গণ যুদ্ধ

সভাপতি মাও সে-তুঙের উদ্ধৃতি

৮. গণযুদ্ধ

*** বিপ্লবি যুদ্ধ হচ্ছে জনসাধারণের যুদ্ধ, কেবলমাত্র জনসাধারণকে সমাবেশ করে এবং তাঁদের উপর নির্ভর করেই এ যুদ্ধকে চালিয়ে নেয়া যেতে পারে। জনসাধারণের জীবনযাত্রার যত্ন নিন, কর্মপদ্ধতির প্রতি মনোযোগ দিন (২৭ জানুয়ারি, ১৯৩৪)

*** সত্যিকারের লৌহ প্রাকার কি? তা হচ্ছে জনসাধারণ, কোটি কোটি জনসাধারণ, যারা বিপ্লবকে অকৃত্রিমভাবে ও আন্তরিকভাবে সমর্থন করেন। এটাই হচ্ছে প্রকৃত লৌহ প্রাকার, এটাকে বিনাশ করা যে কোনো শক্তির পক্ষেই অসম্ভব, একেবারেই অসম্ভব। প্রতিবিপ্লবী শক্তি আমাদের বিনাশ করতে পারে না, আমরাই বরং তাকে বিনাশ করবো। বিপ্লবী সরকারের চারপাশে কোটি কোটি জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং আমাদের বিপ্লবী যুদ্ধকে প্রসারিত করে আমরা সমস্ত প্রতিবিপ্লবী শক্তিকে ধ্বংস করতে পারবো এবং সমগ্র চীন অধিকার করতে পারবো।

*** যুদ্ধের মহান শক্তির গভীরতম উৎস নিহিত রয়েছে জনসাধারণের মধ্যে। জাপান যে আমাদের লাঞ্ছিত করতে সাহস পায়, তার প্রধান কারণ হলো চীনা জনসাধারণের অসংগঠিত অবস্থা। এই ত্রুটি দূর করলেই আগুনের আবেষ্টনীতে আবদ্ধ একটা বুনো ষাঁড়ের মতো জাপানী আক্রমণকারীরা আমাদের কোটি কোটি জাগ্রত জনগণের সম্মুখীন হবে, আমাদের কণ্ঠস্বরের নিছক আওয়াজই তাদের মধ্যে ত্রাসের সঞ্চার করবে এবং এই বুনো ষাঁড়টা অবশ্যই পুড়ে মরবে। “দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সম্পর্কে” (মে, ১৯৩৮)

*** সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের এমনভাবে লাঞ্ছিত করছে যে, আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে তাদের মোকাবিলা করা প্রয়োজন। আমাদের কেবলমাত্র শাক্তিশালী নিয়মিত সৈন্যবাহিনী থাকলেই চলবে না, বরং ব্যাপকভাবে গণমিলিশিয়া ডিভিসনও সংগঠিত করতে হবে। এমনি করলে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের দেশ আক্রমণ করার সময় এক ইঞ্চিও এগুতে পারবে না। “সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার সংবাদদাতার সঙ্গে সাক্ষাৎকার” (২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৮)

*** সামগ্রিক বিপ্লবী যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে, জনগণের গেরিলা যুদ্ধ ও প্রধান শক্তি হিসেবে লাল ফৌজ একজন মানুষের ডান হাত আর বাম হাতের মতো, জনগণের গেরিলা যুদ্ধ বাদ দিয়ে যদি কেবলমাত্র প্রধান শক্তি হিসেবে লালফৌজই থাকতো, তাহলে আমরা হয়ে পড়তাম এক বাহুবিশিষ্ট সেনাপতির মতো। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, বিশেষ করে যুদ্ধ করার জন্য, ঘাঁটি এলাকার জনগণের অবস্থা হচ্ছে যে, তারা সশস্ত্র জনগণ। ঘাঁটি এলাকায় এগুতে শত্রুরা যে ভয় পায়, তার প্রধান কারণ হচ্ছে এটাই। “চীনের বিপ্লবী যুদ্ধের রণনীতি সমস্যা” (ডিসেম্বর, ১৯৩৬)

*** যুদ্ধের জয়-পরাজয় প্রধানত যুদ্ধরত উভয় পক্ষের সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক অবস্থার দ্বারাই নির্ধারিত হয়, এতে কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। কিন্তু, শুধুমাত্র এগুলোর দ্বারাই নয়, যুদ্ধরত উভয় পক্ষের আত্মমুখী পরিচালনার দক্ষতার দ্বারাও এটা নির্ধারিত হয়ে থাকে। বস্তুগত অবস্থার দ্বারা নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে সামরিক বিশেষজ্ঞ যুদ্ধে বিজয় অর্জনের আশা করতে পারেন না, কিন্তু এই সীমার মধ্যেই তিনি বিজয় লাভের চেষ্টা করতে পারেন এবং এটা তাঁর অবশ্যই করা প্রইয়োজন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ক্রিয়ামঞ্চ গড়ে উঠে বাস্তবমুখী বস্তুগত অবস্থার ভিত্তিতে, কিন্তু এই মঞ্চের উপর শব্দ, বর্ণ, শক্তি ও আড়ম্বরময় অনেক প্রাণবান নাট্যানুষ্ঠানই তিনি পরিচালনা করতে পারেন। ঐ

