আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য > রাজকন্যার মৃত্যু

রাজকন্যার মৃত্যু

পূরবী সম্মানিত
কবি ও ছোটগল্পকার

যথাযথ শোকাবহ ভাব গাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে তাকে সমাহিত করা হলো। সামিয়ানার নিচে কফিনে শায়িত তার দেহ ফুলে ফুলে ঢেকে গেল। সাদা কাল পোশাক পরিহিত মৃতের পরিবার,শুভানুধ্যায়ী,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শোকের আবহ বজায় রেখে, তার চলে যা্ওয়ায় কত শুন্যতা ,কত শোক কত অপরিমেয় ক্ষতি হল- স্বল্প ভাষণে তা তুলে ধরলেন। কেউ কাঁদলেন, কেউ কাঁদালেন। তার স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলল না। এটি হত্যা না আত্মহত্যা কিংবা তার জীবনকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে কিনা এ নিয়েও কোন প্রশ্ন ওঠেনি ।

রাজকন্যার নামে নাম। আমি তাকে রাজকন্যা বলে ডাকতুম। স্বামীর প্রাসাদের মতো বাড়িতে তার রাজকন্যা নামটি বেশ মানাতো। কোন এক কর্মশালায় তার কবিত্ব ,আবৃত্তি ,তার চলনে বলনের ঢংয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই সূতো ধরেই আমাদের বন্ধুত্ব ।

সে আমাকে সই বলতো –‘সই চলো মেলায় গিয়ে পাঁপড় ভাজা খাই।’

‘সই চলো কাশবনে লুকোচুরি খেলি।’-এমন শিশুশুলভ ছিল তার মনোজগৎ ।কবিতা কর্মশালা,নাটক, আবৃতি সন্ধ্যা কিংবা সাহিত্য সম্মেলেনে প্রায়ই আমাদের সন্ধ্যা  পেরোতো।আমি ইউনিভার্সিটি হলে থাকতাম বলে আমাকে সান্ধ্য আইনের কড়াকড়ি পরোয়া করতে হতো । সূর্য অস্ত যাবার পর হলে ঢুকতে পারতামনা ।রাজকন্যা বলতো–‘আমার ওখানে চলো,রাতটা গল্পে- আড্ডায় কেটে যাবে ।’

ব্যাবসার কাজে রাজকন্যার বর প্রায়ই বাইরে থাকতো ,বাসায় থাকলেও বরের কাছে ঘেষতোনা ।

বলতাম-বরের কাছে ঘুমাবেনা ?

‘থাকিনা, সই তোমার কাছে’বরকে এড়িয়ে চলতো বুঝতাম। টাকপড়া বরের অনুভুতিটা বোঝা যেতোনা। কেননা জনাবের সঙ্গে আমার মুখোমুখি হয়ে যাওয়াটা দুজনের জন্যই বিব্রতকর ছিল; যদিও খুব কমই দেখা হতো।

একদিন বলেছিলাম এই যে তুমি কবিতা লিখছ ,বাইরে যাচ্ছ –আসছ, উনি কিছু বলেননা, তমি কত সহজেই তা করতে পারছ। সাধারণত স্বামীরা বিবাহিত নারীদের বাইরে বেরোতে নিষেধ করে- এটা আমার ধারণা ছিল।

‘আমার বরকে এতটা অমার্জিত ভাব কেন, তোমার সামনে আমাকে বকাঝকা করবে, গায়ে হাত তুলবে ?আর আমার বাইরে যাবার কথা বলছ?আমি বাইরে থাকলে ওর সুবিধাই হয়।যদি সে বাসায় থাকে ,কাজের মেয়েটির সঙ্গেও …..।’এমন স্বাভাবিক ভাবে সে বলে গেল,যেন এতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

‘কি বলছ!’আমি অবাক হয়ে বললাম।

‘হ্যাঁ আমার সামনেই ওয়াশরুমে  কাজের  মেয়েকে নিয়ে ঢুকে পড়ে । আমার বাসায় মেয়েরা থাকতে চায়না, দেখনা ?’

