বড় দুধিয়া-এর সাতটি ভেষজ গুণাগুণ

ক্ষীরিণীর কয়েকটি প্রজাতি পাওয়া যায়। ভাবপ্রকাশে উল্লিখিত ক্ষীরিণী বড় দুগ্ধিকা, বড় কেরুই, বড় খেরুই, দুধিয়া, দূধী প্রভৃতি নামে প্রচলিত। এটির বোটানিক্যাল নাম Euphorbia hirta Linn., এছাড়া আরও ২/৩ টি ক্ষীরিণী আমরা দেখতে পাই, সেগুলি তাই লঘু দুগ্ধিকার মধ্যেই পড়ে। এগুলির বোটানিক্যাল নাম হচ্ছে Euphorbia thymifolia Linn., Euphorbia microphylla Heyne., Euphorbia Vericifolia Linn. এবং সবগুলির ফ্যামিলী Euphorbiaceae. প্রত্যেকটির পরিচিতি আলাদা আলাদাভাবে দেওয়া হলো। এই গাছগুলির যেকোন অংশ ভাঙ্গলেই ক্ষীর বা দুধ বেরোয়।

বড় দুধিয়া-এর ঔষধি ব্যবহার

এখানে যে যোগগুলি লেখা হলো, সেগুলির অধিকাংশই বড় দুধিয়া-এর (Euphorbia hirta) যোগ। অন্য কোন দুগ্ধিকার ব্যবহারের উল্লেখ থাকলে সেটির বোটানিক্যাল নাম দেওয়া থাকবে। বড় দুগ্ধিকা কাজ করে প্রধানতঃ রক্তবহ ও রক্তবহ স্রোতে।

১. উদরশূলে— নানা কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে, কিন্তু যেক্ষেত্রে দেখা যায় যে, হজম ঠিকমত হচ্ছে না, কখনো পাতলা দাস্ত হয়, মাঝে মাঝে অম্ল, গলাবুক জ্বালা, খেলে যন্ত্রণার সামান্য লাঘব, কখনো আবার কোষ্ঠবদ্ধতা, খাওয়াতে অনিচ্ছা, বমি বমি ভাব প্রভৃতি লক্ষণ বিদ্যমান, সেক্ষেত্রে বড় দুগ্ধিকার শুকনো গাছ ৩ গ্রাম বা কাঁচা হলে ৫ গ্রাম নিয়ে ২ কাপ জলে সিদ্ধ করে আধ কাপ থাকতে নামিয়ে, হেঁকে, সেই জলটা দিনে ২ বারে অর্থাৎ সকালে অর্ধেকটা ও বৈকালে অর্ধেকটা দ্বিগুণ পরিমাণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। খালিপেটে খাওয়া চলবে না। ৫/৭ দিন ব্যবহার করলেই ফল হাতেনাতেই পাওয়া যাবে ।

২. প্রবাহিকায় (সাদা ও রক্ত)- সাদা অথবা রক্ত আমাশায় বড় দুধিয়া-এর ক্বাথ উপরিউক্ত পদ্ধতিতে তৈরী করে ১০/১৫ দিন খেলে অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে। কয়েকদিন বন্ধ রেখে আবার ১০/১৫ দিন খাবেন। উদরশূল ও প্রবাহিকায় লঘু দুগ্ধিকাও(Euphorbia thymifolia) ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পূর্ববর্ণিত পদ্ধতিতে তৈরী করে খেতে হবে।

৩. ইন্দ্রিয় শৈথিল্যে— সাধারণতঃ প্রৌঢ়ত্বের শেষাশেষি এ অবস্থা ঠাহর হতে থাকে, কারণটা আর কিছুই নয়, দীর্ঘদিন যৌনজীবন যাপনের ফলে স্বাভাবিক নিয়মে এটি আসে ; কারুর আবার অল্প বয়সে অত্যধিক যৌন সুখ ভোগের ফলে অথবা আনাড়িভাবে। শুক্রক্ষয়ের কু-অভ্যাসের ফলে ইন্দ্রিয় শৈথিল্য দেখা যায়, তখন কামোত্তেজনা না হওয়ারই মত, যদিও বা উত্তেজনা হয় তা অত্যল্প সময়ের জন্য, মনের মধ্যে থাকে উদ্বেগ, হতাশা; এরকম অবস্থায় তা সে যে বয়সেরই হোক না কেন, বড় দুগ্ধিকাকা গাছের চূর্ণ ২৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় দুধ ও চিনি (আধ কাপ হালকা গরম দুধ ও ১ চা-চামচ চিনি) সহ সকালে একবার এবং ঐভাবে বিকালে একবার খেতে হবে। এই সময় এমন পথ্য গ্রহণ করা দরকার, যা সহজে হজম হবে এবং পুষ্টিকর। এই যোগটি মাসখানিক ব্যবহার করলে উপকারটা বুঝতে পারবেন। প্রয়োজনে আরও কিছুদিন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মাঝেমাঝে বন্ধ করে পুনরায় কিছুদিন খেতে হবে।

