ভূমিকা
প্রকৃতির বিশাল ভাণ্ডারে এমন কিছু ঔষধি উদ্ভিদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যা বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও গুণে অনন্য। এমনই একটি পরিচিত অথচ বিস্ময়কর গুণসম্পন্ন ভেষজ হলো ‘আপাং’। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে বলা হয় Achyranthes aspera। আমাদের চারপাশে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই উদ্ভিদটি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রসারের যুগেও এর শিকড়, পাতা, ফুল এবং বীজের কার্যকারিতা ভেষজ চিকিৎসকদের কাছে অপরিসীম। আজকের নিবন্ধে আমরা এই বহুবর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং মানবদেহের বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়ে এর নানাবিধ ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
বিবরণ
এই উদ্ভিদটি মূলত একটি সোজা বা ঋজু প্রকৃতির বহুবর্ষজীবী বীরুৎ। যা অনেক সময় উপগুল্ম হিসেবেও পরিচিতি পায়। সাধারণত ০.৩ থেকে ১.০ মিটার পর্যন্ত উঁচু এই গাছটি বেশ শক্ত ও অনমনীয় গড়নের হয়ে থাকে। এর প্রধান কাণ্ডটি সাধারণত নিচের অংশ থেকেই বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়, যা দেখতে কিছুটা কৌণিক ও সরেখ এবং এর প্রতিটি পর্ব বা গিটের ওপরের অংশ বেশ পুরু হয়। গাছটির পাতাগুলো সরল এবং একটির বিপরীতে অন্যটি অর্থাৎ প্রতিমুখভাবে সজ্জিত থাকে। ২-১২ সেমি দৈর্ঘ্য এবং ১.৫-৮.০ সেমি প্রস্থের এই পাতাগুলো দেখতে অনেকটা গোলাকার, ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার হতে পারে। পাতার নিচের দিকটা কিছুটা সরু এবং এর বোঁটা বেশ ছোট হয়, যা লম্বায় প্রায় ০.৩-১.৫ সেন্টিমিটার। পাতার কিনারাগুলো অখণ্ড ও চ্যাপ্টা হলেও কিছুটা ঢেউ খেলানো থাকে এবং এর অগ্রভাগ হঠাত করেই ভোঁতা বা সূক্ষ্ম হয়ে যায়। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে পাতার উভয় পিঠেই খুব নরম ও কোমল রোম লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো পাতা জুড়েই বিস্তৃত থাকে। এই উদ্ভিদটির পুষ্পবিন্যাস সাধারণত এর শাখার অগ্রভাগে বা পার্শ্বীয় দিকে লম্বা স্পাইক আকারে দেখা যায়, যা লম্বায় ১০ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর মঞ্জরীদণ্ডটি বেশ শক্ত, অনমনীয় এবং কিছুটা কৌণিক ও বাঁকানো প্রকৃতির হয়ে থাকে, যার গায়ে সূক্ষ্ম রোম বা অণুরোম লক্ষ্য করা যায়। এর ফুলগুলো সবুজাভ এবং মসৃণ, যা স্পাইকের ওপর শক্তভাবে নিচের দিকে মুখ করে থাকে এবং ফল ধরার সময় এটি আরও দীর্ঘায়িত হয়। ফুলের মঞ্জরীপত্রগুলো স্পষ্টভাবে ডিম্বাকার এবং প্রায় ৩ মিলিমিটার লম্বা হয়, যার অগ্রভাগ বেশ দীর্ঘ হলেও খুব একটা তীক্ষ্ণ নয়। এছাড়া এর মঞ্জরীপত্রিকাগুলো প্রশস্ত ও ডিম্বাকার আকৃতির হয় এবং তা পুষ্পপুটের বিপরীতে বেশ চাপানো অবস্থায় থাকে। পুষ্পপুটের পাঁচটি খণ্ডক থাকে যা অনেকটা বল্লমাকার বা ডিম্বাকার-আয়তাকার এবং এর প্রান্তগুলো ঝিল্লিময় ও অগ্রভাগ বেশ সূক্ষ্মাগ্র। গাছটিতে পাঁচটি উজ্জ্বল পুংকেশর থাকে, যেগুলো মূলত অপ্রকৃত বন্ধ্যা এবং এদের পুংদণ্ডগুলো সূক্ষ্মভাবে বিন্যস্ত থাকে। ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ১৪, ৪২।
চাষাবাদ ও বংশ বিস্তার পদ্ধতি:
আপাং গাছটি মূলত রৌদ্রোজ্জ্বল ও উন্মুক্ত পরিবেশে জন্মাতেই বেশি পছন্দ করে। সাধারণত রাস্তার ধার, পরিত্যক্ত জমি কিংবা আবর্জনার স্তূপ রয়েছে এমন স্থানে এদের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। এই উদ্ভিদটি অত্যন্ত সহনশীল হওয়ায় এটি প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন পতিত স্থানে সহজে বেড়ে উঠতে পারে। যদিও সারা বছরই এই গাছে ফুল ও ফল দেখা যায়, তবে জুন থেকে অক্টোবর মাসে ফুল ফোটার হার সবচেয়ে বেশি থাকে। বংশ বিস্তারের ক্ষেত্রে আপাং মূলত বীজের ওপর নির্ভরশীল; উপযুক্ত পরিবেশ ও আর্দ্রতা পেলে বীজ থেকেই এর নতুন চারা তৈরি হয়।
ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও অবস্থান:
আপাং মূলত বিশ্বব্যাপী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং অপেক্ষাকৃত উষ্ণ জলবায়ু সম্পন্ন অঞ্চলগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এবং আনাচে-কানাচে এই উদ্ভিদটি প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে থাকে। সাধারণত বনাঞ্চল, ঝোপঝাড় কিংবা লোকালয়ের পরিত্যক্ত স্থানে একে বন্যভাবে বেড়ে উঠতে দেখা যায়, যার জন্য আলাদা কোনো যত্নের প্রয়োজন হয় না।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও ঔষধি গুণাগুণ:
মানবদেহের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এই উদ্ভিদের বহুমুখী ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে শোথ বা উদরী রোগ, অর্শরোগ, ত্বকের ফুসকুড়ি বা ব্রণ, এবং বাতের ব্যথার মতো সমস্যায় এর কার্যকারিতা অপরিসীম। এছাড়াও এটি নিউমোনিয়া, গনোরিয়া, উদরাময় এবং এমনকি বিষাক্ত সাপে কাটা বা বৃশ্চিকের দংশনেও প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই উদ্ভিদের মূল মূলত ক্ষত নিরাময়, পেটের টিউমার প্রতিরোধ এবং পাকস্থলীর তীব্র ব্যথা উপশমে ওষুধের ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, এর বীজ বমন উদ্রেককারী হিসেবে কাজ করে এবং জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। পিত্তজনিত সমস্যায় ঘোলের সাথে এর বীজচূর্ণ মিশিয়ে খাওয়ার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৩৫ সালে কীর্তিকার ও অন্যান্য গবেষকদের গবেষণায় এই উদ্ভিদের এ ধরণের ঔষধি গুণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) আপাং প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে আপাং সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। [১]
আপাং গাছের ভেষজ ব্যবহার
অতিরিক্ত ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণে: নারীদের অতিরিক্ত ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কমানোর ক্ষেত্রে আপাং গাছের মূল অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। শারীরিক অবস্থা ও স্রাবের মাত্রা অনুযায়ী ২ থেকে ৪ গ্রাম পরিমাণ আপাং-এর টাটকা মূল সামান্য পানি মিশিয়ে ভালোভাবে বেটে নিয়ে সেবন করলে স্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। যদি একবার সেবনের পর স্রাব স্বাভাবিক অবস্থায় না আসে, তবে রক্তক্ষরণের তীব্রতা বুঝে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ মূল বাটা দ্বিতীয়বার গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে এই ভেষজটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্রাবের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে মাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি।