একদিন আমাদের বাইরে যাবার তাড়া ছিল, আমার সামনেই ব্লাউজ পাল্টাচ্ছিল সে। তখন পিঠে কালো জমাট রক্তের দাগ দেখে চমকে উঠেছিলাম। জিজ্ঞেস করলে, হেসে উত্তর দিয়েছিল- সুখ। ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলটা বাকিয়ে কলম ধরতে পারতোনা, বলেছিল –গুরুদক্ষিণা।

মানে ?

‘এই ধর আমাকে পড়াশোনা শিখিয়েছে,কবিতা লিখতে শিখিয়েছে,তাই হুইস্কির বোতল দিয়ে মেরে গুরুদক্ষিণা নিচ্ছে ।আর আমার সুখতো উপচে পড়ছে,দেখছনা?’ বুঝলাম- বরের সঙ্গে দুরত্বটা কোথায়?

আরো পড়ুন:  ইতিহাস খুঁড়ে

আমরা প্রায়ই কংসনদ পেড়িয়ে পাহাড়ি সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে চলে যেতাম। গাড়িতে ঘন্টাখানেকের পথ ছিল।ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে সোমেশ্বরী আর আত্রাখালির মিলন দৃশ্য দেখতাম।কখোনো সোমেশ্বরীর বাঁক পেড়িয়ে তার তীর ঘেসে ডানে পাহাড়, বামে নদী,-কাঁচা পথ ধরে আমরা এগিয়ে যেতাম।

সাধারনত লোকজন যেতো তেমন জায়গা ছাড়িয়ে যেতো রাজকন্যা। বেপরোয়া ছেলে ছোকরারাই কেবল ঝুঁকি নিয়ে সেসব জায়গায় যেতো। তাকে নিষেধ করতাম- পিছু ছুটতাম। একদিন পাহাড়ের ভাঁজে হাটতে গিয়ে তাকে খুঁজে পাচ্ছিলামনা ।

স্থানীয় একটা ছেলে আমাদের গাইড ছিল ।ওকে বললাম ।সন্ধ্যা হয়ে আসছিল ,বর্ডার এরিয়া ,ওখানকার ভয়ংকর সব গল্প আমাদের শোনা হয়ে গিয়েছিল;যেগুলি হতে পারে সত্য মিথ্যার বানানো কল্পকথা ।তবু আমি শঙ্কিত ছিলাম।

আমরা যখন তাকে খুঁজে পেলাম -সে হাওমাউ করে কাঁদছিল ।ইচ্ছে করেই লুকিয়েছিল-প্রকৃতির কোলে কেঁদে নেয়ার জন্য ।

এমন কিছু ঘটনা , জীবন সর্ম্পকে টুক্-টাক্ কথাবার্তা আর তার নিঃশ্বাস থেকে, তার কাহিনীটুকু পড়তে পারতাম ।

অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবার ব্যবসায়ী বন্ধুর সংগে বিয়ে ।

‘আপত্তি করনি ?’

‘মনে নেই ।করলেও অন্য রকম কিছু ঘটতো্না।বড় বোনেরও বিয়ে হয়েছিল দ্বিগুনের  চেয়ে বেশী বয়সি ক্যাপ্টেনের সঙ্গে ।’

রাজকন্যার নিঃশ্বাসে দীর্ঘ আর ভারী বাতাস বইতো,বুঝলাম- ঘর কেন তাকে টানেনা ,বাইরে কেন স্বাচ্ছন্দ খোঁজে ,কেন কবিতাকে আঁকড়ে বাঁচতে চায়।

একদিন তার কাব্যগ্রন্থ বের হলো,মোড়ক উন্মোচন হলো,গুণিজন প্রশংসা করলেন ।

থলের বেড়ালও বের হলো একদিন ।রাজকন্যার বরের প্রেমিকা গর্ভবতী হলো।তাই বরকে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিতে হলো ।

রাজকন্যার মেয়ের নাম ছিল ক্যামেলিয়া, আমি বলতাম -প্রিন্সেস। বলতে গেলে প্রিন্সেসকে নিয়েই ছিল তখন তার সংসার ।

একদিন শুনলাম শীঘ্রই তাদের ডিভোর্স হতে চলছে।এ উপলক্ষে গাজিপুরে নিজেদের রিসোর্টে শেষ বিবাহ বার্ষিকীটা খুব ধুমধাম করে হয়েছিল ।দুপক্ষের আত্মীয়,বন্ধু,ভি আই পি’দের নিয়ে।