আরো পড়ুন:  সোজা জাতা কানশিরা শোভাবর্ধক ও ভেষজ বিরুৎ

৪. স্তন্যহ্রাসে— মায়ের স্বাস্থ্য ভাল, বিশেষ কোন রোগও নেই, খাওয়া-দাওয়ার অভাবও নাই অথচ বুকের দুধ শুকিয়ে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে যদি বাচ্চাকে স্তন্যপান করানোর মানসিকতাটা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা, তাই বুকের দুধের স্বল্পতা দেখা দিলে মায়েদের প্রাথমিক কর্তব্য হচ্ছে সন্তানকে নিয়মিত স্তন্যপান করানোর মানসিকতা বজায় রাখা এবং সেইসঙ্গে বড় দুধিয়া-এর গাছের ক্বাথ তৈরী করে সকালে ও বৈকালে খেতে হবে। ক্বাথ কিভাবে তৈরী করতে হবে, তা পূর্বে বলা হয়েছে। বেশ কিছুদিন খতে হবে এবং বুকে স্বাভাবিক দুধের পরিমাণ এলে তারপর মাঝে মাঝে খেলে চলবে। এখানে আর একটা কথা বলে রাখি– বাচ্চার বয়স যদি ৬ মাসের বেশি হয়ে থাকে, তখন কিন্তু মায়ের দুধের জন্য বিশেষ উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নাই, ঐ সময় থেকে শিশুকে শক্ত খাবার ও গরুর দুধ (জল মিশ্রিত) খাওয়ানো উচিত।

৫. শ্বাস-কাসে— কাসি, সেই সঙ্গে হাঁপের টান, কফ অল্প অল্প বেরুচ্ছে, হার্টের কোন দোষ নেই, শ্বাস-কাসের সময় বসে থাকলে আরাম, শুলেই বৃদ্ধি, ঠাণ্ডাতে বৃদ্ধি, কফজ দ্রব্য সেবনে বৃদ্ধি, এই যে ক্ষেত্র, এক্ষেত্রে ৩ গ্রাম শুকনো বড় দুগ্ধিকার গাছ ২ কাপ জলে সিদ্ধ করে আধ কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে, সেটিকে দুবারে সকালে ও বৈকালে খেতে হবে। এই সঙ্গে কফ নিঃসারক ঔষধও সেবন করা প্রয়োজন। তা না হলে কফ বসে গিয়ে বিপদের বৃষ্টি করতে পারে।

৬. দাদে- গাছের আঠা লাগালে উপকার হয়। তবে সমগ্র শরীরে দেখা দিলে তখন এটি ব্যবহারের জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শমত ব্যবহার দারা সমীচীন ।

৭. পচা ঘায়ে— গাছের আঠা বা ক্ষীর বা দুধ লাগালে ছোট ছোট পচা ঘা সেরে যেতে দেখা গেছে।

CHEMICAL COMPOSITION

1. Euphorbia hirta linn.

Drug contains: quercetin, triacontane, jambulol (since identified as ellagic acid), a phenolic substance, euphosterol, a phytosterol (m.p. 132″) and phytosterolin; gallic, melissic, palmitic, oleic and linoleic acids, l-inositol and an alkaloid (xanthorhamnin). Leaves contain: moisture 78.14, protein 4.65, ether extr. 1.71 and ash 15%; vitamin C 44.32 mg/100mg.

আরো পড়ুন:  কাঠলিচু বা আঁশফল গাছের পাঁচটি ভেষজ গুণ

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ১০০-১০৫।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Harry Rose

Leave a Comment

error: Content is protected !!