কন্টকারি ঝোপ-ঝাড়ে বেড়ে উঠা এশিয়ার ঔষধি গুল্ম

কন্টকারি

বৈজ্ঞানিক নাম: Solanum virginianum L. সমনাম: Solanum mairei H. Lév., Solanum xanthocarpum Schrad. & H. Wendl. বাংলা নাম: কণ্টকারি, কণ্টালিকা, কণ্টকিনী, কণ্টকারী, নিদিগ্ধিকা, দুঃস্পর্শা, ধাবনী, ক্ষুদ্রা, ব্যাঘ্রী, দুষ্প্রধর্ষিণী। ইংরেজি নাম: Surattense nightshade, yellow-fruit nightshade, yellow-berried nightshade, Thai green eggplant, Thai striped eggplant 
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants, অবিন্যাসিত: (unranked): ngiosperms, অবিন্যাসিত: Eudicots, অবিন্যাসিত:  Asterids, বর্গ: Solanales, পরিবার: Solanaceae – Potato family, গণ: Solanum L. – nightshade. প্রজাতি: Solanum xanthocarpum.

পরিচিতি:  কন্টকারি প্রচুর কাঁটাযুক্ত বেগুন। এটি কাণ্ড ও পাতাসহ গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। লতানো গাছের মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। গাছের ডাঁটা ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় ও উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের হয়। পাতা ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা হয়। সারা গাছে ধারালো কাঁটা খাড়াভাবে থাকে এবং আধা ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। পুষ্পদণ্ড শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট। ফুলের রঙ নীল হয়।  ফলের রঙ পাকলে হয় হলুদ। এদের বীজ বিষাক্ত।

ব্যবহার: 

১. কণ্টকারি ফলের বীজ বেটে প্রলেপ দিলে তাড়াতাড়ি ফোঁড়া ফাটে ও পুঁজ-রক্ত বেরিয়ে যায়।

২. ঠাণ্ডা লাগলে অথবা শীতের সময় এটি কাজে লাগে।

৩. কণ্টকারির কচি ডাল বেটে তার দুচামচ রস খেলে বায়ু নিম্নগামী হয়ে মলদ্বার দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।

৪. কণ্টকারির মূলের রস বেটে দুচামচ পরিমাণ দিনে দুবার খেলে বুকে জমে থাকা শ্লেষ্মা কাশির সাথে উঠে আসে। কাশি কমে বুকের বেদনার উপশম হয়।

৫. আঘাত লেগে ফুলে যাওয়া স্থানে কণ্টকারি গাছের পাতাকে কয়েকটি গোলমরিচের সাথে পিষে আঘাতের স্থানে প্রলেপ দিলে ব্যথা কমে যায়। একইভাবে বাতের যন্ত্রণাতেও উপকার হয়।

বিস্তৃতি: এটি এশিয়ার উদ্ভিদ। এটিকে সৌদি আরব, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, ইরান, চীন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রী লংকা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সর্বত্র দেখা যায়।

সতর্কীকরণঃ যে কোনো ভেষজ ঔষধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুন:  তিত বেগুন এশিয়া ও আমেরিকার ঔষধি উদ্ভিদ

Leave a Comment

error: Content is protected !!