মাধবীলতা গাছ-এর পাঁচটি ভেষজ গুণাগুণের বর্ণনা

মাধবীলতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Hiptage benghalensis ইংরেজি: Hiptage) একটি আরোহী গুল্ম। এটি ছোট আকারের চিরহরিৎ ঝোপালো উদ্ভিদ। গাছের ফুল সাদা রঙের, একটি ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। বাড়িতে শোভাবর্ধনের জন্য এই ফুল গাছ অনেকে লাগিয়ে থাকে। মাধবীলতার বংশ বিস্তার হয় বীজের মাধ্যমে বা শাখা কলমের সাহায্যেও। মাধবীলতা গাছ ভারত, মায়ানমার, চীনসহ দক্ষিন এশিয়ার দেশসমুহে জন্মে। চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয় গাছের ডাল, পাতা, ছাল।

রোগ নিরাময়ে মাধবীলতা গাছ-এর ব্যবহার:

১. পুরনো বাত: পুরানো বাত রোগ হলে মাধবীলতার পাতার টাটকা রস ২০ মি. লি. আধ কাপ ঠাণ্ডা পানির সাথে মিশিয়ে রোজ সকালে একবার করে খেলে রোগী আরাম পায়। গেঁটে বাতে মূল সমেত সমগ্র গাছটি দিয়ে প্রস্তুত তৈল মালিশ।

২. হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টে: মাধবীলতা গাছের কচি পাতা ও ডাল সামন্য পানি দিয়ে বেটে দশ থেকে পনের মি. লি. পরিমাণ খেলে হাঁপানি অথবা শ্বাসকষ্ট কমে। এছাড়া পাতার ক্বাথ খাওয়ানাে হয়ে থাকে।

৩. পাঁচড়া ও চুলকানি: এই সমস্যা হলে উভয় রোগের ক্ষেত্রে গোসল করার পর পানি ভালভাবে মুছে মাধবীলতার পাতা ও কচি ডাল মিহি করে বেটে ভালভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। এ ভাবে চার থেকে পাঁচ দিন লাগালে উপকার হবে।

৪. বিষাক্ত ঘা বা পুরানো ঘায়ে: মাধবীলতা গাছের শুকনা ছাল খুব ভালভাবে গুঁড়া করে ঘায়ের ওপর ছড়িয়ে দিয়ে পরিষ্কার পাতলা কি কাপড়ের ফালি দিয়ে বেঁধে রাখা দরকার। রোজ সকালে ঘা পরিষ্কার করে আবার একইভাবে ছালের গুড়া ছড়িয়ে বেঁধে রাখতে হবে। চার পাঁচ দিনের মধ্যে ঘা ভাল হয়ে যাবে।

৫. চর্মরোগ: এই গাছের পাতার রস যেকোন চর্মরোগ ভালো করার জন্য ব্যবহার করা হয়।[১]

৬. কাসিতে: এই সমস্যা সারাতে মাধবীলতার মূলের কাথ করে খেতে হবে।

৭. মধুমেহে বা ডায়াবেটিস: এই ফুল সিদ্ধ জল দিনে ২/৩ বার সেবন করতে হবে।

আরো পড়ুন:  রক্তকাঞ্চন এশিয়ার সুন্দর, মিষ্টি গন্ধযুক্ত ও ভেষজ গুণে ভরা ফুল গাছ

৮. মধুমেহ জনিত ফোড়ায়: মূল ও ডাঁটা বেটে সামান্য গরম করে প্রলেপ দিতে হবে।

৯. শুক্রতারল্যে: এই সমস্যা অনেকের থাকে। তাই শরীরের ক্ষয় বাড়ে। এজন্য ফুলের রস বা ক্বাথ হিতকর।

১০. ক্রিমিতে: এই সমস্যা যে শুধু বাচ্চাদের হয় তা নয়। ছোট বড় সবাইকে ভুগতে হয়। তাই ডাঁটা ও পাতার ক্বাথ ক্রিমিনাশক হিসাবে কাজ করে।[২]

CHEMICAL COMPOSITION

Hiptage benghalensis Kurz.

Syn. Hiptage madablota Gaertn. Bark contains:– a glucoside (hiptagin); tannin 8.5% and an aromatic bitter principle. Root contains:– hiptagin.

Quisqualis indica Linn.

Seeds contain:- moisture 6.5%; N-matter 10.7%; fat 24%; N-free extract 48.6%; cellulose 3.9%; ash 6.5%; acids (malic, citric and succinic) yellow fatty oil 27%; fatty acids (myristic, palmitic, stearic, oleic, linoleic and arachidic); sterol and an alkaloid and unsaponifiable matter 1-1.5%. Fruit contains:- trigonelline. Flower contains: cyanidine monoglycoside.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. মাওলানা জাকির হোসাইন আজাদী: ‘গাছ-গাছড়ায় হাজার গুণ ও লতাপাতায় রোগ মুক্তি, সত্যকথা প্রকাশ, বাংলাবাজার, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ ২০০৯, পৃষ্ঠা, ১৫৯-১৬০।

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১০, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ ১৪০৭, পৃষ্ঠা, ১৭১।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Vinayaraj

Leave a Comment

error: Content is protected !!