ঘেট কচু এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ সবজি

ঘেট কচুকে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে ঘেঁটকোলও বলা হয়ে থাকে। তামিল প্রদেশে করুণাইকিঝাংগু, তেলেগুতে দূরাদাকাণ্ডাগাড়া ও মালয়ে চেনা নামে এটি পরিচিত। এর বোটানিক্যাল নাম Typhonium trilobatum (Linn.)Schott. পূর্বে এটির নাম ছিল Arum trilobatum Linn.,ফ্যামিলী Araceae, ভারতে এই গণের ১৬টি প্রজাতি পাওয়া যায়। ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ: কন্দ, ডাঁটা ও পাতা।

ঘেট কচু-এর বিবরণ

ঘেঁটকচু দেখতে অনেকটা সাধারণ কচু গাছের মতোই, যার মূলটি গোলাকার কন্দের মতো। এর পাতাগুলো তিন অংশে বিভক্ত এবং পাতার ডাঁটা সাধারণত ১০-১২ ইঞ্চি লম্বা হয়। এই গাছের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, গাছ মরে গেলেও এর মূল মাটির নিচে সজীব থাকে এবং বর্ষার বৃষ্টি পেলেই তা থেকে আবার নতুন চারা গজায়। বর্ষাকালে এতে ফুল ও ফল ধরে। এর ফুল দেখতে কচু ফুলের মতো হলেও তা থেকে অনেকটা বিষ্ঠার মতো কটু গন্ধ বের হয়।

বিস্তৃতি ও চাষ:

পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, আসাম ও মাদ্রাজের জলাভূমিগুলোতে এই গাছ অযত্নেই জন্মে থাকে। এছাড়া ভারতের বাইরে শ্রীলঙ্কা, উত্তর আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জেও এই গাছ পাওয়া যায়। তবে এর মূল, ডাঁটা ও পাতা সবজি হিসেবে ব্যবহারের জন্য দক্ষিণ ভারতের কিছু কিছু স্থানে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।

খাদ্য হিসেবে ব্যবহার

বাংলাদেশে ঘেঁটকচু একটি জনপ্রিয় খাবার। এর কচি পাতা গরম কড়ায় ভেজে কালোজিরা, লঙ্কা ও লবণ দিয়ে বেটে ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়। এছাড়া এর ডাঁটা দিয়ে চচ্চড়ি বা ঘ্যাঁট রান্না করা যায়। অনেকে মাছের তরকারিতে এর কন্দ বা মূল এবং পাতা ব্যবহার করেন, যা বেশ সুস্বাদু।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ১৭৯-১৮১।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Krzysztof Ziarnek, Kenraiz

Leave a Comment

error: Content is protected !!