ভূমিকা: সাদা কলমি (বৈজ্ঞানিক নাম: Merremia umbellata) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ বীরুৎ । এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।
সাদা কলমি-এর বর্ণনা :
বীরুৎ সদৃশ বা কাষ্ঠল বল্লী, কখনও ভূশায়ী, তরুণ অংশ দুগ্ধবৎ তরুক্ষীয় যুক্ত। কান্ড রোমাকৃত বা রোমশ বিহীন। পত্র ৩-৭ × ০.৮-৫.০ সেমি, ডিম্বাকার, দীর্ঘায়ত বা ভল্লাকার, মূলীয় অংশ সাধারণত হৃৎপিন্ডাকার বা গোলাকার থেকে কর্তিতাগ্র, মূলীয় খন্ড গোলাকার, কৌণিক, কখনও বল্লমাকার, দীর্ঘাগ্র, রোমশ বিহীন বা কোমল দীর্ঘ রোম যুক্ত। পুষ্প স্বল্প বা বহুসংখ্যক, অক্ষীয় আম্বেলিফরম সাইম মঞ্জরীতে বিন্যস্ত, মঞ্জরীদন্ড রোমশ। বৃন্ত ৭-১৫ মিমি লম্বা। বৃত্যংশ অর্ধসম, বর্তুলাকার, শীর্ষ গোলাকার বা খাতাগ্র, রোমশ বিহীন বা স্বল্প রোমশ, অবতল। দলমন্ডল ২.৩-৫.০ সেমি লম্বা, চোঙ্গাকৃতি, সাদা, বহিরাংশ রোমশ বিহীন। ক্যাপসিউল ১০-১২ × ৭-৮ মিমি, রোমশ বিহীন, ৪ কপাটিকা যুক্ত, নিম্নাংশ থেকে খন্ডিত। বীজ ঘন রোমশ। ক্রোমোসোম সংখ্যা: জানা নেই।
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:
অরণ্যের কিনারা, গ্রামের ঘন ঝোপ। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।
বিস্তৃতি :
আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জন্মে। বাংলাদেশের কক্সবাজার, ঢাকা, জামালপুর, রাঙ্গামাটি এবং সিলেট জেলায় জন্মে।
ব্যবহার: পত্র সবজিরূপে সিদ্ধ করে আহার্য।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) সাদা কলমি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে সাদা কলমি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।
তথ্যসূত্র:
১. বুশরা খান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৭ম, পৃষ্ঠা ২৯০-২৯১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: David E Mead
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।