[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Dinopium javanense সমনাম: Picus javanensis Ljungh, 1797 বাংলা নাম: পাতি কাঠঠোকরা ইংরেজি নাম: Common Goldenback (Common flameback). জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Picidae গণ/Genus: Dinopium, Rafinesque, 1814; প্রজাতি/Species: Dinopium javanense (Ljungh, 1797)[/otw_shortcode_info_box]
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Dinopium গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ৪টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি তিনটি হচ্ছে, ১. বাংলা কাঠঠোকরা, ২. পাতি কাঠঠোকরা ও ৩. হিমালয়ী কাঠঠোকরা। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে পাতি কাঠঠোকরা।
বর্ণনা: পাতি কাঠঠোকরা লম্বা সাদা ভ্রু আঁকা সোনালী ডানার পাখি (দৈর্ঘ্য ৩০ সেমি, ডানা ১৫ সেমি, ঠোঁট ২.৮ সেমি, পা ২.৪ সেমি, লেজ ৯.৫ সেমি)। এর পিঠ প্রাপ্তবয়স্ক পাখির সোনালী-হলুদ ও দেহতল কালো আঁইশের মত; লেজ কালো; ফ্যাকাসে-সাদা গলায় কালো ডোরা; বুকে ও তলপেটে কালোয় স্পষ্ট ঢেউ-খেলানো; চোখ থেকে ঘাড় পর্যন্ত সাদা ভ্রু; চোখের কালো ডোরা; মাথা ও ঘাড়ের পাশ সাদা; চোখ থেকে কালো ডোরা ঘাড় হয়ে বুকের তল পর্যন্ত অবিভক্তভাবে নেমে গেছে; ঘাড়ের পিছন ও ম্যান্টলের উপরিভাগ ফুটকিহীন। চোখ বাদামি বা পিঙ্গল; ঠোঁটের গোড়ার অর্ধেক বাদামি, বাকি ঠোঁট কালো; পা ও পায়ের পাতা অনুজ্জ্বল বাদামি-সবুজ। পুরুষ ও স্ত্রীপাখির চেহারায় পার্থক্য তাদের ঝুটির রঙে: ছেলেপাখির ঝুটি উজ্জ্বল লাল ও মেয়েপাখির কালো ঝুটিতে সাদা বিন্দু। ৬ টি উপ-প্রজাতির মধ্যে D. j. intermededium বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: পাতি কাঠঠোকরা প্যারাবন, প্রশস্ত পাতার চিরসবুজ বন, আর্দ্রপাতাঝরা বন এবং গ্রামের বাগানে বিচরণ করে; একাকী, জোড়ায় বা র্যাকেট ফিঙেও অন্য পতঙ্গভুক পাখির মিশ্রদলে ঘুরে বেড়ায়। বনের নিচের স্তরে গাছেরডালে ঠুকরে খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পিঁপড়া ও অন্যপোকামাকড়; পিঁপড়ার বাসার পাশে থাকতে পছন্দ করে; কদাচ মাটিতে নামে।জানুয়ারি -মে মাসের প্রজনন ঋতুতে এরা নাকি সুরে ছোট্ট ডাক দেয়: উইকা উইকউইকা…; এবং প্রবেশ-পথ পাতা ঢাকাথাকে এমন আনুভূমিক ডালে গর্ত খুঁড়েডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ২-৩টি, মাপ ২.৯×২.০ সেমি।
বিস্তৃতি: পাতি কাঠঠোকরা বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি; খুলনা বিভাগের প্যারাবনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে দেখা গেছে বলে তথ্য আছে এবং ২০ শতকের গোড়ার দিকে সিলেট বিভাগে পাওয়া যেত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে চীনের দক্ষিণাঞ্চল ও ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতের পশ্চিম ঘাটে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: পাতি কাঠঠোকরা বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]
বিবিধ: পাতি কাঠঠোকরার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ জাভার বলীয়ান (গ্রীক : deinos = শক্তিমান, opos = চেহারা; javanense = জাভার, ইন্দোনেশিয়া)।
তথ্যসূত্র:
১. ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৪১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. “Dinopium javanense“, http://www.iucnredlist.org/details/22727182/0, The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫২।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।