সংগ্রাম করতে সাহসী হও, বিজয় অর্জন করতে সাহসী হও

সভাপতি মাও সে-তুঙের উদ্ধৃতি

৭. সংগ্রাম করতে সাহসী হও, বিজয় অর্জন করতে সাহসী হও

*** সারা দুনিয়ার জনগণ, ঐক্যবদ্ধ হোন, মার্কিন হামলাকারী ও তার সমস্ত পদলেহী কুকুরদের পরাজিত করুন! সারা দুনিয়ার জনগণ, নির্ভীক হোন, লড়াই করতে সাহসী হোন, বাধা-বিপত্তিতে নির্ভয় হোন, তরঙ্গমালার মতো এগিয়ে চলুন, তাহলে সারা দুনিয়াটাই হবে জনগণের। সমস্ত দানব সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে। “মার্কিন আক্রমণের বিরুদ্ধে কঙ্গোর (লিওপোলডভিল) জনগণের সমর্থনে প্রদত্ত বিবৃতি” (২৮ নভেম্বর, ১৯৬৪)

*** মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি আন্তর্জাতিক ও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সুস্পষ্ট মূল্যায়ন করেছে এবং বুঝেছে যে, সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীলদের আক্রমণ শুধু যে ব্যর্থ করতেই হবে তা নয়— তা করা সম্ভবও বটে। যখন আকাশে কালো মেঘের সঞ্চার হয়েছিল তখনই আমরা দেখিয়ে দিয়েছিলাম যে, এটা শুধু সাময়িক, আঁধার শীঘ্রই কেটে যাবে, একটু পরেই দেখা দেবে ঊষার আলো। “বর্তমান পরিস্থিতি ও আমাদের কর্তব্য” (২৫ ডিসেম্বর, ১৯৪৭)।

*** মানবজাতির ইতিহাসে সমস্ত মরণোন্মুখ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি অবশ্যই বিপ্লবী শক্তির বিরুদ্ধে সর্বশেষ মরণ কামড় দেয়, কোনো কোনো বিপ্লবীও প্রায়ই তাদের ভেতরকার শক্তিহীনতা ধরতে না পেরে, তাদের বাহ্য শক্তির প্রকাশ দেখে কিছু সময়ের জন্য ভ্রমে পড়ে এবং তারা এই সার সত্যটা ধরতে পারে না যে, শত্রুরা শীঘ্রই ধ্বংস হবে এবং তারা নিজেরা শীঘ্রই জয়ী হবেন। “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সন্ধিক্ষণ” (১২ অক্টোবর, ১৯৪২)

*** যদি তারা (কুওমিনতাং) যুদ্ধ করে, আমরা তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করবো। বাস্তব ঘটনা এই যে, যদি তারা আক্রমণ করে, তবে আমরা তাদের ধ্বংস করে ফেলবো, তখনই তারা আরাম পাবে। কিছুটা ধ্বংস করলে, কিছুটা আরাম পাবে; অধিক ধ্বংস করলে, অধিক আরাম পাবে; পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করলে, পুরোপুরিভাবে আরাম পাবে। চীনের সমস্যা জটিল, তাই আমাদের মস্তিষ্কও কিছুটা জটিল হওয়া প্রয়োজন। যদি তারা যুদ্ধ করতে আসে, আমরা যুদ্ধ করবো, আমরা যুদ্ধ করবো শান্তি অর্জনের জন্য। “ছুংছিং আলাপ-আলোচনা সম্পর্কে” (১৭ অক্টোবর, ১৯৪৫)

আরো পড়ুন:  সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব

*** যদি কেউ আমাদের উপর আক্রমণ করে এবং পরিস্থিতি লড়াইয়ের অনুকূল হয়, তাহলে আমাদের পার্টি অবশ্যই আত্মরক্ষার জন্য তাকে দৃঢ়ভাবে, নিঃশেষে, সাফ করে, সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করবে (আমরা অবিবেচনার সঙ্গে আঘাত করি না, কিন্তু যখন আঘাত করি তখন আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে), আমরা কোনো মতেই প্রতিক্রিয়াশীলদের তর্জন-গর্জনের ভয়ে ভীত হবো না। “কুওমিনতাঙের সঙ্গে শান্তি আলাপ-আলোচনা সম্পর্কে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি” (২৬ আগস্ট, ১৯৪৫)

