ব্রোমেলিয়াসি (Bromeliaceae) উদ্ভিদ পরিবারের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য। আনারসের আদি ইতিহাস

ব্রোমেলিয়াসি

পরিবারের নাম: BROMELIACEAE A. L. de Jussieu (1789) জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Monocots অবিন্যাসিত: Commelinids বর্গ: Poales পরিবার: BROMELIACEAE

ভূমিকা: সপুষ্পক উদ্ভিদের বৈচিত্র্যময় এক পরিবারের নাম ব্রোমেলিয়াসি (Bromeliaceae), যা সাধারণভাবে ব্রোমেলিয়াড নামেই বেশি পরিচিত। প্রায় ৩৪টি গণ এবং ২০০০ প্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত এই উদ্ভিদ পরিবারের আদি নিবাস আমেরিকার উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে।

ব্রোমেলিয়াসি গোত্রের উদ্ভিদগুলো মূলত ক্ষুদ্র কাণ্ডবিশিষ্ট পরাশ্রয়ী বীরুৎজাতীয়; তবে কিছু প্রজাতি স্থলজ বা জাঙ্গল (মরু অঞ্চলের উপযোগী) প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের পাতাগুলো সাধারণত গুচ্ছাকারে একান্তরভাবে সাজানো থাকে। সরল ও সরু এই পাতাগুলোর শিরা বিন্যাস সমান্তরাল। পাতার প্রান্তভাগ কখনো মসৃণ বা অখণ্ড, আবার কখনো সূক্ষ্ম কাঁটাযুক্ত হতে পারে। এই উদ্ভিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এদের পাতার মূলীয় অংশ বা গোড়া লালচে বা অন্যান্য আকর্ষণীয় রঙে উজ্জ্বল দেখায়।

পুষ্প: এই গোত্রের ফুলগুলো সাধারণত সম্পূর্ণ বা কার্যত একলিঙ্গ হয়ে থাকে। ফুলের গঠন কখনও সমাঙ্গ (প্রতিসম), আবার কখনও সামান্য অসমাঙ্গ প্রকৃতির হয়। এদের ফুল আংশিক গর্ভপাদ (Perigynous) থেকে গর্ভশীর্ষ (Epigynous) পুষ্পী হতে পারে। এদের পুষ্পবিন্যাস সরল বা যৌগিক মঞ্জরী, অনিয়ত অথবা শিরমঞ্জরী প্রকৃতির হয়ে থাকে। এই গোত্রের অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এদের উজ্জ্বল রঙের মঞ্জরীপত্র

পুষ্পপুঞ্জ ও উপাঙ্গ: এদের বৃত্যংশ সংখ্যায় তিনটি; যা সাধারণত সবুজ, কোমল এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন বা নিচের অংশে যুক্ত থাকতে পারে। একইভাবে পাপড়িও তিনটি—যা স্বতন্ত্র অথবা গোড়ার দিকে যুক্ত থাকে। পাপড়িগুলো অনেক সময় বেশ উজ্জ্বল বর্ণের হয়। এদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, পাপড়ির মূলীয় কিনারে একজোড়া শল্ক উপাঙ্গ (Scaly appendages) থাকতে পারে, যা মূলত মধুগ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।

পুংকেশর: ব্রোমেলিয়াসি গোত্রের উদ্ভিদে সাধারণত ছয়টি পুংকেশর থাকে, যা দুটি সারিতে (প্রতি সারিতে তিনটি করে) বিন্যস্ত। এই পুংকেশরগুলো একে অপরের সাথে মুক্ত বা যুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে অথবা পুষ্পপুটের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারে। এদের পরাগধানী চতুরেণুস্থলীবিশিষ্ট (Tetrasporangiate) এবং দ্বি-খণ্ডিত। পরাগধানীগুলো সাধারণত অনুদৈর্ঘ্য ফাটলের মাধ্যমে উন্মুক্ত হয় এবং এদের পরাগরেণুগুলো দুই-কেন্দ্রিকা (2-nucleate) বিশিষ্ট হয়ে থাকে।

গর্ভাশয় ও ফল: এদের গর্ভপত্র তিনটি, যা পরস্পর যুক্ত বা যৌগিক। তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এই গর্ভাশয় থেকে একটি গর্ভদণ্ড বের হয়, যা তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। এর গর্ভমুণ্ড সাধারণত প্যাপিলাযুক্ত (Papillate) হয়ে থাকে। এদের ডিম্বকের সংখ্যা অল্প থেকে অসংখ্য হতে পারে এবং অমরা বিন্যাস অক্ষীয় (Axile) প্রকৃতির। এদের ফল সাধারণত বেরি বা ক্যাপসুল আকারের হয়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাংসল যৌগিক ফলও দেখা যায়। ক্যাপসুল জাতীয় ফলের বীজে পাখা যুক্ত থাকে।

বাংলাদেশে উপস্থিতি ও উদাহরণ: বৈচিত্র্যময় এই গোত্রের মাত্র একটি প্রজাতি বাংলাদেশে পাওয়া যায়। আমাদের অতি পরিচিত ফল আনারস এই ব্রোমেলিয়াসি পরিবারেরই একটি অন্তর্ভুক্ত উদ্ভিদ।

তথ্যসূত্র

১. এস. কে. দত্ত (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১১ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১৪২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিপিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Shajiarikkad

Leave a Comment

error: Content is protected !!