[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Hierococcyx sparverioides সমনাম: Cuculus sparverioides Vigors, 1832 বাংলা নাম: বড় চোখগ্যালো ইংরেজি নাম: Large Hawk-Cuckoo. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Cuculidae গণ/Genus: Hierococcyx, Muller, 1845; প্রজাতি/Species: Hierococcyx sparverioides (Vigors, 1832)[/otw_shortcode_info_box]
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Hierococcyx গণে বাংলাদেশে রয়েছ এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৮টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. হজসনি চোখগ্যালো, ২. বড় চোখগ্যালো, ও ৩. পাতি চোখগ্যালো। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বড় চোখগ্যালো।
বর্ণনা: বড় চোখগ্যালো বা বড় বাজ কোকিল হচ্ছে দীর্ঘ ডোরা ওয়ালা লেজের ছাই-বাদামি পাখি (দৈর্ঘ্য ৩৮ সেমি., ওজন ১২৫ গ্রাম, ডানা ২২ সেমি., ঠোঁট ৩ সেমি., পা ২.৬ সেমি., লেজ ২০ সেমি.)। পিঠ ছাই-বাদামি ও দেহতল সাদাটে। ফ্যাকাসে বুকে লালচে-বাদামি ডোরা রয়েছে। বুকের তল, বগল, পেট ও লেজের নিচের কোর্ভাটে লালচে থেকে কালচে বাদামি ডোরা বেশ স্পষ্ট। মাথার চাঁদি, ঘাড়ের পিছন ও ঘাড়ের পাশ ছাই-ধূসর। লেজের কালো ও বাদামি ফেটা বিন্যাস একটির পর আরেকটি সজ্জিত ও লেজের আগা সাদা। চোখ কমলা-হলুদ ও চোখের পাতার প্রান্তদেশ লেবুর মত হলুদ। ঠোঁট দুরঙা: উপরের ভাগ কালচে শিঙ-রঙের ও নিচের ভাগ সবুজাভ-স্লেট রঙের। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির বাদামি পিঠে লালচে ডোরা এবং ঘাড়ের পিছনটায় ফ্যাকাসে লালচে রঙ ও বুকে স্পষ্ট বাদামি ডোরা আছে। ২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে H. s. sparverioidesবাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: বড় চোখগ্যালো চিরসবুজ বন, কনিফার বন, অপ্রধান বন ও কুঞ্জবনে পাওয়া যায়। সাধারণত একা থাকে। বনের চাঁদোয়ায় ও ঝোঁপে গাছের ডালা ও পাতা থেকে খুঁটে খুঁটে খাবার খায়। খাবার তালিকায় শুঁয়োপোকা, গুবরে পোকা, ছারপোকা, ফড়িং, পিঁপড়া ও মাকড়সা রয়েছে। পূর্বরাগের সময় ভোরে ও গোধূলিতে, পূর্ণিমা রাত ও মেঘাচ্ছন্ন দিনে ডাকে। মধুর কণ্ঠে শিস্ দিয়ে ডাকে: পিপক পিপকক..। বাসা বানানো, ডিম ফোঁটানো কিংবা ছানা পালন এর কোনটিই করে না। গ্রীষ্মে হিমালয়ের পূর্বভাগ থেকে চীন ও ইন্দোচীনে এর প্রজনন ঋতু। মেয়েপাখি পেঙ্গা, খাটোডানা বা মাকড়মার-এর বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমের বর্ণ ও আকার পালক প্রজাতির ডিমের বর্ণ ও আকারের সঙ্গে মিল রেখে পাড়ে যেমন-পেঙ্গার বাসার জন্য ডিম নীল, ৩.০ × ২.২ সেমি. এবং খাটোডানা ও মাকরমারের জন্য বাদামি, ২.৬ × ১.৯ সেমি.।
বিস্তৃতি: বড় চোখগ্যালো বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি; শীতে সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে বিচরণ করে। ভারতের পূর্বভাগ থেকে শুরু করে চীন ও ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলসহ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: বড় চোখগ্যালো বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই পাকরা পাপিয়াকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]
বিবিধ: বড় চোখগ্যালোর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ চড়–ইশিকরে-চোখগেলো (গ্রীক: hierax = শিকরে, kokkux = কোকিল; ল্যাটিন: sparverius = চড়ুইশিকরে)।
তথ্যসূত্র:
১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. “Hierococcyx sparverioides“, http://www.iucnredlist.org/details/22728111/0, The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫৫।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।