আরো পড়ুন:  যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে দেশের সশস্ত্র সংঘাত শুরু করা বা চালিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা

*** যুদ্ধের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘নিজেকে রক্ষা করা ও শত্রুকে ধ্বংস করা’, এ ছাড়া আর কিছুই নয় (শত্রুকে ধ্বংস করার অর্থ শত্রুকে নিরস্ত্র করা, অর্থাৎ, প্রতিরোধ-শক্তি থেকে শত্রুকে বঞ্চিত করা, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে তার দেহটা ধ্বংস করা নয়)। প্রাচীন যুদ্ধে ব্যবহৃত হতো বর্শা আর ঢাল; বর্শা আক্রমণ করার জন্য, শত্রুকে ধ্বংস করার জন্য; আর ঢাল প্রতিরক্ষার জন্য, নিজেকে রক্ষা করার জন্য। আজকের সব অস্ত্রও এই দুটির পরিবর্ধিত রূপ। বোমারু বিমান, মেশিনগান, দূরপাল্লার কামান এবং বিষাক্ত গ্যাস হচ্ছে বর্শার উন্নত রূপ; বিমান আক্রমণবিরোধী আশ্রয়স্থল, ইস্পাতের টুপি, কংক্রিট নির্মিত দুর্গাদি ও গ্যাসনিবারক মুখোশ হচ্ছে ঢালের উন্নত রূপ। ট্যাংক হচ্ছে এ দুয়ের সংযোজনে একটা নতুন হাতিয়ার। আক্রমণ হচ্ছে শত্রুকে ধ্বংস করার প্রধান উপায়, কিন্তু প্রতিরক্ষাকেও বাদ দেওয়া যায় না। আক্রমণের প্রত্যক্ষ লক্ষ্য হচ্ছে শত্রুকে ধ্বংস করা কিন্তু সেই সঙ্গে নিজেকে রক্ষা করাও, কারণ শত্রু ধ্বংস না হলে আপনি নিজেই ধ্বংস হবেন। প্রতিরক্ষার প্রত্যক্ষ লক্ষ্য হচ্ছে নিজেকে রক্ষা করা, কিন্তু একই সময়ে আবার প্রতিরক্ষা হচ্ছে আক্রমণের সাহায্যকারী উপায় অথবা আক্রমণ-পর্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতির উপায়। পশ্চাদপসরণ হচ্ছে প্রতিরক্ষার অন্তর্ভুক্ত এবং প্রতিরক্ষার ধারাবাহিক রূপ; কিন্তু পশ্চাদ্ধাবন হচ্ছে আক্রমণের ধারাবাহিক রূপ। এ কথা উল্লেখ করা দরকার যে, যুদ্ধের মুখ্য লক্ষ্য হচ্ছে শত্রুকে ধ্বংস করা আর গৌণ লক্ষ্য হচ্ছে নিজেকে রক্ষা, কারণ কেবলমাত্র বিপুল পরিমাণে শত্রুকে ধ্বংস করেই নিজেকে কার্যকরীভাবে রক্ষা করা যায়। অতএব, শত্রুকে ধ্বংস করার মুখ্য উপায় হিসেবে আক্রমণই হচ্ছে প্রধান, আর শত্রুকে ধ্বংস করার সাহায্যকারী উপায় হিসেবে এবং নিজেকে রক্ষা করার অন্যতম উপায় হিসেবে প্রতিরক্ষা হচ্ছে অপ্রধান। বাস্তব যুদ্ধে প্রতিরক্ষা যদিও অনেক সময়ে প্রধান, তা সত্ত্বেও বাকী সময়ে আক্রমণই প্রধান, তবু যুদ্ধকে সামগ্রিকভাবে ধরলে আক্রমণটাই হচ্ছে প্রধান। “দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সম্পর্কে” (মে, ১৯৩৮)