শেষ বিবাহ বার্ষিকীতে রাজকন্যা ও তার বর বেশ হাস্যোজ্জ্বল ছিল ।আমি পরে ছবিতে ও ভিডিওতে তা দেখেছিলাম।

এই আনুষ্ঠানিকতা,এই ভনিতার মানে জিজ্ঞেস করিনি  তাকে।

রাজকন্যা প্রাসাদ ছেড়ে চলে যাবেন ।সতীন আর সতীনের দু’বাচ্চাকে প্রাসাদে রেখে তবেই ছুটি ।

প্রস্তুতি চলছিল,ধোঁয়া-মোছা,গুছানো।–রাজকন্যা নিজে তদারকি করে করছিল।

জিজ্ঞেস করেছিলাম-‘কিভাবে পার তুমি?’

‘পারতে হয়, তাই পারি।’তাছাড়া ক্যামেলিয়া কোথায়,কার কাছে থাকে কি জানি!যদি সে এখানে একটু গুরুত্ব পায় সে আশায় করছি।’

‘কষ্ট হচ্ছেনা ছেড়ে যেতে ?’আমি বললাম।

‘হচ্ছেতো ।বারো বছরের সংসার,সংসারে কি শুধু স্বামী থাকে ?এ পক্ষের আত্মীয়–স্বজন,বন্ধু-বান্ধব,আলমারী,খাট,শোকেজ,ওয়ারড্রোব,জানালার পাশের এই জুঁই ফুল,পেয়ারা গাছ ,টুনটুনির বাসা, কত গল্প- কত মায়া !

আরো পড়ুন:  সুখী পরিবার --- লু স্যুন

একদিন খুব কাঁদল ,আমি বারণ করিনি ।কাঁদুক ,কেঁদে ভাসিয়ে দিয়ে যাক মায়ার সংসার ।

চাকরি নিয়ে আমি অন্যত্র চলে গেলাম, তাই এ সময়টায় তার সাথে আমার বিচ্ছেদ হলো।

শুনেছিলাম মেয়ের এ অপমান রাজকন্যার বাবা মেয়ে নেননি।তিনি পয়সাওয়ালা আর দেমাগী মানুষ ছিলেন, রাজকন্যাকে আবার বিয়ে দিলেন ।নতুন প্রাসাদ গড়ে দিলেন ,তিনি নতুন বরকে প্রতিষ্ঠিত করার পণও  নিয়েছিলেন ।

কিছুদিনের মধ্য রাজকন্যা আর তার নতুন বর সুখী দম্পতির মতো সমাজে পরিচিত হতে থাকলেন ।কোথাও আমন্ত্রিত হলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশী মানের ‍উপহার সামগ্রী নিয়ে যেতেন ।লোক সমাগম হয় কিংবা সমাজের মাণ্যিগন্যিরা যেখানে আমন্ত্রিত হতেন-বিয়ে,জন্মদিন ,বিবাহ বার্ষিকীর পার্টি ,মৃতের বাড়ি,স্মরণ সভা ,কোনটাই তারা পারতপক্ষে এড়িয়ে যেতেননা।

সে সময় শহরে রাজকন্যার চাকচিক্যময় হাল ফ্যাশনের বাড়ির মতো্ আর একটিও বাড়ি ছিলনা ।লোকে একে সত্যি সত্যি প্রাসাদ মনে করতো,অবসরে তারা রাজকন্যা আর তার নতুন বরের সুখী দাম্পত্য জীবনের গল্প করতো ।

রাজকন্যার নতুন বর পাকা ব্যবসায়ী ছিলেন।হোটেল,রিসোর্ট,গার্মেন্টস ,রিয়াল এস্টেট ব্যবসায় পরপর বিনিয়োগ করে সফল হতে থাকলেন ।

একদিন রাজকন্যাকে দেখতে গেলাম। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর, দুজন দুজনকে পেয়ে উষ্ণ সুখবোধ করলাম।তার এপক্ষের মেয়ে টিউলিপকে দেখলাম –গৃহ পরিচারিকার সঙ্গে ছেলেমি করছে।