*** আমাদের নিজেদের ইচ্ছার কথা হচ্ছে, আমরা একদিনও যুদ্ধ করতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতি যদি আমাদের যুদ্ধ করতে বাধ্য করে, তবে আমরা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করতে পারি। “মার্কিন সাংবাদিক আন্না লুইস স্ট্রংয়ের সাথে আলাপ” (আগস্ট, ১৯৪৬)

*** আমরা শান্তি চাই, কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যতক্ষণ নিজের বর্বরোচিত ও যুক্তিহীন দাবি এবং আক্রমণ সম্প্রসারণের ষড়যন্ত্র পরিত্যাগ না করে, ততক্ষণ চীনা জনগণের একমাত্র সংকল্প এই যে, তারা কোরিয়ান জনগণের সাথে একযোগে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে যাবেন। এর কারণ এই নয় যে, আমরা যুদ্ধপ্রিয়, আমরা বরং অবিলম্বে যুদ্ধ থামাতে ইচ্ছুক, অবশিষ্ট সমস্যা ভবিষ্যতে সমাধান করা যাবে। কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তা করতে চায় না, তবে তাই হোক, যুদ্ধ চলতে থাক, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যত বছর পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে চায়, আমরাও তত বছর পর্যন্ত যুদ্ধ করে যেতে প্রস্তুত, যতক্ষণ না তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা যুদ্ধ করে যাব, চীনা ও কোরিয়ান জনগণের চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাব। “চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ পরিষদের প্রথম জাতীয় কমিটির চতুর্থ অধিবেশন প্রদত্ত ভাষণ” (৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩)

*** আমাদের নিজেদের ভেতর থেকে সমস্ত দুর্বল ও অক্ষম চিন্তাধারা দূর করতে হবে। যে সমস্ত দৃষ্টিকোণ শত্রুর শক্তিকে বড় করে দেখে আর জনগণের শক্তিকে ছোট করে দেখে তা সবই ভুল। “বর্তমান পরিস্থিতি ও আমাদের কর্তব্য” (২৫ ডিসেম্বর, ১৯৪৭)

আরো পড়ুন:  বিপ্লবী বীরত্ব

*** নিপীড়িত জনগণ ও নিপীড়িত জাতির নিজেদের মুক্তির আশা কোনো মতেই সাম্রাজ্যবাদ ও তার পদলেহী কুকুরদের ‘শুভবুদ্ধির’ উপর ন্যস্ত করা উচিত নয়। কেবলমাত্র নিজেদের ঐক্যকে সুদৃঢ় করে অটলভাবে সংগ্রাম চালিয়েই তারা বিজয় লাভ করতে পারেন। “মার্কিন-নগো দিন দিয়েম চক্রের দ্বারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের উপর আক্রমণের ও দক্ষিণ ভিয়েতনামী জনগণকে হত্যা করার বিরুদ্ধে প্রদত্ত বিবৃতি” (২৯ আগস্ট, ১৯৬৩)

*** দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধ যখনই বেধে উঠুক না কেন, আমাদের ভালভাবে প্রস্তুত থাকতেই হবে। যদি এটা সত্বরই ঘটে, ধরা যাক, আগামীকাল সকালেই ঘটে, তার জন্যও আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এটাই প্রথম দফা। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে, গৃহযুদ্ধকে সাময়িকভাবে আংশিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব এবং গৃহযুদ্ধ সম্ভবত সাময়িকভাবে কতগুলো স্থানীয় যুদ্ধের রূপ নেবে। এটা হচ্ছে দ্বিতীয় দফা। প্রথম দফার জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি, দ্বিতীয় দফার অবস্থাটা বহু আগে থেকেই চলে আসছে। এক কথায়, আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রস্তুত হলে আমরা যথার্থভাবে হরেক রকমের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবো। “জাপানবিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের পরের পরিস্থিতি ও আমাদের নীতি” (১৩ আগস্ট, ১৯৪৫)

Leave a Comment

error: Content is protected !!