অকালপ্রসব রোধে ব্যবহার: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অকালপ্রসবের ঝুঁকি বা সম্ভাবনা দেখা দিলে লোকজ চিকিৎসায় আপাং গাছের একটি বিশেষ প্রয়োগ রয়েছে। এক্ষেত্রে এমন একটি কচি আপাং গাছ বেছে নিতে হয় যাতে এখনও ফুল বা মঞ্জরী আসেনি। গাছটিকে মূলসহ উপড়ে নিয়ে গর্ভবতী নারীর কটিদেশে বা কোমরে বেঁধে দিলে অকাল প্রসবের আশঙ্কা দূর হয় বলে লোকবিশ্বাস প্রচলিত আছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবেও গণ্য করা হয়।
গ্রহণী বা দীর্ঘস্থায়ী আমাশয় নিরাময়ে: দুরারোগ্য গ্রহণী রোগের চিকিৎসায় আপাং গাছের মূল ব্যবহারের একটি ভেষজ পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে, রোগের তীব্রতা অনুসারে মূলের পরিমাণ নির্ধারণের কথা বলা হয়। টাটকা আপাং মূল সামান্য ঠান্ডা পানি দিয়ে ৩-৪টি গোলমরিচসহ বেটে আধা গ্লাস ঠান্ডা পানির সাথে মিশিয়ে সেবন করা হয়। এটি সাধারণত দিনে একবার সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্ষত নিরাময় ও রক্তক্ষরণ বন্ধে: শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে বা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তপাত শুরু হলে আপাং গাছের পাতা অত্যন্ত কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে। আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে আপাং গাছের টাটকা পাতার রস দ্রুত প্রয়োগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। এই ভেষজ রসটি কেবল রক্তপাতই থামায় না, বরং কাটা স্থান দ্রুত জোড়া লাগাতে বা ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে। তবে ভালো ফলাফলের জন্য পাতার রসটি একটু বেশি পরিমাণে ক্ষতস্থানে লাগানো প্রয়োজন।
ফোঁড়ার পুঁজ ও দূষিত রক্ত নিরাময়ে: শরীরের কোনো স্থানে ফোঁড়া হলে এবং তা থেকে পুঁজ বের না হয়ে যন্ত্রণা বাড়লে আপাং গাছের পাতা জাদুর মতো কাজ করে। এক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০টি টাটকা আপাং পাতা এবং ৪ গ্রাম আতপ চাল সামান্য ঠান্ডা পানি দিয়ে একত্রে মিহি করে বেটে নিতে হয়। এই মিশ্রণটি বা প্রলেপটি ফোঁড়ার চারপাশ জুড়ে লাগিয়ে রাখলে দ্রুত ভেতর থেকে পুঁজ ও দূষিত রক্ত বের হয়ে আসে। সঠিক ফলাফলের জন্য দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার এই প্রলেপটি ব্যবহার করা প্রয়োজন।
বাগী রোগ নিরাময়ে আপাং-এর ব্যবহার: শরীরের কুঁচকিতে হওয়া যন্ত্রণাদায়ক বাগী বা টিউমার সদৃশ ফোলা কমাতে আপাং গাছের বিশেষ ব্যবহার রয়েছে। এক্ষেত্রে আপাং গাছের টাটকা ডাল, পাতা এবং মূল সমপরিমাণে নিয়ে হুক্কার পানির সাথে একত্রে মিশিয়ে মিহি করে বাটতে হয়। এই মিশ্রণটি বাগীর ওপর দিনে কয়েকবার প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করলে ফোলা দ্রুত কমে যায় এবং ব্যথা উপশম হয়।
শরীরের কোনো অঙ্গের ফোলা কমাতে: শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেলে বা শোথ জাতীয় সমস্যা দেখা দিলে আপাং গাছের ব্যবহার বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতিতে আপাং গাছের কচি ডাল, পাতা এবং মূল মিলিয়ে প্রায় ২৫ গ্রাম পরিমাণ টাটকা অংশ সংগ্রহ করতে হয়। সংগৃহীত অংশগুলো ছোট ছোট টুকরো করে একটি মাটির পাত্রে ২০০ মিলি পানিতে ভিজিয়ে মৃদু আঁচে জ্বাল দিতে হবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট সিদ্ধ করার পর মিশ্রণটি নামিয়ে নিতে হয়। এই ক্বাথ থেকে প্রতিদিন সকালে ৩০-৪০ মিলি এবং সন্ধ্যায় সমপরিমাণ অংশ সেবন করলে ফোলা দ্রুত কমে যায়। ভালো ফলাফল পেতে চার থেকে পাঁচ দিন নিয়মিত এটি পান করা জরুরি। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিদিনের ঔষধ প্রতিদিন টাটকা তৈরি করে নিতে হবে; বাসি মিশ্রণ সেবন করা একদমই উচিত নয়।
