আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > খবর > বাংলাদেশের নাটোরে পাখি শিকারি লাল মিয়ার কারাদণ্ড

বাংলাদেশের নাটোরে পাখি শিকারি লাল মিয়ার কারাদণ্ড

বাংলাদেশের নাটোরের কুখ্যাত পাখি শিকারি লাল মিয়া এখন জেলে। লাল মিয়াকে পাখি শিকার বন্ধ করতে অনেকবার সর্তকর্তা করা সত্বেও সে পাখি শিকার চালিয়ে যাচ্ছিল। কোনোভাবেই তাকে পাখি শিকার থামানোর কথা শোনাতে না পেরে পাখিপ্রেমি জুয়েল খান জুয়েলী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহী, এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিমকে বিষয়টি অবহিত করেন।

কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিমের পদক্ষেপ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী টিমের সদস্যবৃন্দের নেতৃত্বে গত ১১ মে ২০১৪ তারিখে তাৎক্ষনিক নাটোর মির্জাপুর দিঘাতে অভিযান চালিয়ে ৪টি প্রশিক্ষিত ঘুঘু, ১টি প্রশিক্ষিত ডাহুকসহ মোট ১১টি পাখি ও পাখি ধরা ফাঁদসহ লাল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তাকে জেল জরিমানা করেন। গ্রেপ্তার হওয়া লাল মিয়াকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন নাটোর জেলা প্রশাসনের উক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

রোদ্দুরে ডট কমকে মোল্যা রেজাউল করিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘুঘু শিকারের কাজ করে আসছেন লাল মিয়া। প্রথমে শিকারি বানানো হয় একটি ঘুঘুকে। এ জন্য তার দুই পাখার বড় দুটি পালক ফেলে দিত লাল মিয়া। এতে করে ঘুঘুটি আর উড়তে পারে না। এরপর দীর্ঘদিন ধরে একধরনের শিস বাজানো হয় ঘুঘুর সামনে। শিস শুনে শুনে ঘুঘু নিজেই একসময় ডাকাডাকি শুরু করে। তার ডাকে অন্য ঘুঘুও চলে আসে খাঁচার ভেতর। এ খাঁচাটিও অনেকটা ঘুঘুর বাসার মতো তৈরি। খাঁচায় বসিয়ে রাখা হয় ডানা কাটা শিকারি ঘুঘুকে। লাল মিয়া শিস বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই ডাকাডাকি শুরু করে ওই শিকারি ঘুঘু। তার ডাকে সাড়া দিয়ে আরেকটি ঘুঘু ঢুকে পড়ে খাঁচার ভেতর। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পুরো উত্তরবঙ্গে এভাবেই পাখি ধরা হয়ে থাকে। গত এক বছরে ৪৭ জন পাখি শিকারিকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন:  বাংলাদেশের মহাবিপন্ন কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম এবং বন বিভাগের উদ্ধার কার্যক্রম

এলাকাবাসী জানান, লাল মিয়া প্রায় ২০ বছর ধরে পাখি শিকারের সাথে জড়িত ছিল। ঘুঘুকে দিয়ে ফাঁদ বানিয়ে ঘুঘুকে খাঁচায় বন্দী করা সে ঘুঘু শিকার করত। নতুন ঘুঘুকে খাঁচায় ভরে পুরোনো ঘুঘুটিকে বিক্রি করত উচ্চ মূল্যে। লাল মিয়া কারো কথা পরোয়া না করে প্রতিদিন অসংখ্য ঘুঘু পাখি, ডাহুক পাখি শিকার করে গোপনে ঢাকাতে পাচার করত বলে অভিযোগ আছে। লাল মিয়া জেলে, তাই এখন ঐ এলাকার পাখিগুলো নিরাপদ থাকবে এমন আশাবাদ করেছেন এলাকাবাসি।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page