উধুঝাটি বাংলাদেশে সর্বত্রে জন্মানো ভেষজ গুল্ম

গুল্ম

উধুঝাটি

বৈজ্ঞানিক নাম: Ecbolium ligustrinum (Vahl) Vollesen, Kew Bull. 44(4); 651 (1)8)), সমনাম: Justicia ccbolium L. (1753), Justicia viridis Forssk. (1775), Justicia ligustrina Vahl (1804), Ecbolium linneanum Kurz (1871). ইংরেজি নাম: Green Shrimp Plant, ice crossandra, blue fox tail nail dye, green ice crossandra, turquoise crossandra. স্থানীয় নাম: উধুঝাটি। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ:  Lamiales. পরিবার: Acanthaceae. গণ: Ecbolium  প্রজাতির নাম: Ecbolium ligustrinum.

ভূমিকা: উধুঝাটি (বৈজ্ঞানিক নাম: Ecbolium ligustrinum) এক প্রকারের ভেষজ উদ্ভিদ। এশিয়া, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে সর্বত্রে জন্মে।

উধুঝাটি-এর বর্ণনা:

গুল্ম, খাড়া, ০.৫-১.০ মিটার লম্বা, কাণ্ড রোমবিহীন, পর্বস্ফীত। পাতা ৭-১০ X ৩-৭ সেমি, উপবৃত্তাকার-ডিম্বাকৃতি থেকে বিডিম্বাকৃতি, শীর্ষ দীর্ঘাগ্র, মূলীয় সূক্ষ্মাগ্র বা দীঘাগ্র, অখন্ড, মসৃণ, পত্রবৃন্ত ১-২ সেমি ৩ লম্বা।

পুষ্প প্রান্তীয় স্পাইকে সজ্জিত, ৫-১২ সেমি লম্বা, কীলকাকার, ঘন। মঞ্জরীপত্র ১.৪-২.০ X ০.৮-১.০ সেমি ও বৃহৎ ৪টি সারিতে সজ্জিত, ডিম্বাকৃতি, দীর্ঘাগ্র, শুধুমাত্র উপরের কিনারার অর্ধাংশ অণুদন্তর, অঙ্কীয় পৃষ্ঠ সামান্য রোমশ, মধ্য শিরা স্পষ্ট, মঞ্জরীপত্রিকা ২টি, ছোট, ৩-৫ মিমি লম্বা, বল্লমাকার, রোমশ।

বৃতি ৫-খন্ডিত, অর্ধসমান, ৩ মুক্ত, সরু, বেলনাকার, ২.৫-৩.০ সেমি লম্বা, হালকা নীল সবুজ, রোমশ। দলমণ্ডল নলাকার, খন্ড ৫টি, ২-ওষ্ঠবিশিষ্ট, ২ নল সরু, ২.৫-৩.০ সেমি লম্বা, বেলনাকার, হালকা নীল-সবুজ, রোমশ, খন্ড ১.২ সেমি লম্বা, কুঁড়ি অবস্থায় কিঞ্চিৎ। প্রান্তস্পর্শী, উপরের ওষ্ঠ রৈখিক, নিচের ওষ্ঠ ছড়ানো। পুংকেশর ২টি, দলনলের শীর্ষে খুব ছোট পুংদন্ড দ্বারা সংযুক্ত। পরাগধানী কোষ দীর্ঘায়ত, অসমান, স্থুলাগ্র।

গর্ভাশয় ২-ডিম্বকবিশিষ্ট, গর্ভদণ্ড সূত্রাকার, গর্ভমুণ্ড হালকাভাবে দ্বিখন্ডিত। ফল ক্যাপসিউল, ২-বীজবিশিষ্ট, ২.২-২.৫ x ০.৬-০৮ সেমি, ডিম্বাকৃতি, চাপা, শীর্ষ সূচ্যগ্র, নিম্নাংশ চঞ্চযুক্ত, ৮-১০ মিমি লম্বা, অণুরোমশ। বীজ ব্যাসে। ৬-৭ মিমি, স্পষ্টতঃ ডিম্বাকৃতি, গুটিকাকার, নিম্নাংশ খাজবিশিষ্ট, ফ্যাকাশে বর্ণের, রেটিনাকুলা বক্র।

আরো পড়ুন:  শিয়ালকাঁটা আর্জেমনে গণের ভেষজ গুণের সপুষ্পক গুল্ম

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: ছায়াযুক্ত স্থান এবং বাগান। ফুল ও ফল ধারণ প্রায় সারা বছর। বীজ থেকে নতুন চারার জন্ম হয়।ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২০ = ৩৬ (Fedorov, 1969)।

বিস্তৃতি: ভারত, আফ্রিকা, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, আরব এবং মাদাগাস্কার। বাংলাদেশে এই প্রজাতি সবত্র পাওয়া যায়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার/গুরুত্ব/ক্ষতিকর দিক:

এই উদ্ভিদ গেঁটেবাত এবং মূত্রথলির ব্যথায় ব্যবহৃত হয়, পাতার ক্বাথ জণ্ডিস, মেনোরেজিয়া ও বাত রোগে ব্যবহৃত হয় (Naskar, 1993).

উধুঝাটি-এর অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ষ্ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) উধুঝাটি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, উদ্ভিদের বাংলাদেশে আশংকামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে উধুঝাটি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটি বাগানে চাষ করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ বেগম (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ষ্ঠ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!