পরশপিপুল বৃক্ষ-টির ছয়টি ভেষজ গুণাগুণ

পরশপিপুল (Thespesia populnea) চিরসবুজ ও দ্রুতবর্ধশীল বৃক্ষ। ঔষধি কাজে এই গাছ ব্যবহৃত হয়। গাছের কাঠ আসবাব বানাতে ব্যবহৃত হয়। ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ:- ফল, ফুল, পাতা, বীজ, মূল, ছাল ও অন্তঃকাষ্ঠ।

পরশপিপুল বৃক্ষ-টির রোগ সারাতে প্রয়োগ

১. গ্রহণীতে: পুরাতন পেটের দোষে (Chronic dyspepsia and diarrhoea) যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা যদি কাঁচা পারীশ ফল একটি বেটে, ৫ গ্রাম গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে, সেটি দু’বারে অথাৎ সকালে ও বৈকালে খান, তাহলে ৪/৫ দিনের পর থেকেই উপকারটা অনুভব করতে পারবেন। ১০/১৫ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহখানিক বন্ধ রেখে পুনরায় ১০/১৫ দিন খাবেন। এভাবে ৩/৪ বার করতে হবে। যেক্ষেত্রে আমসংযুক্ত দাস্ত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ভাল কাজ হয়।

২. শুক্রমেহ রোগে: এটি মেহ বা প্রমেহ রোগের অন্তর্গত একটি রোগ। এতে শুক্রধাতুর ক্ষয় অত্যধিক হয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে নির্গত হতে থাকে। রোগী ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়ে, ক্ষুধামান্দ্য, অজীর্ণ প্রভৃতি এসে হাজির হয়, মানসিক অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ এসে ঘিরে ধরে, বয়সটা কম হলে অস্বাচ্ছন্দ্যবোধের মাত্রার বৃদ্ধি ঘটে। এমতাবস্থায় পারীশ ফুল চূর্ণ ২ গ্রাম মাত্রায় সকালে একবার এবং বৈকালে একবার আধ কাপ চিনির জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। মাসখানিক খেলে উপকারটা বুঝতে পারবেন।

৩. জীর্ণ প্রবাহিকায়: যাঁরা দীর্ঘদিন আমাশায় ভুগছেন, তাঁরা যদি পরশপিপুল গাছের ছাল ৫ গ্রাম (শুষ্ক) ৩ কাপ জলে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে, সেটিকে সকালে ও বিকালে দু’বারে মাসখানিক খান, তাহলে তাঁরা উল্লেখযোগ্য উপকার পাবেন। তবে পথ্যের দিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার। এক্ষেত্রে তরকারির স্থুলাংশ বিশেষ না খাওয়াই ভাল। এদের আবার পুঁইশাক একেবারেই নিষেধ।

৪. পাঁচড়া, দাদ, বিচচিকা, কিটিম (Scabies, Ringworm, Eczema, Psoriasis) প্রভৃতিতে: গাছের ছালের ক্বাথ উপরিউক্ত পদ্ধতিতে তৈরী করে খেতে হবে এবং ঐ ক্বাথ দিয়ে ওগুলো ভালভাবে ধুতে হবে। সেইসঙ্গে-

আরো পড়ুন:  কারোয়া একধরণের মসলা জাতীয় বিরুৎ

• ছালবাটা দিয়ে নারকেল তেল পাক করে সেই তেল পাঁচড়া ও কিটিমে (psoriasis) লাগাতে হবে। পাতা বেটে বাচ্চাদের একজিমাতে লাগাতে হবে।

• ফলের হলদে রস দাদে লাগাতে হবে।

• ফুলের রস পাঁচড়া ও চুলকানিতে লাগাতে হবে।

৫. আমবাতে: গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, ফোলা, প্রদাহ থাকবে, কোন কোন ক্ষেত্রে জ্বরও আসে যায়, তবে প্রথমের দিকে দুটি/একটি গাঁটে আক্রমণ হয়, ধীরে ধীরে অন্য গাটে ছড়িয়ে পড়ে। সকালের দিকে বড্ড টান টান মনে হয়। রোগ বেশিদিনের হলে গটগুলোতে বিকৃতি দেখা যায়। এক্ষেত্রে খাওয়ার ঔষধ ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে লাগানোর ঔষধও ব্যবহার করতে হবে।

দারীশের পাতা অথবা মূলের ছাল বেটে গরম করে প্রদাহ ও শোথযুক্ত সন্ধিতে প্রলেপ দিতে হবে। কয়েক দিন পর পর দেবার পর ফোলা ও যন্ত্রণা বিশেষতঃ ফোলাটা বেশ খানিকটা কমে গেলে তারপর পরশপিপুল পাতা বাটা দিয়ে সরিষার তেল পাক করে সেই তেলটা দিনে ২ বার লাগাতে হবে।

৬. বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড়ে: পরশপিপুল বৃক্ষ-এর পাতার বোঁটা ভাঙ্গলে যে হলদে আঠা বেরোয়, তা লাগালে যন্ত্রণা কমে যায়।

CHEMICAL COMPOSITION

Thespesia populnea Soland. ex. Correa. Seeds contain: dark-red fatty oil 20%, fatty acids (myristic 1.0%, palmitic 21.4%, stearic 1.9%, oleic 32.5% and linoleic 43.2%), unsaponifiable matter 0.72% (ceryl alcohol and B-sitosterol). Petals contain: populnin 0.33%, populnetin 0.07% and herbacetin 0.03%, a flavonoid (populneol). Flowers contain: quercetin, gossypetin, kaempferol-3monoglucoside, B-sitosterol and gossypol. Fruits contain: gossypol, thesperin 0.4% and herbacetin. Leaves, roots, stem and bark contain: gossypol.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ২২৫-২২৭।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: J.M.Garg

আরো পড়ুন:  আতঁমড়া গুল্ম-এর নানাবিধ ভেষজ প্রয়োগের নিয়ম

Leave a Comment

error: Content is protected !!