বাংলাদেশের ব্যাঙ ও এর বিপন্নতার কারণ ও প্রতিকার

আদি পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম যে সকল মেরুদণ্ডী প্রাণী সগৌরবে ডাঙায় বিচরণ শুরু করেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো ‘অ্যাম্ফিবিয়ান’ বা উভচর প্রাণী। ব্যাঙ এই উভচর শ্রেণির এক অনন্য প্রতিনিধি, যাদের জীবনচক্র জল ও স্থল—উভয় মাধ্যমেই আবর্তিত হয়। এরা সাধারণত বংশবিস্তারের জন্য পানিতে ডিম পাড়ে। জীবনচক্রের শুরুতে ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নিলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালায়।

ব্যাঙ একটি শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। এদের ত্বক কখনো মসৃণ, আবার কখনো খসখসে হয়; তবে বিভিন্ন গ্রন্থির উপস্থিতির কারণে ত্বক সব সময় আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে। চার পা বিশিষ্ট এই প্রাণীর সামনের পায়ে চারটি এবং পেছনের পায়ে পাঁচটি করে আঙুল থাকে। পেছনের পায়ের আঙুলগুলো পাতলা পর্দা দিয়ে যুক্ত হয়ে ‘লিপ্তপদ’ গঠন করে, যা তাদের দক্ষ সাঁতারু হিসেবে গড়ে তোলে। এছাড়া ব্যাঙের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এরা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের গায়ের রঙ পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করতে পারে।

বাংলাদেশের ব্যাঙ

হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। আয়তনে ছোট হলেও সমতল এই ভূখণ্ডটি বৈচিত্র্যময় প্রজাতির ব্যাঙের এক অনন্য আবাসস্থল। ক্ষুদ্রাকৃতির লাউবিচি বা ঝিঁ ঝিঁ ব্যাঙ থেকে শুরু করে বিশালাকার কোলা ব্যাঙ কিংবা সবুজ ব্যাঙ—সবই এদেশের প্রকৃতিতে মিশে আছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের একেক অঞ্চলে ব্যাঙের বৈচিত্র্য একেক রকম। সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চল বিশ্বখ্যাত ‘ইন্দো-বার্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পট’ (Indo-Burma Biodiversity Hotspot)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানে দেখা মেলে বিরল সব প্রজাতির। যেমন—ছাগল-ডাকা ব্যাঙ (Northern Trickle Frog), কোপের ব্যাঙ (Cope’s Frog), কালো-ফোঁটা ব্যাঙ (Dark-sided Frog), নিকোবার ব্যাঙ (Nicobarese Frog), সরু-মাথা ব্যাঙ (Point-nosed Frog), লালচোখা ব্যাঙ (Smith’s Litter Frog) এবং মুকুট ব্যাঙ (Crown Frog)।

অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চল (রাজশাহী ও রংপুর), মধ্যাঞ্চল (কুমিল্লা) এবং দক্ষিণাঞ্চলের (খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল) জলাভূমি ও কৃষিজমিতে প্রজাতির সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ব্যাঙের আধিক্য অনেক বেশি। এসব অঞ্চলে সচরাচর কুনো ব্যাঙ (Asian Common Toad), কোলা ব্যাঙ (Bull Frog), কটকটি ব্যাঙ (Skipper Frog), বিভিন্ন জাতের ঝিঁ ঝিঁ ব্যাঙ (Cricket Frog) এবং ডোরাকাটা গেছো ব্যাঙ (Common Tree Frog) দেখা যায়। এছাড়া সুন্দরবনসহ উপকূলীয় দ্বীপ মহেশখালী, সোনাদিয়া, হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপ ছাড়িয়ে সর্বদক্ষিণের সেন্টমার্টিনেও ব্যাঙের উপস্থিতি রয়েছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় বাংলাদেশে নতুন সাত প্রজাতির ব্যাঙ এবং একটি ‘সেসিলিয়ান’ প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে এ দেশে স্বীকৃত উভচর প্রজাতির সংখ্যা ৪৯টি। যদিও আরও অন্তত ২২টি প্রজাতির উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তবে পর্যাপ্ত নমুনার অভাবে সেগুলো এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তাই বাংলাদেশের উভচর প্রজাতির তালিকাটি পূর্ণাঙ্গ করতে এবং এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে নিবিড় গবেষণা এখন সময়ের দাবি।

হারিয়ে যাওয়া ব্যাঙ

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাঙ প্রজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হওয়ার নথিভুক্ত তথ্য নেই। তবে এর মূল কারণ হলো—সিলেটের হাওর ও পাহাড়, চট্টগ্রাম ও টেকনাফের চিরসবুজ বনাঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালিত হয়নি। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, অনেক প্রজাতি হয়তো আবিষ্কৃত হওয়ার আগেই প্রকৃতি থেকে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত আবাসস্থল ধ্বংস এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণের কারণে অসংখ্য প্রজাতির ব্যাঙ চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তাই আমাদের দেশের এই লুকানো জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হওয়ার আগেই তা শনাক্ত ও সংরক্ষণে নিবিড় গবেষণা অপরিহার্য।

