টক চেরি শোভাবর্ধক ও ভেষজ গুণসম্পন্ন গুল্ম

ঝাড়ীদার বনস্পতি। শাখা-প্রশাখা বহু এবং চারদিকে প্রসারিত হয়ে ছত্রাকারে থাকে। গাছের শিকড়ের মাধ্যমেও নতুন গাছ জন্মে। পাতা ডিম্বাকৃতি, চওড়া ও শক্ত, মসৃণ, কিনারা করাতের ন্যায় কাটা কাটা; কুঁড়ি অবস্থায় লম্বালম্বি ভাঁজ হয়ে থাকে, ক্রমশঃসরু হয়, পরে অনেকটা ডিম্বাকৃতি হয়ে যায়। পাতা খুব তাড়াতাড়ি জন্মে। শাখা-প্রশাখা কিছুটা লালচে। ফুলের কুঁড়ি বেরুবার পূর্বে কয়েকটি নতুন পাতা গজায়। গুচ্ছাকৃতি ফুল, গুচ্ছে ২-৫টি ফুল থাকে। ফুলের রঙ সাদা, ভেতরের দিকটা হালকা লালচে। ফল কালচে লাল, স্বাদে টকমিষ্টি। ফলের বীজ ছোলার মতো ছোট। বীজের খোসা শক্ত; ভেতরের শাঁস সাদা।

টক চেরি-এর বিস্তৃতি:

এই গাছটিকে পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের গ্রামাঞ্চলে পাওয়া যায়। আমেরিকা ও ইউরোপে এর ফুলের সৌন্দর্যের জন্য বাগানে ও রাস্তার ধারে লাগানো হয়। ভারতবর্ষের হিমালয় অঞ্চলের পাঞ্জাব, কাশ্মীর ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের ৮ হাজার ফুট উঁচু পর্যন্ত স্থানে এটিকে লাগানো হয়ে থাকে।

অন্যান্য নাম:

এটিকে হিন্দীতে বলা হয় আলুবালু, পাঞ্জাবীতে গিলাস, ওলচি ; পাশী/ফার্সীতে আলুবালু, আলু-বু-আলি; সংস্কৃতে এলেয়, এলবালু, এলবালুক; ইংরেজীতে cherry tree, Common cherry, Dwarf Cherry, Sour Cherry, Wild Cherry এবং বাংলায় এটি টক চেরীফল/টক চেরী গাছ বলেই গ্রহণীয়। এর বোটানিক্যাল নাম Prunus cerasus Linn., ফ্যামিলী Rosaceae. এটি আবার তিন প্রকারের পাওয়া যায়—(১) cerasus, (২) austera Linn., (৩) marasca vis. প্রথমটির ফল হালকা লাল, তবে কালচে, পরের দুটির রঙ কালচে এবং প্রথমটির গাছ পার্বত্য অঞ্চলে ভালভাবে জন্মে।

Prunus verginiana নামে আর একটি প্রজাতি পাওয়া যায়, এই গাছের ছাল Purni virgineanae cortak নামে বাজারে আসে এবং এলবালুকের ছাল হিসেবে বিক্রী হয়। এই ছাল শুকনো কাসিতে ব্যবহার করা হয়। এই প্রজাতির ফল কিডনীর রোগের ক্ষেত্রে উপযোগী।

টক চেরি-এর গুণাগুণ:

ত্বক বা ছাল: স্বাদে তিক্ত। এটি জ্বরনাশক।

আরো পড়ুন:  হাড়ভাঙ্গা লতা বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মানো ভেষজ প্রজাতি

ফল: বিরেচক, পিত্তনি:সারক, মস্তিষ্কের বলকারক, পাকস্থলীর পক্ষে উপকারী, মুখ ও ফুসফুসের রোগনাশক; তৃষ্ণা, বমি ও হিক্কা নাশক।

বীজ: বিরেচক, রজনিঃসারক, মূত্রকারক, ক্ষতনাশক, জ্বরনাশক, গনোরিয়া, মূত্রকৃচ্ছ্র, পুরাতন ব্রঙ্কাইটিস, খোসপাঁচড়া, মুখক্ষত, যকৃতের রোগ সারাতে প্রভৃতিতে ব্যবহার্য।

শাঁস: মস্তিষ্কের বলকারক। হাইড্রোসায়ানিক এসিড এতে পাওয়া যায়। ইউরোপের নানা দেশে এটি সুগন্ধ দ্রব্য হিসেবে মদ্যব্যবসায়ীরা ব্যবহার করেন।

এর কাঠ খুবই মূল্যবান। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই কাঠ দিয়ে ঘরের নানারকমের মূল্যবান আসবাবপত্র,  কাঠ দিয়ে বাদ্যযন্ত্র এবং পাইপ তৈরী হয়ে থাকে।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৯, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৫, পৃষ্ঠা, ২১৪-২১৬।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Diako1971

Leave a Comment

error: Content is protected !!