[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Hierococcyx nisicolor সমনাম: নেই বাংলা নাম: হজসনি চোখগ্যালো ইংরেজি নাম: Hodgson’s Hawk-Cuckoo. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Cuculidae গণ/Genus: Hierococcyx, Muller, 1845; প্রজাতি/Species: Hierococcyx nisicolor (Horsefield, 1821)[/otw_shortcode_info_box]
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Hierococcyx গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৮টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. হজসনি চোখগ্যালো, ২. বড় চোখগ্যালো, ও ৩. পাতি চোখগ্যালো। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে হজসনি চোখগ্যালো।
বর্ণনা: হজসনি চোখগ্যালো ফেটাওয়ালা লেজের ধূসর পাখি (দৈর্ঘ্য ২৯ সেমি., ডানা ১৮ সেমি., ঠোঁট ২ সেমি., পা ২.৪ সেমি., লেজ ১৪ সেমি.)। পিঠ স্লেট-ধূসর ও দেহতল লালচে। ফিকে বুকে ও পেটে লালচে ডোরা রয়েছে। রান, অবসারণী ও লেজের নিচের কোর্ভাটের পালক সাদা। লেজে ধূসর ও কালো পট্টি একটার পর একটা সজ্জিত এবং লেজের আগা লালচে। আবছা ধূসর ডোরাসহ থুতনি শ্লেট-ধূসর ও গলা সাদাটে। চোখ গোলাপি ও চোখের পাতা হলুদ। পা উজ্জ্বল লাল এবং পায়ের পাতা ও নখর শিঙ-বাদামি। হলুদ ঠোঁটের আগা কালো বা সবুজাভ-কালো। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ পালকের প্রান্তের সরু পীতাভ বর্ণসহ কালচে বাদামি ও দেহতলে স্পষ্ট কালচে চিতি সমেত সাদা দেখায়।
স্বভাব: হজসনি চোখগ্যালো চিরসবুজ ও আর্দ্র পাতাঝরা বন বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় বিচরণ করে। পল্লবগুচ্ছ, ঘন ঝোপ ও বনতলের গুল্মলতায় সুক্ষèভাবে খাবার খোঁজে। খাবারের মধ্যে পোকামাকড়, শুঁয়োপোকা ও ফল বিশেষ করে ডুমুর ও রসালো ফল রয়েছে। শিকরের মত ধীরে ডানা নেড়ে নীরবে ওড়ে চলে ও কোথাও অবস্থান নেয়ার আগে উপরের দিকে আরোহণ করে। ফেটা লেজ ও শিকরের মত পায়ের ভঙ্গি প্রায়ই খুদে পাখিদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রীষ্মকালে প্রজনন এলাকা হিমালয় থেকে বর্ধিত হয়ে চীন ও সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি পুনরুক্তিক কর্কশ কণ্ঠে ডাকে: গী-হোয়িজ্। বাসা বানানো, ডিম ফোঁটানো কিংবা ছানা পালন করে না। মেয়েপাখি শাবুলবুলি ও খাটোডানার বাসায় একটি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো জলপাই-বাদামি, মাপ ২.৫ × ১.৬ সেমি.।
বিস্তৃতি: হজসনি চোখগ্যালো বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি; ঢাকা বিভাগে দেখা গেছে বলে তথ্য রয়েছে। ভারত, নেপাল, ভুটান, সাইবেরিয়া, চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও জাপান এবং ফিলিপাইনে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: হজসনি চোখগ্যালো বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই পাকরা পাপিয়াকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]
বিবিধ: হজসনি চোখগ্যালোর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ চোখগেলো (গ্রীক: hierax = শিকরে, kokkux = কোকিল)।
তথ্যসূত্র:
১. ইনাম আল হক ও সুপ্রিয় চাকমা, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. “Hierococcyx nisicolor“, http://www.iucnredlist.org/details/22734046/0, The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫৫।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।