বাদা তিতির বিশ্বে সংকটাপন্ন ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন দক্ষিণ এশিয়ার পাখি

পাখির প্রজাতি

বাদা তিতির

বৈজ্ঞানিক নাম: Francolinus gularis (Temminck, 1815) সমনাম: Perdix gularis Temminck, 1815 বাংলা নাম: বাদা তিতির, জলার তিতির (অ্যাক্ট) ইংরেজি নাম: Swamp Francolin
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Phasianidae গণ/Genus: Francolinus, Stephens, 1819; প্রজাতি/Species: Francolinus gularis (Temminck, 1815)

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Francolinus গণে তিন প্রজাতির তিতির পাওয়া যায় সেগুলো হলো ১. কালা তিতির, Black Francolin, Francolinus francolinus ও ২. বাদা তিতির, Swamp Francolin, Francolinus gularis, এবং ৩. মেটে তিতির, Grey Francolin, Francolinus chinensis. এখানে আমাদের আলোচ্য পাখি বাদা তিতির বা জলার তিতির

বর্ণনা: বাদা তিতির হৃষ্টপুষ্ট বাদামি জলচর পাখি (দৈর্ঘ্য ৩৭ সেমি, ওজন ৫০০ গ্রাম, ডানা ১৭.৫ সেমি, ঠোঁট ২.২ সেমি, পা ৬.৫ সেমি, লেজ ১১.৫ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথার চাঁদি ও ঘাড় বাদামি; হালকা পীত বর্ণের পিঠে বাদামি ডোরা ও লালচে-বাদামি পট্টি থাকে; হালকা পীত রঙের ভ্রু-রেখা ও গালের ডোরার মধ্যে থাকে মলিন বাদামি চক্ষু-রেখা; লেজটা তামাটে, লেজের প্রান্ত ফিকে; গলা ও ঘাড়ের উপরের অংশ কমলা এবং দেহতলের শেষাংশ প্রশস্ত সাদা ডোরাসহ বাদামি; চোখ গাঢ় লাল অথবা বাদামি ও চোখের পাতা হালকা খয়েরি-সবুজ; সাদা আগাসহ পাটকিলে ঠোঁট; পা ও পায়ের পাতা কমলা-হলুদ কিংবা অনুজ্জ্বল লাল। পুরুষ ও স্ত্রীপাখির চেহারা অভিন্ন, তবে শুধু পুরুষপাখির পায়ে গজালের মত খাড়া নখর আছে।

স্বভাব: বাদা তিতির সাধারণত লম্বা ঘাস, নল অথবা জলাশয় ও নদীর কিনারার ঝোপ এবং পার্শ্ববর্তী শস্যখেতে বিচরণ করে; জোড়ায় কিংবা ৫-১৫টির অগোছালো দলে দেখা যায়। এরা প্রধানত ঊষা ও গোধূলিতে জলজ তৃণভূমি ও প্লাবনভূমিতে আস্তে আস্তে ঘুরে খাবার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা ও অন্যান্য শস্য; তা ছাড়া পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। এর মাজে মধ্যে কর্কশ গলার ডাকে: চুক্রিরু, চুকিরু, চুকিরু; ভয় পেলে ডাকে: কিউ-কেয়ার..; এবং তীক্ষ্ম কণ্ঠে ‘গান’ গায়: চুলি-চুলি-চুলি …। ফেব্রুয়ারি-মে মাসের প্রজনন মৌসুমে এরা সচরাচর নলতলে কিংবা বনে বা জলাশয়ের ধারে গাছের নিচে ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে নরম লতাপাতার স্তুপ করে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো উজ্জ্বল ফিকে ও হালকা পীত বর্ণের; মাঝে মাঝে লালচে ফুসকুড়ির মত দাগ থাকে; সংখ্যায় ৪-৬টি; মাপ ৩.৯ – ৩.০ সেমি। স্ত্রীপাখি একাই ডিমে তা দেয়।

আরো পড়ুন:  মেটে তিতির বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশের বিলুপ্ত পাখি

বিস্তৃতি: বাদা তিতির বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি; এক সময় ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের তৃণভূমি ও নলবনে পাওয়া যেত, এখন নেই। ভারত ও নেপালসহ কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: বাদা তিতির বিশ্বে সংকটাপন্ন ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

বিবিধ: বাদা তিতিরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ গলা-অলা খুদে-মুরগি (ইটালিয়ান: francolin = খুদে মুরগি; ল্যাটিন: gularis = গলার)।

আলোকচিত্রের ইতিহাস: বাদা তিতিরের ছবিটি নীলোৎপল মহন্ত (ইংরেজি: Nilutpal Mahanta) তুলেছিলেন এপ্রিল, ২০১৮ সালে যোরহাট, আসাম থেকে।

তথ্যসূত্র:

১. সাজেদা বেগম, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা -০০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0। 

3 thoughts on “বাদা তিতির বিশ্বে সংকটাপন্ন ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন দক্ষিণ এশিয়ার পাখি”

Leave a Comment

error: Content is protected !!