আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > প্রাণী > পাখি > দাগি রাজহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি

দাগি রাজহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি

[otw_shortcode_info_box border_type=”bordered” border_color_class=”otw-red-border” border_style=”bordered” shadow=”shadow-inner” rounded_corners=”rounded-10″]দ্বিপদ নাম: Anser indicus সমনাম: Anas indica Latham, 1790 বাংলা নাম: দাগি রাজহাঁস, বাদিহাঁস (আলী), রাজহাঁস (আই) ইংরেজি নাম: Bar-headed Goose জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Anatidae গণ/Genus: Anser, Brisson, 1760; প্রজাতি/Species: Anser indicus (Latham, 1790)[/otw_shortcode_info_box]

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Anser গণে ৩টি প্রজাতি রয়েছে এবং পৃথিবীতে রয়েছে ১০টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রজাতি তিনটি হচ্ছে ১. বড় ধলাকপাল রাজহাঁস, ২. মেটে রাজহাঁস, ৩. দাগি রাজহাঁস। আমাদের আলোচ্য পাখিটি হচ্ছে দাগি রাজহাঁস।

বর্ণনা: দাগি রাজহাঁস বড় আকারের জলচর পাখি (দৈর্ঘ্য ৭৩ সেমি, ওজন ১.৬ কেজি, ডানা ৪৫ সেমি, ঠোঁট ৫.৫ সেমি, পা ৭.১ সেমি, লেজ ১৪.৮ সেমি)। প্রাপ্তবয়স্ক পাখি দেখতে ধূসর মনে হয়; সাদা মাথা থেকে সাদা একটি লাইন ধূসর গলার নিচ পর্যন্ত নেমে গেছে; মাথায় দুটি স্পষ্ট কালো ডোরা থাকে; ওড়ার সময় এদের সাদা মাথা, ফ্যাকাসে দেহ ও ডানার কালো আগা স্পষ্ট চোখে পড়ে। এদের চোখ বাদামি; হলুদ ঠোঁটের আগা ও নাক কালো; পা ও পায়ের পাতা গাঢ় হলুদ। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথায় ডোরা নেই; এর সাদা কপাল, গাল ও গলা মলিন, ধূসর-বাদামি মাথার চাঁদি ও ঘাড়ের নিচের অংশ থেকে পৃথক করেছে; পিঠ ও পেটের রঙ এক।

স্বভাব: দাগি রাজহাঁস এদেশে লতাপাতা ঘেরা জলাশয়ের পাড়, জনবসতিহীন উপকূলীয় দ্বীপ এবং বড় নদীর চরে বিচরণ করে; সাধারণত ৫-১০০টি পাখির ঝাঁক চোখে পড়ে। রাতে খাবার খেলেও দ্বীপাঞ্চলে এদের দিনেও খাবার খেতে দেখা যায়; খাদ্যতালিকায় আছে সবুজ ঘাস, লতাপাতা ইত্যাদি; মাঝে মাঝে উপকূলের ধানখেতেও হানা দেয়। সোজা লাইনে অথবা ঠ আকৃতির সারিতে এরা ওড়ে চলে। খাওয়ার সময় এরা নাকি সুরে ডাকে: গ্যাগ-গ্যাগ.. এবং কোলাহলময় ডাক: আহন্ঙ-আঙ-আঙ…. অনেক দূর থেকে শোনা যায়। মে-জুন মাসে তিব্বতে হিমালয়ের উঁচু জলাভূমিতে এদের প্রজনন হয়। হ্রদের ধারের মাটিতে লতাপাতার মাঝে পালকের বাসা তৈরি করে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো গজদন্তের মত সাদা; সংখ্যায় ৩-৪টি; মাপ ৮.৪-৫.৫ সেমি। স্ত্রীপাখি একাই ডিমে তা দেয়; ৩০ দিনে ডিম ফোটে। বাবা ও মাপাখি উভয়ে মিলে ছানা পালন করে।

বিস্তৃতি: দাগি রাজহাঁস বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি; শীতকালে উপকূলে থাকে; বরিশাল,চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বড় জলাভূমিতে কালেভদ্রে দেখা যায়। দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান ও চিনে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: দাগি রাজহাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।[৩]

বিবিধ: পরিযায়নের পথে দাগি রাজহাঁসের দল এভারেস্ট শিখরের ওপর দিয়ে উড়ে আসে বলে তথ্য আছে। এর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ভারতীয় রাজহাঁস (ল্যাটিন : anser = রাজহাঁস, indicus = ভারতের)।

তথ্যসূত্র:

১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও মো: শাহরিয়ার মাহমুদ, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা -১৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Anser indicus“, http://www.iucnredlist.org/details/22679893/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ২৩ আগস্ট ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৪৯।

আরো পড়ুন:  পিয়াং হাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ পরিযায়ী পাখি
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page