*** সমস্ত সামরিক কার্যকলাপের পরিচালক-নীতিই এসেছে একটি মৌলিক নীতি থেকে, অর্থাৎ যথাসম্ভব নিজের শক্তি সংরক্ষণ করা এবং শত্রুর শক্তি ধ্বংস করা।… যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ আত্মবলিদানের উৎসাহ দেওয়াটা কেমন করে ব্যাখ্যা করা যায়? প্রত্যেকটি যুদ্ধেরই মূল্য দিতে হয়, কখনও কখনও অত্যন্ত বেশি মূল্য দিতে হয়, নিজেকে রক্ষা করা ও এর মধ্যে কি দ্বন্দ্ব নেই? বস্তুত আদৌ কোনো দ্বন্দ্ব নেই, আরও সঠিকভাবে বলা যায় যে, তারা হচ্ছে পরস্পরের বিপরীত ও পরিপূরক। কারণ এ ধরনের বলিদান কেবলমাত্র শত্রুকে ধ্বংস করার জন্যই যে প্রয়োজন তা নয় বরং নিজেকে রক্ষা করার জন্যও দরকার আংশিক ও সাময়িক ‘অসংরক্ষণ’ (বলিদান বা মূল্যদান) সামগ্রিক ও চিরকালীন সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন। এই মৌলিক নীতি থেকে উদ্ভূত হয় সমগ্র সামরিক কার্যকলাপের পরিচালক-নীতিগুলো—গুলি ছোড়ার নীতি (নিজেকে রক্ষা করার জন্য আড়ালে থাকা এবং শত্রুকে ধ্বংস করার জন্য নিপুণভাবে গুলিচালনা করা) থেকে শুরু করে রণনীতিগত নীতি পর্যন্ত সবই এই মৌলিক নীতির ধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। টেকনিক, যুদ্ধকৌশল, খণ্ডযুদ্ধ ও রণনীতি সম্পর্কে সকল নীতিই হচ্ছে এই মৌলিক নীতিকে কার্যকরী করার শর্ত। নিজেকে রক্ষা করার ও শত্রুকে ধ্বংস করার নীতি হচ্ছে সমস্ত সামরিক নীতির ভিত্তি। “জাপানবিরোধী গেরিলা যুদ্ধের রণনীতি সমস্যা” (মে, ১৯৩৮)

আরো পড়ুন:  যুদ্ধের সমস্যা ও কারণ সংক্রান্ত আলোচনা হচ্ছে যুদ্ধের প্রেষণা তত্ত্ব সংক্রান্ত আলোচনা

*** আমাদের সামরিক নীতি হচ্ছে:

(১) প্রথমে ছড়ানো ও বিচ্ছিন্ন শত্রুদেরকে আঘাত করা, তার পরে কেন্দ্রীভূত ও শক্তিশালী শত্রুদেরকে আঘাত করা।

(২) প্রথমে ছোট ও মাঝারি আকারের শহর এবং বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলগুলো দখল করা, তার পরে বড় শহরগুলো দখল করা।

(৩) শত্রুর কার্যকরী শক্তিকে ধ্বংস করাটাই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য, শহর ও জায়গা রক্ষা করা বা দখল করাটা প্রধান লক্ষ্য নয়। শহর ও জায়গাগুলো রক্ষা করা বা দখল করা হচ্ছে শত্রুর কার্যকরী শক্তি ধ্বংস করার ফল, অনেক সময়ে, শুধুমাত্র বহুবার হাত বদলের পরেই শহর ও জায়গাগু লোশেষবারের মতো রক্ষা করা ও দখল করা সম্ভব।

(৪) প্রত্যেক খণ্ডযুদ্ধে নিজের চরম উৎকৃষ্ট সৈন্যশক্তি কেন্দ্রীভূত করা (শত্রুর সৈন্যশক্তির দুই, তিন, চার এমনকি কখনও কখনও পাঁচ বা ছয় গুণের বেশি), শত্রুদের চারদিক থেকে ঘেরাও করা, সম্পূর্ণভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা চালানো এবং বেড়াজাল থেকে পালিয়ে যেতে না দেওয়া। বিশেষ অবস্থায় শত্রুদের প্রতি মারাত্মক আঘাত করার পদ্ধতি গ্রহণ করা, অর্থাৎ সকল শক্তি জড় করে শত্রুদের সম্মুখে ফ্রন্টে ও এক পার্শ্বে বা উভয় পার্শ্বে আঘাত করা, তার উদ্দেশ্য হবে, শত্রুদের একটা অংশকে ধ্বংস করা ও অপর একটা অংশকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া, যাতে আমাদের সৈন্যবাহিনী নিজেদের সৈন্যশক্তিকে শত্রুবাহিনীর অন্যান্য অংশকে ধ্বংস করার জন্য তাড়াতাড়ি স্থানান্তরিত করতে পারে। যেসব খণ্ডযুদ্ধে আমাদের লাভের চেয়ে লোকসান বেশি অথবা লাভ লোকসান সমান হবে, এমন শক্তিক্ষয়ী যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করা। এমনি করে সমগ্রভাবে আমরা নিকৃষ্ট (সংখ্যার দিক থেকে), কিন্তু প্রত্যেক অংশে এবং প্রত্যেক বাস্তব খণ্ডযুদ্ধে আমরা চরম উৎকৃষ্ট, এটাই আমাদের খণ্ডযুদ্ধের জয়কে নিশ্চিত করে। সময় যত এগুবে আমরা ততই সমগ্রভাবে উৎকৃষ্ট হয়ে উঠবো এবং অবশেষে সমস্ত শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করবো।