বাংলাদেশের বিপন্ন ব্যাঙ

বাংলাদেশের বিপন্ন ব্যাঙ-এর তালিকা আমরা পাই আইইউসিএন বাংলাদেশ (২০১৫)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী। তারা জানায়, বাংলাদেশের ৪৯ প্রজাতির ব্যাঙের মধ্যে ১০টি প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে বা বিপন্ন। এই তালিকার মধ্যে ২ প্রজাতি ‘মহাবিপন্ন’, ৩ প্রজাতি ‘সংকটাপন্ন’ এবং ৫ প্রজাতি ‘সুরক্ষিত নয়’ বা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া তথ্যের অভাবে আরও ৬ প্রজাতির ব্যাঙের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি। উদ্বেগের বিষয় হলো, আসন্ন বিপদাবস্থায় রয়েছে আরও ৬ প্রজাতির ব্যাঙ, যা দেশের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এক অশনিসংকেত।

বিপন্ন তালিকার মধ্যে রয়েছে চামড়া ঝোলা ব্যাঙ (Khare’s Stream Frog), ডরিয়া-খুদে গেছো ব্যাঙ (Doriae’s Pigmy Tree Frog), অ্যান্ডরসনের গেছো ব্যাঙ (Anderson’s Bush Frog), পাখির বিষ্টা ব্যাঙ (Pied Warty Tree Frog), চিত্রিত ভেঁপু ব্যাঙ (Sri Lankan Painted Frog), সরু মুখো ব্যাঙ (Ballon Frog), ঝর্ণা সুন্দরী ব্যাঙ (Marbled Cascade Frog), বড় গেছো ব্যাঙ (Giant Tree Frog) প্রভৃতি।

বাংলাদেশের ব্যাঙ-এর বিপন্নতার কারণ

বাংলাদেশে ব্যাঙের বিপন্নতার পেছনে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন প্রধান ভূমিকা পালন করছে। কৃষি সম্প্রসারণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আবাসন প্রকল্পের জন্য প্রতিনিয়ত বন-জঙ্গল উজাড় ও জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যাঙের স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কলকারখানা ও লোকালয়ের অপরিশোধিত বর্জ্য পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে; এতে জলাশয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ব্যাঙের টিকে থাকা এবং বংশবিস্তার অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ‘কাইটিডিওমাইকোসিস’ (Chytridiomycosis) নামক প্রাণঘাতী ছত্রাক সংক্রমণ ব্যাঙের বিলুপ্তিকে ত্বরান্বিত করেছে। এছাড়া ব্যাঙের প্রজনন ও জীবনচক্র মূলত সঠিক তাপমাত্রা এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তাপমাত্রার বৈষম্য ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত তাদের স্বাভাবিক জীবনধারাকে ব্যাহত করছে। এসব বহুমুখী প্রতিকূলতার কারণেই আজ বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যাঙ প্রজাতি বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রকৃতি ও ব্যাঙ

উভচর প্রাণী হিসেবে জলে ও ডাঙায় ব্যাঙের অবাধ বিচরণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণানুযায়ী, বাংলাদেশের কৃষিজমি ও ধানক্ষেতে প্রায় ১০ প্রজাতির ব্যাঙের দেখা মেলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দুই প্রজাতির কোলা ব্যাঙ, কুনো ব্যাঙ, সাত প্রজাতির ঝিঁ ঝিঁ ব্যাঙ এবং কটকটি ব্যাঙ। এই ব্যাঙগুলো মূলত ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে, যা জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়।

শুধু তাই নয়, ব্যাঙের মলমূত্রে প্রচুর পরিমাণে ইউরিয়া জাতীয় উপাদান থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবে জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বাস্তুসংস্থানে ব্যাঙের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি একদিকে যেমন পোকামাকড় ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী আহার করে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি অন্যদিকে সাপ ও পাখির প্রধান খাদ্য হিসেবে খাদ্যশৃঙ্খলে ভারসাম্য বজায় রাখে। মূলত, ক্ষতিকর পতঙ্গ ও উচ্চতর মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে ব্যাঙ প্রকৃতিতে এক অপরিহার্য প্রহরী।

ব্যাঙের অর্ধভেদ্য ত্বক এবং এদের জটিল জীবনচক্র জলজ ও স্থলজ পরিবেশের সামান্যতম পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জলাশয়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দূষণ কিংবা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ব্যাঙের শরীরে খুব দ্রুত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেক সময় ব্যাঙের শারীরিক বিকলাঙ্গতা দেখা দেয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মহামারি আকারে এদের মৃত্যুও ঘটে। এ কারণেই কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ব্যাঙের সংখ্যা, শারীরিক অবস্থা এবং জীবনচক্র পর্যবেক্ষণ করে সেই পরিবেশের সার্বিক স্বাস্থ্য ও গুণাগুণ সহজেই পরিমাপ করা যায়। মূলত, ব্যাঙ প্রাকৃতিক পরিবেশের সুস্থতার এক জীবন্ত নির্দেশক বা ‘বায়ো-ইন্ডিকেটর’ হিসেবে কাজ করে।

