খাসিমারা নদী (ইংরেজি: Khasimara River) বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। তবে নদীটি বাংলাদেশ ভারত যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত আন্তঃসীমান্ত নদী নয়। নদীটি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা এবং মেঘালয়ের একটি নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায়১৩ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ৯১ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক খাসিমারা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ২০।[১]
প্রবাহ: নদীটি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর নদীটি একই জেলার একই উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন অবধি প্রবাহিত হয়ে সুরমা নদীতে নিপতিত হয়েছে। মৌসুমি প্রকৃতির এ নদীতে বর্ষাকালে পূর্ণ মাত্রায় পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। উত্তর পূর্বে প্রবাহিত নদীটির দুপাশ পলি পড়ে দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে, বিশেষত উজানের দিকে এ নদী প্রায় শুকিয়ে গেছে। শুধু বর্ষার সময় এ নদীতে সীমিত পরিসরে নৌকা চলাচল করে। নদীর পানি তীরবর্তী অঞ্চলের ফসলি জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়।[১]
অন্যান্য তথ্য: খাসিমারা নদী বন্যাপ্রবণ এবং এই নদীর অববাহিকায় বাংলাদেশে কালনির হাওর ব্যবস্থা প্রকল্প আছে। এই নদীর বাংলাদেশ অংশে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর এবং কোনো বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। এই নদীটিতে জোয়ারভাটার প্রভাব নেই। এই নদীর তীরে বাংলাদেশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নেই।[১]
তথ্যসূত্র:
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ১৮৩, ISBN 984-70120-0436-4.
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
