষ
- ভল্লা পাতা জাগরা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- বড় কুকুরচিতা চিরহরিৎ ভেষজ বৃক্ষ
- বড়হরিনা ভেষজ গুণসম্পন্ন ম্যানগ্রোভ বৃক্ষ
- পুবদেশি বনচালতা বাংলাদেশের ভেষজ উদ্ভিদ
- পলক জুঁই সুগন্ধি আলংকারিক বৃক্ষ
- গন্ধাল রঙ্গন দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ছোট বৃক্ষ
- গোমরিয়া গামার পার্বত্যঞ্চলের ভেষজ বৃক্ষ
- চালমুগড়া বা ডালমুগরি পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- ঝাউয়া বাংলাদেশের পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো উপকারী বৃক্ষ
- স্থল পদ্ম গ্রীষ্মমন্ডলে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ
- হরপুল্লি বাংলাদেশে পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো বৃক্ষ
- দাকুম দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো পত্রঝরা বৃক্ষ
- পানিসরা বা পিচান্দি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের উপকারী বৃক্ষ
- ফলসা দক্ষিণ এশিয়ার জন্মানো ভেষজ বৃক্ষ
- দেশি কার্পাস এশিয়ায় জন্মানো বর্ষজীবী বৃক্ষ
- দেশি কচুয়া পূর্ব এশিয়ায় জন্মানো চিরহরিৎ বৃক্ষ
- অরনি বা বাতঘ্নী এশিয়ায় জনানো ভেষজ উদ্ভিদ
- চিল্লা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ গাছ
- স্বর্ণমূলা এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ
- সপ্তরঙ্গী-এর ভেষজ গুণ সম্পন্ন বৃক্ষ
- মায়াফল গাছ-এর তেরটি ভেষজ গুণাগুণ
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।