আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > প্রাণী > পাখি > খয়রা চকাচকি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি

খয়রা চকাচকি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Tadorna ferruginea সমনাম: Anas ferruginea Pallas, 1764 বাংলা নাম: খয়রা চকাচকি, চকাচকি (আলী) ইংরেজি নাম: Ruddy Shelduck জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Tadorna, Oken, 1817; প্রজাতি/Species: Tadorna ferruginea (Pallas, 1764)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Tadorna গণে ২টি প্রজাতি রয়েছে এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৭টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রজাতি দুটি হচ্ছে ১. খয়রা চকাচকি ২. পাতি চকাচকি। আমাদের আলোচ্য পাখিটি হচ্ছে বড় খয়রা চকাচকি।

বর্ণনা: খয়রা চকাচকি বা চখাচখি দারুচিনি ও বাদামি রঙের বড় আকারের হাঁস (দৈর্ঘ্য ৬৪ সেমি, ওজন ১.৫ কেজি, ডানা ৩৬ সেমি, ঠোঁট ৪.৩ সেমি, পা ৬ সেমি, লেজ ১৪ সেমি। পুরুষ ও স্ত্রীপাখির চেহারায় কিছুটা পার্থক্য আছে। পুরুষপাখি কমলা-বাদামি থেকে দারুচিনি বর্ণের; হালকা বাদামি মাথা ও ঘাড়; ডানায় ধাতব সবুজ পতাকা ও সাদা ঢাকনি; প্রান্তপালক ও লেজ কালো। প্রজনন ঋতুতে পুরুষপাখির গলায় সরু কালো বলয় হয়। পুরুষপাখির চেয়ে আকারে স্ত্রী সামান্য ছোট; স্ত্রীপাখির মাথা ফ্যাকাসে রঙের এবং গলায় বলয় হয় না। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের চোখ বাদামি এবং ঠোঁট, পা ও পায়ের পাতা কালো। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি দেখতে স্ত্রীপাখির মত, তবে ডানার গোড়ার-পালক ও ডানা-ঢাকনি ধুসর বর্ণের।

স্বভাব: খয়রা চকাচকি পলিময় উপকূল ও বড় নদীর চরে বিচরণ করে: সাধারণত জোড়ায় বা ছোট ঝাঁকে দেখা যায়। এরা কখনও হাঁসের মত নরম কাদামাটিতে কখনও রাজহাঁসের মত আর্দ্র তৃণভূমিতে আহার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় আছে শস্যদানা, অঙ্কুরিত উদ্ভিদ, নরম পাতা, চিড়িং ও কাঁকড়া-জাতীয় প্রাণী, শামুক, জলজ পোকামাকড়, সরীসৃপ ইত্যাদি। ভয় পেলে এরা উচ্চস্বরে ডাকে: আঙক-আঙক… ওড়ার সময় হনের্র মত শব্দ করে ডাকে: আআখ… অথবা ট্রাম্পেট বাজানোর মত শব্দ: পক-পক-পক -পক…। মে-জুন মাসে মধ্য এশিয়া ও তিব্বতে এদের প্রজনন হয়। উঁচু মালভূমির মধ্যে যে সব বাদা আর জলাশয় আছে তার পাশে মাটির গর্তে পালকের বাসা বানিয়ে তারা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো গজদন্তের মত সাদা, সংখ্যায় ৬-১০টি, মাপ ৬.৫-৪.৫ সেমি.। ২৮-৩০ দিনে ডিম ফোটে।

বিস্তৃতি: খয়রা চকাচকি বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি; শীতে বরিশাল, চট্ট্রগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের হাওর ও নদনদীতে দেখা যায়। এশিয়া ও আফ্রিকার দক্ষিণাংশে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; এশিয়ার মধ্যে তুর্কি, চিন, কোরিয়া, জাপান এবং শুধু মালদ্বীপ ছাড়া ভারত মহাদেশের অন্যান্য দেশে রয়েছে।

অবস্থা: খয়রা চকাচকি বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: খয়রা চকাচকির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ মরচে-রঙ চকাচকি (ফ্রেঞ্চ: tador চকাচকি; ল্যাটিন: ferrugineus = মরিচা রঙ)।

তথ্যসূত্র:

১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও এম কাম্রুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা -১৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Tadorna ferruginea“, http://www.iucnredlist.org/details/22680003/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৩ আগস্ট ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৪৯।

আরো পড়ুন:  পিয়াং হাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page