রাজমা লতানো বর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ

এর আদি বাসস্থান নিয়ে মতভেদ আছে। কোনো কোনো উদ্ভিদ-বিজ্ঞানীর মতে উষ্ণ-প্রধান আমেরিকার অঞ্চলসমূহ, আবার কারো ধারণা দক্ষিণ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা এটির আদি বাসভূমি। তবে আদি বাসস্থান যেখানেই হোক না কেন, বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীর গ্রীষ্ম-প্রধান অঞ্চলে রাজমার চাষ হয়। অপেক্ষাকৃত গরম অথচ স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এটি ভালভাবে জন্মে।

রাজমা-এর পরিচিতি

রাজমা বর্ষজীবী লতানে উদ্ভিদ। অল্প শক্ত কাণ্ডবিশিষ্ট লতা, সামান্য রোমশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাছ ৫। ৭ ফুট লম্বা হতে দেখা যায়। তিনটি করে উপপত্র নিয়ে এক-একটি পাতা। ফুল সাদা অথবা হালকা বেগুনি রঙের। পুষ্পদণ্ড ছোট। ফল ৪-৬ ইঞ্চি লম্বা, আধ ইঞ্চির মতো চওড়া, মসৃণ, অল্প একটু বাঁকা, তাতে ৪। ৬টি বীজ থাকে। বীজ লম্বাটে, সাদা কিংবা খয়েরী রঙের, সামান্য চ্যাপ্টা। শুকনো বীজ বাজারে ফ্রেঞ্চবীনের বীজ কিংবা রাজমা নামে পাওয়া যায়।

এর বোটানিক্যাল নাম Phaseolus vulgaris Linn., এটি Papilionaceae পরিবারভুক্ত। ভারতে এর নাম রাজমা, বাকলা নামে পরিচিত। এছাড়া ফ্রেঞ্চবীন নামেও লোকজন চেনে। ভারতের প্রায় সর্বত্র এর চাষ হয়ে থাকে। সমতল ভূমিতে বীজ বোনা হয় আগস্ট থেকে অক্টোবর এবং পাহাড়ী অঞ্চলে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে। বীজ বোনার মাস দেড়েকের মধ্যে গাছে ফুল ও ফল ধরে।

রাজমা-এর খাওয়ার প্রক্রিয়া

সাধারণতঃ এই বীনটিকে কাঁচা অবস্থায় তরকারি ক’রে খাওয়া হয় । সামান্য শক্ত হয়ে গেলে ছিবড়ে হয়ে যায়, তখন তা খাওয়া যায় না। পেকে গেলে যে বীজ আমরা পাই, সেগুলিকে নানা প্রকারে তরকারি ক’রে খাওয়া চলে। এর ডালও উপাদেয় খাদ্য। এটি অত্যধিক প্রোটিন ও কার্বহাইড্রেটস্-যুক্ত খাদ্য, সেইসঙ্গে সুস্বাদুও। প্রোটিনের পরিমাণ এতই বেশি থাকে যে, অনেক সময় মাংসের সঙ্গে তুলনা করা হয় । তাই রাজমা অত্যন্ত উপকারী ।

খাদ্য উপাদান ও গুণাগুণ

কাঁচা সবুজ ফলে সামান্য পরিমাণে সায়ানোজেনেটিক গ্লুকোসাইড থাকে। এটি প্রস্রাবকারক, মূত্রাশয় ও হৃদয়ের নানা রকম রোগে উপকারী । এছাড়া এই বীন রক্তের শর্করা কমাতে সাহায্য করে। সবুজ কচি ফলে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বহাইড্রেট্স, কালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, সালফার, ক্লোরিন, ভিটামিন-এ, বি, সি প্রভৃতি থাকে। কয়েকটি মূল্যবান অ্যামাইনো এসিড ও সামান্য পরিমাণে অক্সালিক এসিড এতে আছে।

আরো পড়ুন:  ধেমনা বা চেমনা বাংলাদেশের বর্ষা অরণ্যে জন্মানো লতা

শুকনো বীজে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বহাইড্রেটস্, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন-বি, সি প্রভৃতি বিদ্যমান। প্রোটিন ও ফ্যাট বেশি থাকায় এটি অত্যধিক পুষ্টিকর খাদ্য। এতেও সামান্য পরিমানে হাইড্রোসায়ানিক এসিড আছে।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, সপ্তম মুদ্রণ ১৪২৬, পৃষ্ঠা, ১১২-১১৩।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Thingnam Girija

Leave a Comment

error: Content is protected !!