[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Alcedo meninting সমনাম: নেই বাংলা নাম: নীলকান মাছরাঙা, ইংরেজি নাম: Blue-eared Kingfisher. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: alcedinidae গণ/Genus: Alcedo, Linnaeus, 1758; প্রজাতি/Species: Alcedo meninting Horsefield, 1821[/otw_shortcode_info_box]
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Alcedo গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১৫টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি ৩টি হচ্ছে ১.পাতি মাছরাঙা, ২. ব্লাইদের মাছরাঙা ও ৩. নীলকান মাছরাঙা,আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে নীলকান মাছরাঙা।
বর্ণনা: নীলকান মাছরাঙা বাদামি চোখ ও নীল কান-ঢাকনি পড়া মাছ শিকারি (দৈর্ঘ্য ১৬ সেমি, ওজন ২৭ গ্রাম, ডানা ৬.৮ সেমি, ঠোঁট ৪.৪ সেমি, পা ১ সেমি, লেজ ৩ সেমি )। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ ঘন নীল ও দেহতল গাঢ় কমলা; গালের চারিপাশ, ঘাড় ও ডানা-ঢাকনি বেগুনে-নীল; পিঠের নিচ থেকে লেজবরাবর নীল টান নেমে গেছে; গলা ও ঘাড়ের পাশে সাদা পট্টি; কান-ঢাকনি উজ্জ্বল নীল; চোখ বাদামি এবং পা, পায়ের পাতা ও নখর কমলা রঙের। ঠোঁট দুই রঙের: উপরের অংশ কালচে বা শিঙ-বাদামি ও ঠোঁটের নিচের অংশে কমলা সংযোগস্থল ও মুখসহ বাদামি-কমলা। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির কান-ঢাকনি লালচে-কমলা। ১১টি উপ-প্রজাতির মধ্যে A. m. coltarti বাংলাদেশে আছে।
স্বভাব: নীলকান মাছরাঙা পাহাড়ি নদী, প্রশস্ত পাতার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরসবুজ ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন, জোয়ার-ভাঁটায় সিক্ত খাঁড়ি ও প্যারাবনে বিচরণ করে; সাধারণত একা বা জোড়ায় থাকতে দেখা যায়। পানির উপরে ঝুলন্ত ডালে এরা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে এবং সুযোগ এলে শিকার ধরার জন্য পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে মাছ ও জলজ পোকামাকড়। শিকারের অপেক্ষায় থাকার সময় এরা ঘন ঘন মাথা ওঠায় আর নামায় এবং লেজ খাড়া করে; এবং তীব্র কণ্ঠে ডাকে: চিচী…চিচিচী…। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি কর্কশ গলায় ছোট্ট ডাক দেয়: চিট..। মার্চ-জুন মাসের প্রজনন ঋতুতে বনের প্রবহমান নদী তীরে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিম উজ্জ্বল সাদা ও গোল, সংখ্যায় ৫-৮টি ; মাপ ২.০ × ১.৭ সেমি।
বিস্তৃতি: নীলকান মাছরাঙা বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের চিরসবুজ বন ও প্যারাবনে বিচরণ করে। ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: নীলকান মাছরাঙা বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই নীলকান মাছরাঙাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]
বিবিধ: নীলকান মাছরাঙার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ঘননীল মাছরাঙা (ল্যাটিন: alcedo = মাছরাঙা; মালয়: meninting = গাঢ় নীল মাছরাঙা)।
তথ্যসূত্র:
১. ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৬১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. “Alcedo meninting“, http://www.iucnredlist.org/details/22683042/0, The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫৪।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।