তার গুছানো সংসার আমাকে ঘুরে ঘুরে দেখাল।  তার উত্তরের আকাশে দুরের পাহাড় ,পূবের রিডিং কর্নার,দক্ষিণের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে শহরের ব্যস্ততা দেখা,তার প্যাশন ফ্লাওয়ার,গজানিয়া,প্লামেরিয়া,নানা প্রজাতির টেরেস্টিয়াল অর্কিড।

বললাম –‘আর তোমার ক্যামেলিয়া?’তার মুখের উপর দিয়ে যেন একখন্ড মেঘ সরে গেল ।

ক্যামেলিয়াকে আমি যে প্রিন্সেস ডাকতাম মনে ছিল,‘তোমার প্রিন্সেস এখন ইউনিভার্সিটি পড়ছে ।হয়তো ভালো আছে।’

‘হয়তো কেন?’

এখানে সৎ বাবা ওখানে সৎ মা –বেচারি একূল ওকূল ছেড়ে নিজের জগৎ তৈরী করে নিয়েছে।’

‘তোমার সঙ্গে যোগাযোগ নেই ?’

‘আছেতো ।গত সপ্তাহে পাতায়াতে ঘুরতে গেছে-বন্ধুদের নিয়ে ।ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখলাম, ডিজে পার্টিতে নাচছে বন্ধুদের সঙ্গে ।মেয়েটা ভাল নাচে।’

‘সে তো ভাল কবিতা আবৃত্তি করতো ,গাইতো ।নতুন কুড়ি রবীন্দ্র সঙ্গীত বিভাগে প্রথম হয়েছিল না?’

‘হ্যাঁ,আমি ছিলাম তখন রত্নগর্ভা মা ।’

আচমকা বলে বসল-‘আমার না সংসারের খুব লোভ।মেয়েটার কথা ভাবলামনা,এবার কিন্তু আমি লড়বো।টিউলিপের জন্য আমি নিজেকে পাল্টাবো ।’

‘কেন এমন বলছ?’

‘যদি জীবনে ঘটনার রিপিটেশন হয়।’

‘এমন আশঙ্কা কেন?’

‘নাহ্ এমনিতেই।’

‘ও,আচ্ছা ।’

‘তোমার বরের সঙ্গে দেখা হলোনা ।তাকে আমার শুভেচ্ছা জানিও।’

‘সিঙ্গাপুর গেছেন ব্যবসার কাজে, ফিরলে তোমার কথা বলবো।’

দুষ্টোমি করলাম –‘একা ছেড়েছো যে!’

‘একা কোথায়?মিস রাবিনা মানে পিএ সাথে আছে ।সে সোহেলের খুব দেখাশোনা করে।’

রাজকন্যাকে উদাস হতে দেখলাম ।যদিও সে বাইরে ছিল ধীর–স্থীর,আমি তার ভেতরের অস্থিরতা টের পাচ্ছিলাম।

আরো পড়ুন:  ভালোবাসার গোড়ার পাঠ --- চিয়া চ্যুন

যেন সে ভেসে বেড়াচ্ছে ।এ প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গ।প্রসঙ্গ শেষ না হতেই পাল্টে ফেলছে ,গাইছে, আবৃত্তি করছে।নিজের শুন্যতা ঢাকার যেন বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আমাকে এগিয়ে দেয়ার সময় জিজ্ঞেস করলাম-‘লেখালেখি কেমন চলছে?’

‘হচ্ছেনা,কবিতা আসছেনা, তাছাড়া কেমন যেন ব্যস্ততায় জড়িয়ে গেছি।’

‘তোমার প্রথম কবিতার বই খুব প্রশংসা পেয়েছিল ।গুণিজনরা সম্ভাবনা দেখেছিল তোমার কবিতায়।’

‘হয়তো।’কোন এক দুর জগত থেকে–ছেঁড়া ছেঁড়া উত্তর দিচ্ছিল যেন। 

তারপর থেকে টেলিফোনে মাঝে মাঝে কথা হতো আমাদের ।

সামাজিকতা,আতিথেয়তা,পার্টি,…..দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর গল্প।সেই একই রকম –ছেঁড়া ছেঁড়া।

বিয়ার দিয়ে শুরু, শেষে স্পিরিটস ছাড়া চলতোনা।জীবন যাপনেও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছিল ।পঞ্চাশেই কিডনি, হার্ট,লাঙ,অকেজো হয়ে পড়েছিল ।

দেশের বাইরে বহুদিন চিকিৎসা হয়েছে।অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল।শেষের দিকে ল্যাবএইডে ছিল ।ছুটে গিয়েছিলাম দেখতে-চিনতে কষ্ট হচ্ছিল।বললাম-‘কেন এমন করলে? কেন নিজেকে শেষ করে দিয়েছ?’