প্রকৃতি ও মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে ব্যাঙের অবদান অনস্বীকার্য। জীববিজ্ঞানীদের মতে, ব্যাঙ পরিবেশের সূক্ষ্ম পরিবর্তন বুঝতে পারে এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাঙের ত্বকের নিঃসৃত মিউকাস বা শ্লেষ্মা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ার Litoria caerulea প্রজাতির ব্যাঙের ত্বক থেকে নিঃসৃত মিউকাস এইচআইভি (HIV) ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি ভারতে এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাঙের চামড়ার মিউকাস ফ্লু-ভাইরাস মোকাবিলায় দারুণ কার্যকর। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, ব্যাঙের শরীর থেকে প্রাপ্ত এসব ওষধি প্রোটিন ভবিষ্যতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করে মানবজাতির জন্য শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কি করতে হবে?

  • প্রকৃতিতে ব্যাঙের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • এলাকাভিত্তিক ব্যাঙ প্রজাতির তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। তাহলে কোন এলাকায় কোন প্রজাতির ব্যাঙ রয়েছে তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে এবং বিপন্ন প্রজাতি থাকলে তা সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া যাবে।
  • বিপন্ন তালিকাভুক্ত ব্যাঙগুলোর সংরক্ষণে গবেষণা, জনসচেতনতা এবং জনমত গঠন করতে হবে।
  • আদিবাসী জনগোষ্ঠী মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যাপকহারে বড় আকারের কোলা ব্যাঙ ও সবুজ ব্যাঙ শিকার করে থাকে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং নির্বিচারে ব্যাঙ হত্যা বন্ধ করতে হবে।
  • নগরায়ন, শিল্পায়ন এবং মানুষের বসতি স্থাপনের সময় ব্যাঙের জলাশয় কিংবা আবাসস্থল ধ্বংস করা যাবে না। এ ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
  • কৃষিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা এবং তা দিয়ে জলাভূমি দূষিত করা যাবে না।
  • কলকারখানা ও বসতবাড়িতে ব্যবহার্য বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে জলজ পরিবেশের দূষণ রোধ করা সম্ভব।
  • বিভিন্ন স্কুল-কলেজে বিশেষ করে প্রাণিবিদ্যার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণ ক্লাব গঠনের মাধ্যমে ব্যাঙ সংরক্ষণে জনসচেতনতা এবং জনমত তৈরি করতে হবে।
  • প্রয়োজনে পরিবেশ বিভাগ, বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন বিভাগ এর সহায়তা নিতে হবে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এ দন্ডনীয়

  • ব্যাঙ বাংলাদেশের সংরক্ষিত আইনের প্রাণির তালিকাভুক্ত, ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ প্রকৃতির যত্রতত্র থেকে সংগ্রহ করা বা মেরে ফেলা দন্ডনীয় অপরাধ।
  • বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য ব্যাঙ ধরা বা মেরে ফেলা নিষেধ।
  • বন্যপ্রাণির আবাস বা পরিবেশ ধ্বংস করা যাবে না।
  • বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য অযথা ব্যাঙ মারা যাবে না, তবে ছবি তোলা যাবে।
  • ঘোষণাকৃত সংরক্ষিত বা নিরাপদ এলাকায় বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে সুরক্ষিত প্রাণী হত্যা করলে।

উপসংহার

উপসংহারে বলা যায় যে, বাংলাদেশের বাস্তুতন্ত্রে ব্যাঙ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এটি চরম অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। আইইউসিএন (IUCN) বাংলাদেশ-এর তথ্যমতে, দেশে প্রায় ১০ প্রজাতির ব্যাঙ বর্তমানে বিপন্নতার তালিকায় রয়েছে। নগরায়ণ ও কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে ব্যাঙের স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া, ফসলি জমিতে অতিরিক্ত ক্ষতিকর কীটনাশক প্রয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটের প্রধান কারণ। এছাড়া সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, জলাশয়ে প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ব্যাঙের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন এবং খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখতে ব্যাঙের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই প্রাকৃতিক এই সম্পদকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলাশয় রক্ষা, কীটনাশকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশের এই জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করা সম্ভব।

আরো পড়ুন

তথ্যসূত্র

১. আব্দুর রাজ্জাক ও মো. মোখলেছুর রহমান, বাংলাদেশের বিপন্ন ব্যাঙ প্রজাতি, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি, মে ২০১৮, ঢাকা।

Leave a Comment

error: Content is protected !!