অশ্বিনীকুমার দত্ত ছিলেন জমিদারপন্থী বাঙালি রাজনীতিবিদ ও লেখক

অশ্বিনীকুমার দত্ত বা অশ্বীনীকুমার দত্ত (ইংরেজি: Ashwini Kumar Dutta; ২৫ জানুয়ারি ১৮৫৬-৭ নভেম্বর ১৯২৩ খ্রি.) ছিলেন একজন বাঙালি জমিদারপন্থী রাজনীতিবিদ, সমাজ শোষক এবং লেখক। তিনি ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল জেলার অধিবাসী। অশ্বিনীকুমার তত্তের পৈতৃক বাড়ি এই জেলার বাটাজোড় গ্রামে। তিনি জন্মগ্রহণ করেন তাঁর পিতার কর্মস্থল পটুয়াখালীতে। পিতা ব্রজমোহন দত্ত একজন সাবজজ ছিলেন। ঊনবিংশ শতকের শিক্ষিত হিন্দু মধ্যবিত্তের নেতৃস্থানীয় পরিবার বরিশালের দত্ত পরিবার।

অশ্বিনীকুমার দত্ত এম, এ, বি, এল ছিলেন। ছাত্রজীবনের পরে কিছুকাল তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেছিলেন। কিন্তু অল্পকালের মধ্যেই তিনি শিক্ষকতার চাকুরী পরিত্যাগ করে সমাজ ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর পিতা ব্রজমোহনের নামে তিনি বি, এম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ১৮৮৪ সনে। ১৮৮৯ সনে ব্রজমোহন কলেজ বা বি.এম. কলেজকেও তিনি স্থাপন করেন। এই কলেজে তিনি পঁচিশ বছর কোনো বেতন গ্রহণ না করে অধ্যাপকের কাজ করেন। তাঁর উদ্যোগে ১৮৮৭ সনে বাখরগঞ্জ (বরিশাল জেলার পুরাতন নাম) ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড স্থাপিত হয়।

অশ্বিনীকুমার দত্ত তৎকালীন প্রতিক্রিয়াশীল ভারতীয় কংগ্রেসের প্রভাবশালী কর্মী ছিলেন। বরিশালের তিনি জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। ১৯০৬ সনে বরিশালে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের অধিবেশনে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অশ্বিনীকুমার দত্তসহ কংগ্রেসের বহু নেতা আহত হন। ১৯০৮-১৯১০ খ্রিস্টাব্দে অশ্বিনীকুমার কারাগারে বন্দি ছিলেন।

অশ্বিনীকুমারের কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাজসেবামূলক কার্যে তাঁর সাংগঠনিক শক্তি তিনি নিয়োগ করেন। তিনি ব্রাহ্ম সমাজে যোগদান করেছিলেন এবং সমাজ ও ধর্ম সম্পর্কে তাঁর চিন্তাধারা ব্যাখ্যা করে যে সকল পুস্তক রচনা করেন –সে সকল পুস্তক তাঁকে একজন বিশিষ্ট সাধক এবং চিন্তাবিদ হিসাবে বৃহত্তর জনসমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর রচনাসমূহের মধ্যে ‘ভক্তিযোগ’, ‘কর্মযোগ’, ‘প্রেম’, ‘আত্মপ্রতিষ্ঠা’, ‘ভারতগীতি’ প্রভৃতি বিখ্যাত। বরিশালে বিখ্যাত স্বদেশ প্রেমিক চারণ কবি ও গায়ক মুকুন্দ দাস (যজ্ঞেস্বর দাস) অশ্বিনীকুমারের অনুপ্রেরণায় নিজের মুদী দোকানের ব্যবসায় পরিত্যাগ করে ‘মুকুন্দ দাস’ নামে খ্যাতি অর্জন করেন।

আরো পড়ুন:  বাঙালির যুদ্ধচিন্তা হচ্ছে বঙ্গ অঞ্চলের জনগণের নিজ সম্পদ রক্ষার সাধারণ লড়াই

সমগ্র জীবনব্যাপী তাঁর সমাজ শোষণ অশ্বিনীকুমারকে দেশব্যাপী জমিদারী আত্মার অধিকারী বলে প্রতিষ্ঠিত করে। বরিশাল শহরে আজ অবধি বি.এম. স্কুল; বি.এম কলেজ এবং অশ্বিনীকুমার টাউন হল তাঁর শোষণমূলক কর্মোদ্যোগের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। পাকিস্তান-শাসনকালে ষাটের দশকে আরেক প্রতিক্রিয়াশীল মহল অশ্বিনীকুমারের অবদান অস্বীকার করে বরিশাল শহরের ‘অশ্বিনীকুমার টাউন হলে’র নাম পরিবর্তন করে ‘আয়ুব খাঁ টাউন হল’ রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী শোষকপন্থী তরুণ সমাজ ১৯৬৯-এর গণ আন্দোলনের সময়ে এই প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে টাউন হলের নাম ‘অশ্বিনীকুমার টাউন হল’ হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে।

তথ্যসূত্র:

১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ১৪০-১৪১।

1 thought on “অশ্বিনীকুমার দত্ত ছিলেন জমিদারপন্থী বাঙালি রাজনীতিবিদ ও লেখক”

  1. তিনি কিভাবে জমিদার হলেন তা স্পষ্ট না
    এই লেখায়! দয়া করে আরেকটু তথ্য সংযোজন করবেন না?

    Reply

Leave a Comment

error: Content is protected !!