আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > গুল্ম > কালমেঘ-এর ভেষজ গুণাগুণ ও ঘরোয়াভাবে প্রয়োগ পদ্ধতির বর্ণনা

কালমেঘ-এর ভেষজ গুণাগুণ ও ঘরোয়াভাবে প্রয়োগ পদ্ধতির বর্ণনা

কালমেঘ

কালমেঘ (Andrographis paniculata) একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদ ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট হয়ে থাকে। কাণ্ড অনেকটা চারকোণ বিশিষ্ট। এদের পাতা সরল ও ছোট বোটাযুক্ত। পাতা ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা, পাতার কিনার মসৃণ, সূক্ষ্মাগ্র, জালিকা ও শিবিণ্যাসযুক্ত। মঞ্জরী লম্বাটে, ফুল দেখতে ছোট, বৃতি গ্রন্থিযুক্ত, পাপড়ি দুই ওষ্ঠযুক্ত; পুংকেশর পাপড়িলগ্ন, গর্ভকেশর দুটি ও সংযুক্ত; এদের ফল ক্যাপসিউল, লম্বা, অনেকটা সিলিন্ড্রিকেল, সাধারণত ফলে ১২টা বীজ থাকে। বর্ষার শেষ হতে শীতকাল পর্যন্ত ফুল ও ফল হয়।

কালমেঘের সাধারণ গুণ হলো- এটি তিক্তরস, অগ্নিপীপক, রুচিকর, রেচক, বলকারক, কৃমিনাশক, জ্বরাতিসবার নাশক। ইহা কোষ্ঠ, রক্তদোষ, আমদোষ ও বিষদোষে উপকারী। কালমেঘের ব্যবহার্য অংশ হচ্ছে- সমগ্র গাছ। গাছের প্রায় সব অংশই ব্যবহার করা যায়; বিশেষ করে পাতার রস খুবই উপকারী। কালোমেঘ বাংলাদেশে প্রায় সকল জেলাতেই জন্মে থাকে। তবে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অধিক দেখা যায়।

রোগ নিরাময়ে কালমেঘের ব্যবহার:  

১. কালমেঘ সচরাচর বাচ্চাদের রোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাদের জ্বর, কৃমি, অজীর্ণ, লিভার দোষ প্রভৃতি রোগে কালোমেঘের পাতার রস ভাল কাজ করে থাকে। বাচ্চাদের জন্য কালোমেঘের রস সর্বদাই অতি কল্যাণকর ওষধ।

২. ছোট ছেলেমেয়েদেরকে এক চামচ পরিমাণ কালমেঘের পাতার রস প্রত্যহ সকালে খাওয়ালে তাদের যাবতীয় লিভার দোষ আরোগ্য হয়। তাছাড়া সামান্য মধুসহ ৮/১০টা পাতার রস খাওয়ালে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হয়ে যায় বা শক্ত পায়খানা সহজ হয়।

৩. ছোট ছেলেমেয়েরা সাধারণত তিতে জাতীয় ওষুধ খেতে চায় না বলে কিছু মসলা সহযোগে আলু মিশ্রিত ভর্তা বানিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে জিরা, দারচিনি ও বড় এলাচের খোসা সমান সমান নিয়ে কালমেঘ পাতার রসে পেষণ করেও ওষুধ তৈরি করে খাওয়ানো যেতে পারে।

৪. আবার দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ প্রভৃতি কালমেঘের পাতার রসে পিষে ওষুধ প্রস্তুত করা যায়। এই ওষুধ শিশুর পেটকামড়ানি, অগ্নিমান্দ্য ও কোষ্ঠবদ্ধতায় সারাতে ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন:  বাসক গাছের ১১টি ঔষধি গুণ

৫. কালোমেঘ পাতার রস ক্ষুধাহীনতা, পেটে গ্যাস জমা, বাচ্চাদের অজীর্ণ, আমাশয়, উদরাময় এবং সাধারণ দুর্বলতায় প্রয়োগ করা হয়। কালোমেঘের মূল এবং পাতা কৃমিনাশক, শক্তিবৃদ্ধিকারক এবং বায়ুপিত্ত নাশক।

কালোমেঘে থেকে ওষধ প্রস্তুতি করার জন্য তাজা পাতা ৩৫০ গ্রাম এবং স্ট্রং অ্যালকোহল ৮০০ গ্রাম। একত্রে উপযুক্ত পাত্রে নিয়ে ঝাকানোর পর তাকে ছেকে নিয়ে মাদার টিংচার ওষুধ প্রস্তুত করা যায়।

প্রস্তুতকৃত ওষুধের ব্যবহার:

১. মুখে খারাপ স্বাদ, বিশেষ করে তিতো, কখনও পচা স্বাদ রোধ করলে উক্ত ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে।

২. জিহ্বায় ময়লা জমে এবং জিহ্বার অগ্রভাগ সামান্য লাল হলে উক্ত ওষুধ বিশেষ উপকার করে।

৩. ঢেকুর উঠে, অজীর্ণ , গলা ও বুক জ্বালা, পেট ফাপা, পেটের ভিতর ভট ভট করা ও বায়ু নিঃসরণ হলে উক্ত ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে।

৪. প্লীহা ও লিভার বড় হলে এবং বেদনা অনুভূত হলে উক্ত ওষুধ সেবনযোগ্য।

৫. মানসিক বিষন্নতা, স্মৃতিহীনতা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিলে উক্ত ওষুধ সেবনযোগ্য।

৬. চোখ, মুখ ও হাত-পা জ্বালা করলেও উক্ত ওষুধ বিশেষ কাজ করে।

৭. কোষ্ঠাবদ্ধতা সহ বাচ্চাদের জণ্ডিসে কালমেঘ বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ       

১. মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী: ‘গাছ-গাছড়ায় হাজার গুণ ও লতাপাতায় রোগ মুক্তি, সত্যকথা প্রকাশ, বাংলাবাজার, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ ২০০৯, পৃষ্ঠা, ৪৬-৪৯।

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page