রুগ্ন হাসি হেসে বলেছিল-‘কিছু করিনি তো ,এমনিই হয়ে গেছে।আমার তো সব এমনিতেই হয়ে যায়।শরীরও গেছে ।জীবনটা দীর্ঘ মনে হচ্ছে ।আর বইতে পারছিনা ।ক্যামেলিয়াকে যদি একবার দেখে যেতে পারতাম!’

‘আসেনি?’

‘কোথা থেকে আসবে?বেঁচে আছে কীনা!কত মেয়েই তো হারিয়ে যায়।প্রা্য় তিন বছর,অনেক খুঁজেছি’রাজকন্যার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল ।

আমরা তার প্রাসাদে লাশবাহী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম –নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, শুভানুধ্যায়ীরা।নারীরা কক্ষগুলিতে ছিল,পুরুষরা -বারান্দায়,হলরুমে, সামনের লনে অপেক্ষা করছিল।

মিস্ রাবিনাকে এই প্রথম দেখলাম-চল্লিশোর্ধ্ব,আকর্ষনীয়া,তার লাস্যময়তা চোখে পড়ার মতো।সবদিক সামলাচ্ছিল আর প্রয়োজনীয় সব কর্তৃত্ব করছিল। মিষ্টার সোহেলকে বার বার উচ্চ রক্তচাপের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল-যেন তিনি অধিক মানসিক চাপ অনুভব না করেন ।রাজকন্যার ছোট মেয়ে টিউলিপের অসংলগ্ন আচরণও মিস্ রাবিনাকেই সামলাতে হচ্ছিল দক্ষ কৌশলে ।

টিউলিপের বন্ধুরা তার রুমে তার জন্য অপেক্ষা করছিল ।টিউলিপ বন্ধুদের সাথে বাইরে ঘুরতে যাবার জন্য গোছাচ্ছিল ।

‘টিউলিপ,তোমার মম মারা গেছেন।’যথেষ্ট কাতর কন্ঠে মিস্ রাবিনা বললেন।

‘জানি।’

‘জান, তবে কিছুই মানছনা,মানলে তুমি এসব করতে পারতেনা।’

‘আ্মি না গেলেও মম তো আর ফিরে আসবেন না’

‘তোমার শোক করা উচিত, প্রার্থনা করা উচিত -ধর্মীয় রীতি ও শিষ্টাচার  অনুসারে ।’

‘সেটা বাড়ির বাইরে গিয়েও করা যায়।’

‘বাট ইউ আর গোয়িং টু এ প্লেজার ট্যুর,বেবি।’

‘ইয়েস আন্টি ,গাইস্ আর ওয়েটিং ,আই হ্যাভ টু গো,উ’ইল গো দ্যায়ার আফটার ব্যারিড- এট দ্যা ইভিনিং।’

আত্মীয়রা টিউলিপের উশৃঙ্খলতা নিয়ে গুঞ্জন করছিল ভেতরে ভেতরে ।তারা কেউ কেউ মিস রাবিনার কত্রীর মতো আচরণে ক্ষুব্ধ ছিল ।আর সোহেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়েও ।

রাজকন্যার দাফনের পর নিকটাত্মীয়রা ছাড়া আমরা চলে এসেছিলাম ।

টিউলিপ বন্ধুদের সাথে ট্যুর বাতিল করছিল, মিস্ রাবিনার অনুরোধে ।

অতিথি লেখক
রোদ্দুরে ডট কমে অতিথি লেখক হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কলাম, অনুবাদ, নিবন্ধ ও প্রবন্ধ লেখায় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন পূরবী সম্মানিত, ইভান অরক্ষিত, রনো সরকার এবং রণজিৎ মল্লিক। এছাড়াও আরো অনেকের লেখা এখানে প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page