(৫) তৈরি না হয়ে কোনো খণ্ডযুদ্ধ না করা, বিজয় লাভ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনো খণ্ডযুদ্ধ না করা, প্রত্যেক খণ্ডযুদ্ধের নিমিত্ত ভালভাবে প্রস্তুতির জন্য সর্বপ্রকার চেষ্টা করা, যাতে আমাদের আর শত্রুদের অবস্থার তুলনায় আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত হয় তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

(৬) বীরত্বপূর্ণভাবে যুদ্ধ করা, আত্মবলিদানের ভয় না করা, ক্লান্তি ভয় না করা ও ক্রমাগত লড়াই করার (অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে কোনো রকম বিশ্রাম না নিয়ে একটানা কয়েকটা যুদ্ধ চালিয়ে যাবার) রীতি সম্প্রসারিত করা।

আরো পড়ুন:  দেশপ্রেম ও আন্তর্জাতিকতাবাদ

(৭) চলন্ত অবস্থায় শক্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা। একই সময়ে অবস্থানগত আক্রমণের যুদ্ধ কৌশলের দিকে মনোযোগ দেওয়া, শত্রুর ঘাটি ও শহরগুলোকে দখল করা। শহরগুলো আক্রমণ সম্পর্কে, শত্রুদের যে সমস্ত ঘাটি ও শহর রক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল, দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে তা দখল করা। অবস্থা অনুকূল থাকলে শত্রুর যে সমস্ত ঘাঁটি ও শহরের রক্ষা ব্যবস্থা মাঝারি গোছের, সুযোগ বুঝে তা দখল করে নেওয়া। কিন্তু শত্রুর সমস্ত দৃঢ় প্রতিরক্ষাযুক্ত ঘাঁটি ও শহরের বেলায়, যতদিন না সুবিধাজনক অবস্থা ও সুযোগ আসবে, ততদিন অপেক্ষা করা এবং পরে তা দখল করা।

(৯) শত্রুর থেকে কেড়ে নেওয়া সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র আর অধিকাংশ বন্দীসৈন্য দিয়ে আমাদের শক্তিকে পূরণ করে নেওয়া। আমাদের ফৌজের জনশক্তি ও সাজসরঞ্জামের প্রধান উৎস হচ্ছে যুদ্ধ ফ্রন্ট।

(১০) দুটি খণ্ডযুদ্ধের মাঝখানে যে সময় পাওয়া যাবে, সেই সময়কে বাহিনীর বিশ্রাম এবং শুদ্ধিকরণ ও ট্রেনিংয়ের জন্য নিপুণভাবে ব্যবহার করা। বিশ্রাম এবং শুদ্ধিকরণ ও ট্রেনিংয়ের জন্য সাধারণভাবে খুব বেশি সময় দেওয়া উচিত নয়, যতদূর সম্ভব, শত্রুদের শ্বাস নেবার সময় পর্যন্ত দেওয়া উচিত নয়।

উপরোল্লেখিত এগুলোই হচ্ছে গণমুক্তি ফৌজ কর্তৃক চিয়াং কাইশেককে পরাজিত করার প্রধান পদ্ধতি। অতীতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী শত্রুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালের যুদ্ধের ভেতর দিয়েই গণমুক্তি ফৌজ এইসব পদ্ধতি গড়ে তুলেছিল, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতেও এইসব পদ্ধতি সম্পূর্ণ উপযোগী… আমাদের রণনীতি ও যুদ্ধকৌশল গড়ে উঠেছে গণযুদ্ধের ভিত্তিতে, দুনিয়ার কোনো জনগণবিরোধী সৈন্যবাহিনীর পক্ষেই আমাদের এই রণনীতি ও যুদ্ধকৌশলকে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। “বর্তমান পরিস্থিতি ও আমাদের কর্তব্য” (২৫ ডিসেম্বর, ১৯৪৭)

*** প্রস্তুতিবিহীন উৎকৃষ্ট অবস্থা প্রকৃত উৎকৃষ্ট অবস্থা নয় এবং এতে কোনো উদ্যোগও থাকতে পারে না। এ বিষয়টা বুঝতে পারলে, নিকৃষ্ট অথচ প্রস্তুত সৈন্যবাহিনী প্রায়ই আকস্মিক আক্রমণের দ্বারা উৎকৃষ্ট শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করতে পারে। “দীঘস্থায়ী যুদ্ধ সম্পর্কে” (মে, ১৯৩৮)

Leave a Comment

error: Content is protected !!