পরিচিতি: ঢাল কচু এরাসি বা কচু পরিবারের একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এদের পাতাগুলি ঢাল-আকৃতির, ১১-১৪ সেন্টিমিটার জুড়ে, এবং বৃন্ত পাতাকে যুক্ত করে, প্রান্তে নয়, তবে মাঝখানে কোথাও। প্রজাতির নাম পেলটাটা পাতাগুলির এই দিকটি জোর দেয়। পাতা এককভাবে এবং বৃন্তটি ৯-১৯ সেন্টিমিটার দীর্ঘ। প্রায় ১-১.৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ফুলটি ডাঁটা আকারের হয়। এটি গোখরো লিলি ফুলের মত, যা প্রকৃত ফুলের সাথে একটি স্পেথের মাধ্যমে সংযুক্ত। ফুলহয় মে-জুন মাসে।
ছাতার মতো দেখতে এর পাতাগুলো পাহাড়ি বনের ছায়ায় যখন মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তখন একে রূপকথার বনের কোনো ছোট ঢাল বলে মনে হয়। এর পাতার গঠন অনেকটা ঢালের মতো গোল এবং বোঁটাটি পাতার ঠিক মাঝখান থেকে যুক্ত থাকে বলেই এর এমন নাম। বর্ষার শুরুতে যখন বনের অন্যান্য লতা-গুল্ম সতেজ হয়ে ওঠে, তখন ঢাল কচুর গাঢ় সবুজ পাতাগুলো বনের মেঝেজুড়ে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।
এই কচু কেবল রূপেই অনন্য নয়, এর জীবনচক্রও বেশ কৌতূহল জাগানিয়া। এটি একটি কন্দজ উদ্ভিদ, যা মাটির নিচে গোল আলুর মতো টিউবারের মাধ্যমে টিকে থাকে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর পুষ্পমঞ্জরি বা ফুল। খুব ছোট এবং বেগুনী-বাদামী আভার এই ফুলগুলো পাতার নিচে কিছুটা লুকিয়ে থাকে, যা প্রকৃতির এক লাজুক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে পাথর বা পাহাড়ি ঢালে যেখানে সরাসরি সূর্যালোক পৌঁছায় না, সেখানেই এই উদ্ভিদটি স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে ওঠে।
পরিবেশগত এবং ভেষজ দিক থেকেও ঢাল কচুর গুরুত্ব রয়েছে। গ্রামীণ জনপদে বা পাহাড়ি এলাকায় অনেক সময় এর কন্দ সীমিত আকারে ব্যবহার করা হয়, তবে এর মূল আবেদন মূলত এর আলংকারিক সৌন্দর্যে। বর্তমান সময়ে শৌখিন বাগানবিলাসীদের কাছে এটি ইনডোর প্ল্যান্ট বা টেরারিয়াম উদ্ভিদ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র ঢালটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বড় বড় বৃক্ষের ভিড়েও ছোট ছোট ঘাস আর কচুর পাতায় লুকিয়ে থাকে অদ্ভুত সব কারুকাজ।
আরো পড়ুন
- ঘেট কচু এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ সবজি
- মানকচু-এর সাতটি ভেষজ গুণাগুণ ও প্রযোগ পদ্ধতির বর্ণনা
- কচু ও কচুশাক খাওয়ার উপকারিতা ও অনেকগুলো ভেষজ গুণ
- ঢাল কচু বাংলাদেশ ও ভারতের আলংকারিক উদ্ভিদ
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।