আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জীবনী > টমাস ম্যালথাস বস্তুনিষ্ঠ ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ

টমাস ম্যালথাস বস্তুনিষ্ঠ ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ

টমাস ম্যালথাস

ইংল্যান্ডের ধর্মজাযক টমাস রবার্ট ম্যালথাস বা মালথুস (ইংরেজি: Thomas Robert Malthus; ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৭৬৬ – ২৩ ডিসেম্বর ১৮৩৪ খ্রি.) জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন সমস্যার উপর একটি তত্ত্বের প্রবর্তন করেন। এই তত্ত্ব ম্যালথাসবাদ নামে পরিচিত।

ম্যালথাসের মতে, কোনো দেশের খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির হারের সঙ্গে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হারের তুলনা করলে দেখা যাবে যে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার যদি আঙ্কিক হয়, তা হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি হচ্ছে জ্যামিতিক। অর্থাৎ মানুষের খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি পায় ১,২,৩,৪ এরূপ ক্রমিক ভিত্তিতে। বিপরীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় ১, ৩, ৯, ২৭ এরূপ গুণনের হারে। ফলে কালক্রমে জনসংখ্যা ও খাদ্যের মধ্যে ব্যবধান বিরাট হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের জীবন ধারণের জন্য জনসংখ্যা ও খাদ্যের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করা আবশ্যক। মালথুসের মতে এই ভারসাম্য মানুষ সাধারণত বজায় রাখে না। জনসংখ্যা খাদ্যের পরিমাণকে সংকটজনকভাবে অতিক্রম করে যায়। এমন অবস্থায় প্রকৃতি নিজে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, ঝড়, যুদ্ধ ইত্যাকার দূর্বিপাক সৃষ্টি করে জনসংখ্যা হ্রাস করে খাদ্যের পোষন ক্ষমতার কাছাকাছি নিয়ে আসে।

টমাস ম্যালথাসের পরবর্তী অনুসারীগণ মনে করেন, আধুনিককালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূলে আছে জনস্বাস্থ্যের উন্নতির ফলে মৃত্যুর হারের হ্রাসপ্রাপ্তি। জনসংখ্যা ও খাদ্যের মধ্যকার ব্যবধান দূর করার জন্য ম্যালথাস যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদিকে প্রকৃতি দত্ত সমাধান এবং অনিবার্য্য বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার শোষণ এবং তার ফলে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষকে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন করেছেন। মার্কসবাদ এ কারণে তীব্রভাবে মালথুসবাদের বিরোধিতা করে।

মার্কসবাদের মতে বিজ্ঞানের যে বিরাট উন্নতি সাধিত হয়েছে তাতে খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে অধিক করা সম্ভব। কাজেই জনসম্পদ জনসংখ্যাকে বহন করতে পারে না, একথা সত্য নয়। সমাজতান্ত্রিক উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থায় জনসংখ্যার বৃদ্ধি কোনো অলঙ্ঘ সমস্যা বলে প্রতীয়মান হয় নি। জনসংখ্যার বৃদ্ধিকেও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রিত করা চলে। আসলে পুঁজিবাদী সমাজে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে কৃত্রিমভাবে অর্থনীতিক সঙ্কটের মূল হিসাবে উপস্থাপিত করার চেষ্টা করা হয়। সমস্যার মূল জনসংখ্যার বৃদ্ধি নয়, উৎপাদন ও বন্টনে পুঁজিবাদী শোষণ এবং অরাজকতার অস্তিত্ব।

আরো পড়ুন:  গ্যালিলিও গ্যালিলি ছিলেন ইতালির পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী

তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ২৭৪।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page