কলেরা বা পাতলা পায়খানা নিরাময়ে: কলেরার মতো জটিল সমস্যায় আপাং গাছের মূল একটি কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এই রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই প্রায় ৪ গ্রাম পরিমাণ টাটকা আপাং মূল সামান্য পানি দিয়ে মিহি করে বেটে নিতে হবে। এরপর এই বাটা মিশ্রণটি আধা কাপ পানিতে ভালোভাবে গুলিয়ে নিতে হবে। রোগী যেন একবারে বেশি ঔষধ খেয়ে পেটে চাপ অনুভব না করে এবং মলের সাথে ঔষধ বেরিয়ে না যায়, সেজন্য এটি অল্প মাত্রায় বারবার সেবন করা প্রয়োজন। নিয়ম অনুযায়ী, মিশ্রণটি থেকে প্রতি ৫ থেকে ৬ মিনিট অন্তর ১ থেকে ২ চামচ করে খাওয়ালে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
অকালে চুল পাকা রোধ ও নতুন চুল গজাতে: চুলের অকাল পক্কতা রোধ এবং নতুন চুল গজাতে আপাং গাছের শিকড় অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান। চুলের পরিমাণ অনুযায়ী টাটকা শিকড় মিহি করে বেটে নিয়ে গোসলের অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে পুরো মাথায় ভালোভাবে প্রলেপ দিতে হয়। সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে অল্প এবং মেয়েদের লম্বা চুলের জন্য একটু বেশি পরিমাণ শিকড় বাটা প্রয়োজন হতে পারে। দুপুরে গোসলের আগে নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুলের স্বাভাবিক কালো রং ফিরে আসে এবং মাথার ত্বকে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
দাদ বা চর্মরোগ নিরাময়ে আপাং-এর ব্যবহার: চামড়ার জেদি দাদ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর করতে আপাং গাছের ডাঁটা বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতিতে প্রথমে আপাং গাছের শুকনো ডাঁটা আগুনে পুড়িয়ে ছাই বা ক্ষার তৈরি করে নিতে হয়। এরপর প্রায় ৮ গ্রাম পরিমাণ এই ক্ষারের সাথে সামান্য জলপাই তেল (Olive Oil) বা তিল তেল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এই মিশ্রণটি দাদ আক্রান্ত স্থানে ভালো করে ঘষে ঘষে লাগিয়ে দিলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। সাধারণত নিয়মিত তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করলেই দাদ সেরে যায়।
বিষাক্ত ক্ষত নিরাময়ে: শরীরের কোনো ক্ষতস্থান যদি বিষিয়ে যায় এবং সাধারণ ওষুধে সারতে না চায়, তবে আপাং গাছের পাতা ও কচি ডালের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। এক্ষেত্রে ১০-১৫ মিলি টাটকা পাতা ও কচি ডাল বাটার রসের সাথে দেড় চামচ খাঁটি গাওয়া ঘি মিশিয়ে হালকা ভেজে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি প্রতিদিন সকালে একবার এবং রাতে ঘুমানোর আগে আরও একবার ক্ষতস্থানে প্রলেপ হিসেবে লাগালে বিষাক্ত ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায়। ওষুধের কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং বিছানা পরিষ্কার রাখতে প্রলেপ দেওয়ার পর একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থানটি হালকাভাবে বেঁধে রাখা ভালো।
তথ্যসূত্র:
১.ইসলাম, এবিএম রবিউল (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”। in আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৮৮–৮৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।