[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Aythya nyroca সমনাম: Anas nyroca, Guldenstadt, 1770 বাংলা নাম: মরচেরঙ ভুতিহাঁস ইংরেজি নাম: Ferruginous Duck (Ferruginous Pochard, White-eyed Pochard). জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Aythya, Boie, 1822; প্রজাতি/Species: Aythya nyroca (Guldenstadt, 1770)[/otw_shortcode_info_box]
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Aythya গণে পৃথিবীতে রয়েছে ১২টি প্রজাতি এবং বাংলাদেশে রয়েছে ৫টি প্রজাতি। সেগুলো হচ্ছে, ১. বেয়ারের ভুতিহাঁস, ২. পাতি ভুতিহাঁস, ৩. টিকি হাঁস, ৪. বড় স্কপ ও ৫. মরচেরঙ ভুতিহাঁস। আমাদের আলোচ্য এই হাঁসটি হচ্ছে মরচেরঙ ভুতিহাঁস।
বর্ণনা: মরচেরঙ ভুতিহাঁস তামাটে মাথা,বুক ও বগলওয়ালা কালচে বাদামি হাঁস (দৈর্ঘ্য ৪১ সেমি, ওজন ৬০০ গ্রাম, ডানা ১৮.৫ সেমি, ঠোঁট ৩.৯ সেমি, পা ৩.১ সেমি, লেজ ৫.৫ সেমি)। প্রজননশীল ছেলেহাঁসের পিঠ ঘন বাদামি। মাথা, ঘাড় ও বুক অতি তামাটে এবং লেজতলের কোভার্ট সাদা। ঠোঁট অনুজ্জ্বল স্লেট-রঙের বা নীলচে-কালো। চোখ সাদা বা হলুদ। পা ও পায়ের পাতা ধূসর বা সবুজ, তবে মধ্যে মধ্যে সন্ধিস্থলে চিতি দেখা যায়। অপ্রজননশীল ছেলেহাঁসের মাথা, ঘাড়, বুক ও বগল অনুজ্জ্বল তামাটে এবং চোখ কালচে। মেয়েহাঁসের অনুজ্জ্বল তামাটে-বাদামি মাথা, ঘাড় ও বুক ছাড়া অপ্রজননশীল ছেলেহাঁসের সঙ্গে চেহারার কোনো পার্থক্য নেই। উভয় হাঁসেরই ডানায় সাদা ডোরা ও পার্থক্যসূচক অঙ্গ পেট সাদা। অপ্রাপ্তবয়স্ক হাঁসের চেহারা মেয়েহাঁসের মত হলেও তুলনামূলকভাবে বেশ বাদামি।
স্বভাব: মরচেরঙ ভুতিহাঁস হাওর, বিল, নদী, মিঠাপানির ডোবা, জলাধার ও লেগুনেবিচরণ করে; শীতের আবাসে বড় বড় দলে থাকে এবং প্রায়ই নানা জাতের হাঁসেরবড় দলে দেখা যায়। সাঁতার কেটে, মাথা ডুবিয়ে ও ডুব দিয়ে পানির নিচেগিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে জলজ উদ্ভিদের কচিকাণ্ড, কন্দ, পাতা, বীজ, কেঁচো, জলজ পোকামাকড়, লার্ভা, চিংড়ি, ইত্যাদি। শীতের আবাসেএরা কদাচিৎ কর্কশ গলায় ডাকে: কেররর..। মে-জুলাই মাসের প্রজনন ঋতুতে মধ্যইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় নলবনে পানির ধারে নল ও উদ্ভিদের স্তুপ বানিয়ে তারওপর সরু ঘাস ও কোমল পালকের বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো পীতাভ;সংখ্যায় ৬-১২টি; মাপ৫.১´৩.৭ সেমি। ২৫-২৭ দিনে ডিম ফোটে এবং ৫৫-৬০ দিনেছানারা উড়তে পারে।
বিস্তৃতি: মরচেরঙ ভুতিহাঁস বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি; শীতকালে বরিশাল, চট্টগ্রাম,ঢাকা ও সিলেট বিভাগের হাওর ও বিলে বিচরণ করে। আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; এশিয়া মহাদেশে তুর্কি, রাশিয়া, ইরান, আরব, আফগানিস্তান, চিন, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল,ভুটান ও মালদ্বীপে রয়েছে।
অবস্থা: মরচেরঙ ভুতিহাঁস বিশ্বে প্রায়-বিপদগ্রস্ত পাখি। এশিয়ায় জলাভূমির সংখ্যা ও জায়গা কমায় এরাও সংখ্যায় কমছে। ইউরোপে এদের সংখ্যা যথেষ্ট কমেছে। বিগত দিনে যেহেতু এদের সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা গেছে তাই আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে প্রায়-বিপদগ্রস্ত (Near Threatened NT) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]
বিবিধ: মরচেরঙ ভুতিহাঁসের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ হাঁস (গ্রীক: aithua = সামুদ্রিক পাখি – এরিস্টটলের উল্লেখানুসারে ; রাশিয়ান: nyroca = হাঁস) ।
তথ্যসূত্র:
১. ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ২৮-২৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. “Aythya nyroca“, http://www.iucnredlist.org/details/22680373/0, The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৯ আগস্ট ২০১৮।
৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫০।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।